গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা (Basic Concepts of Research and Education Research) - শিক্ষায় গবেষণা

 গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা (Basic Concepts of Research and Education Research) - শিক্ষায় গবেষণা

ইউনিট-১: গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা

​(Basic Concepts of Research and Education Research)

​মানব জীবনের উন্নয়নে গবেষণার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। সমাজ ও সভ্যতা ক্রমশ সম্মুখের দিকে ধাবমান। অতীতের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ এবং তার সত্যতা যাচাই করা, বর্তমানকে উদ্‌ঘাটন করা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করা এবং অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র স্থাপন করার জন্য গবেষণার প্রয়োজন। শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের একমাত্র চাবিকাঠি। কাজেই শিক্ষা তথা উন্নতর বৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। দেশ ও জাতির দ্রুত উন্নয়নের জন্য মৌলিক গবেষণা অপরিহার্য। কারণ মৌলিক গবেষণার উপর ভিত্তি করেই অপরাপর গবেষণাগুলো পরিচালনা করতে হয়। গবেষণা ছাড়া কোনো জাতি ও দেশ তাঁর সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারেনি। তাই বিশ্বের সচেতন দেশসমূহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মহাকাশ ইত্যাদি সেক্টরে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।

​এ অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়সমূহ—

  • ​১.১ গবেষণার ধারণা, লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য
  • ​১.২ শিক্ষা গবেষণার ধারণা ও প্রকৃতি
  • ​১.৩ শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
  • ​১.৪ শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ

​১.১: গবেষণার ধারণা, লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য

​(Concepts of Research, goal and features)

​গবেষণার ধারণা

​কৌতূহল মানবমনের এক চিরন্তন প্রবৃত্তি। কৌতূহল সেই আদিম যুগ থেকে অদ্যাবধি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। আর সে কারণেই মানুষ তার পারিপার্শ্বিক জীবন-জগৎ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে এত আগ্রহী। পারিপার্শ্বিক জীবন জগৎ সম্পর্কে কৌতূহলী। মানব মনে যেসব বহুমুখী প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে তার যথাযথ উত্তর লাভের আকাঙ্ক্ষায় গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অবলম্বনে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে লব্ধ তথ্যসমূহকে যাচাই বাছাই করে নতুন জ্ঞান আহরণ করা ও প্রচলিত জ্ঞানের উন্নতি সাধনই গবেষণার কাজ।

​শিক্ষাবিদ মৌলির মতে—পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহপূর্বক সেই তথ্যের বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে যখন কোনো সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় তখন সেই পদ্ধতিকে গবেষণা বলা হয়। শিক্ষাক্রম, শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রণয়ন ও ব্যবহার, পাঠ্যপুস্তক এর বিভিন্ন দিক, শিখন শেখানো পদ্ধতি, শিক্ষা মূল্যায়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহের অসঙ্গতি ও দুর্বলতার দিক অবলম্বনে শিক্ষা গবেষণার কাজ পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা আজকের দ্রুত উন্নয়নশীল বিশ্বে অনস্বীকার্য।

​গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

​গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণে ইতিবাচক বিষয়গুলোকে প্রতিষ্ঠিত করা। গবেষণা ছাড়া সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। নিম্নে গবেষণার কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেওয়া হলো:

  • ​গবেষণার প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো নতুন সত্যের আবিষ্কার, এখন পর্যন্ত যার খোঁজ পাওয়া যায় নাই;
  • ​কোনো ঘটনা বা বিবরণ সম্পর্কে পরিচিতি লাভ;
  • ​দুটো ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক বের করা;
  • ​পুরাতন তত্ত্বের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নতুন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা;
  • ​ব্যাপকভিত্তিক সার্বজনীন গবেষণার মাধ্যমে গবেষণার সাধারণ নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত করা;
  • ​গবেষণার উদ্দেশ্যে গৃহীত সমস্যাটির অনুমিত সিদ্ধান্ত ঠিক আছে কিনা যাচাই করা;
  • ​সংগৃহীত উপাত্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফলাফল ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

​গবেষণার বৈশিষ্ট্য

  • ​গবেষণা সব সময়ই কোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরিচালিত;
  • ​এটা হলো বুদ্ধিদীপ্ত ও পদ্ধতিগত অনুসন্ধান কর্ম;
  • ​গবেষণা কোনো তত্ত্ব বা মূলনীতি বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করে;
  • ​গবেষণা অনুমান, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত;
  • ​গবেষণা তথ্য, উপাত্ত ও বর্ণনা নির্ভর;
  • ​গবেষণার সিদ্ধান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে গৃহীত হয়;
  • ​সংগৃহীত উপাত্ত যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করা হয়;
  • ​গবেষণা কর্মের জন্য সূক্ষ্ম চিন্তন ক্ষমতা ও দক্ষতা প্রয়োজন;
  • ​গবেষণায় অনুমিত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়;
  • ​গবেষণা কার্যক্রমে নিরপেক্ষ, ধীরস্থির ও সাহসী হতে হয়;
  • ​গবেষণায় যৌক্তিক ধারাবাহিকতা প্রয়োজন;
  • ​গবেষণায় সতর্কতার সাথে কাজ করতে হয়।

​১.২ শিক্ষা গবেষণার ধারণা ও প্রকৃতি

​(Concept of Education Research and Nature of Study)

​শিক্ষা গবেষণার ধারণা

​শিক্ষা গবেষণা হলো শিক্ষা সমস্যা সম্পর্কীয় প্রক্রিয়াবদ্ধ ও যুক্তিনিষ্ঠ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করা। শিক্ষা বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য বৈজ্ঞানিক ও নিয়মতান্ত্রিক অনুসন্ধানই হলো শিক্ষা গবেষণা। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে বিরাজমান কোনো সমস্যার প্রয়োজনীয় সমাধান লাভের জন্য ব্যবহৃত গবেষণাও শিক্ষা গবেষণা। অতীতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা করা হতো না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ধারণা ও কর্তৃপক্ষের প্রণীত নিয়মাবলিই ছিল সমস্যা সমাধানের একমাত্র হাতিয়ার। পরিবর্তিত দ্বন্দ্বপূর্ণ সামাজিক ব্যবস্থায় শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষা গবেষণা করা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজিত সমস্যাসমূহ সমাধান করার প্রক্রিয়াকে শিক্ষা গবেষণা বলা হয়।

​শিক্ষা গবেষণার প্রকৃতি

  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পথ নির্দেশনা দিয়ে থাকে;
  • ​সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দ্বারা পরিচালিত হয়;
  • ​শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন তথ্য, প্রত্যয় ও কৌশল নির্ধারণের জন্য শিক্ষা গবেষণা পরিচালিত হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা পুনঃ অনুসন্ধান ও পুনঃ যাচাইযোগ্য;
  • ​শিক্ষা গবেষণা ব্যক্তিস্বার্থে নয় বরং জনস্বার্থে পরিচালিত ও ব্যবহৃত হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয়;
  • ​প্রচলিত জ্ঞানের সাথে শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন জ্ঞানের সংযোজন ঘটায়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্য নির্ভর;
  • ​শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা তত্ত্বের সাধারণীকরণে বিশ্বাসী;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য গঠন ও ভ্রান্ত তত্ত্ব বা তথ্য অপসারণে নিবেদিত;
  • ​বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষণার প্রতিটি বিষয়ই সচেতনভাবে ও যত্ন সহকারে রেকর্ড করা হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানবকল্যাণে অবদান রাখে।

​১.৩ শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

​শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য

  • ​শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান, তত্ত্ব ও সূত্র সৃষ্টি করা;
  • ​সমসাময়িক শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা;
  • ​শিক্ষাসংক্রান্ত আচরণীয় বিজ্ঞানের উন্নয়ন করা;
  • ​অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানের শিক্ষামূলক সমস্যাসমূহ সমাধান করা;
  • ​জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পন্থা উদ্ভাবন করা;
  • ​শিক্ষার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ধারণা প্রস্তুত করা;
  • ​শিক্ষকের শিখন শেখানোর মান উন্নয়নে সাহায্য করা;
  • ​বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার উপর ঐতিহাসিক, সামাজিক, দার্শনিক, মনোবৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক যে প্রভাব রয়েছে তা বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিক্ষার সঠিক তত্ত্বের উদ্ভাবন করা;
  • ​ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কুসংস্কার ও অজ্ঞতা থেকে বের করে নিয়ে আসা;
  • ​শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচলিত সূত্র, তত্ত্ব ও জ্ঞানকে পুনঃমূল্যায়ন করা;
  • ​শিক্ষা সম্পর্কিত পরিস্থিতি ও সমস্যাসমূহ আলোচনা করা;
  • ​জাতীয় শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা;
  • ​বিভিন্ন স্তরে মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন করা।

​শিক্ষা গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

​সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তার সত্যতা যাচাই করা, বর্তমানকে উদ্‌ঘাটন করা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করা, অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র স্থাপন করার জন্য শিক্ষা গবেষণার প্রয়োজন। শিক্ষা গবেষণার মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি ও সমাজ ব্যবস্থায় ইতিবাচক কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধন করা যায়। নিম্নে শিক্ষা গবেষণার কিছু গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:

  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিকার ও উন্নয়নমূলক লাগসই বিভিন্ন বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে;
  • ​গবেষণালব্ধ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সুপরিকল্পিত উপায়ে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা দেশে বিরাজমান বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান দান করে। তাই শিক্ষার সমস্যা নির্ণয় ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম;
  • ​শিক্ষা উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত নীতি, কর্মসূচি পরিকল্পনা, প্রকল্প ইত্যাদি প্রণয়নে সাহায্য করে থাকে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা অনুকূল জাতীয় জনমত গঠনের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে গণজনমত গঠনে সহায়তা করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতীয় অবস্থান, নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতার মাত্রা নির্ধারণ করে এবং প্রচলিত জাতীয় সেবাদান ব্যবস্থা ও কলাকৌশলগুলোকে অধিকতর উপযোগী করে তোলে;
  • ​শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুনত্বের উদ্ভাবন ও সংযোজন, যুগোপযোগী সিদ্ধান্তগ্রহণ, নতুন প্রযুক্তিগত শিক্ষা উদ্ভাবন, শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির বহুমাত্রিক ব্যবহার ও শিক্ষা উপকরণ উদ্ভাবন ইত্যাদি সম্পাদনে সহায়তা করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিখন শেখানো প্রক্রিয়া মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

​১.৪ শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ

​শিক্ষাব্যবস্থা কোনো একটি সংক্ষিপ্ত পরিসরে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ এর পরিসর ও পরিধি এত ব্যাপক যে কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে কাজ পরিচালনা করা হয়। সুতরাং শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহকে তার ব্যাপকতার নিরিখে পরিচালনা করতে হয়। নিম্নে কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো—

  • ​শিক্ষার্থীর আচরণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণা যথা: শিক্ষার্থীর আগ্রহ, মনোযোগ, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি;
  • ​শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি;
  • ​পাঠ্যপুস্তকের মান উন্নয়ন;
  • ​শিখন শেখানো পদ্ধতি;
  • ​শিক্ষার্থী মূল্যায়ন;
  • ​পরীক্ষা পদ্ধতির মান উন্নয়ন;
  • ​শিক্ষকের মান উন্নয়ন;
  • ​শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;
  • ​বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে শিক্ষাদান পন্থা উদ্ভাবন করা;
  • ​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ এর কারণ উদঘাটন ও এর মূল উৎপাটনের উপায় বের করা;
  • ​শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয়;
  • ​প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ ও সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;
  • ​শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়;
  • ​শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার প্রয়োগে বাধাসমূহ ও চাকরিতে অসন্তুষ্টি।

​নমুনা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

​১. গবেষণা কী?

২. শিক্ষা গবেষণা কী?

৩. গবেষণার ৫টি বৈশিষ্ট্য লিখুন।

৪. শিক্ষা গবেষণার ৫টি উদ্দেশ্য লিখুন।

৫. শিক্ষা গবেষণার ৫টি ক্ষেত্র উল্লেখ করুন।

​নমুনা রচনামূলক প্রশ্ন

​১. গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো লিখুন।

২. গবেষণার বৈশিষ্ট্যগুলো লিখুন।

৩. শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।

Catagories