গবেষণার শ্রেণিবিভাগ (Types of Research)

 পাঠ্যবইয়ের **ইউনিট-২: গবেষণার শ্রেণিবিভাগ (Types of Research)**-এর সম্পূর্ণ লেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

# ইউনিট ২: গবেষণার শ্রেণিবিভাগ

**(Types of Research)**

একটা কথা সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে গবেষণার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে গবেষণাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। অন্যান্য যে কোনো প্রচলিত ও জনপ্রিয় বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রের ন্যায় শিক্ষা গবেষণাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: **মৌলিক (fundamental) গবেষণা** এবং **ফলিত (applied) গবেষণা**। মৌলিক গবেষণা প্রধানত কোনো তত্ত্বীয় ধারণা উদ্ভাবনের লক্ষ্যে পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে তত্ত্ব উদ্ভাবন, প্রসার ও বিস্তৃতি ঘটানো সম্ভব। মৌলিক গবেষণা অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কোনো নতুন সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে পরিচালনা করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণার চেয়ে ফলিত গবেষণাই বেশি প্রচলিত। যেখানে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, যেখানে প্রচলিত ব্যবস্থা ও কৌশলের চেয়ে নতুনভাবে পরীক্ষিত কৌশল বেশি উপযোগী হতে পারে বলে মনে করা হয় সেসকল ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বা ফলিত শিক্ষা গবেষণা নিয়ে কাজ করা হয়। আবার মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন তত্ত্ব বা পরিবর্তিত তত্ত্ব প্রয়োগের মাধ্যমেও ফলিত বা ব্যবহারিক গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

উন্নতবিশ্ব মৌলিক এবং ফলিত দুই প্রকারের গবেষণাই পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশসমূহে মূলত নিজস্ব সমস্যাভিত্তিক ফলিত গবেষণা পরিচালনা করা হয়। প্রত্যেক উন্নয়নশীল দেশ তার নিজস্ব আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক উন্নয়নকল্পে জরুরি ভিত্তিতে ফলিত শিক্ষা গবেষণা পরিচালনার উপর গুরুত্বারোপ করে থাকে।

মৌলিক ও ফলিত গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা গবেষণাকে আরও বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

 * ক) ঐতিহাসিক গবেষণা

 * খ) বর্ণনামূলক গবেষণা

 * গ) পরীক্ষামূলক গবেষণা

 * ঘ) পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা

 * ঙ) জরিপ গবেষণা

 * চ) কেস স্টাডি বা ঘটনা অনুধ্যান

 * ছ) কর্মসহায়ক গবেষণা

গবেষণার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গভীরতা, বিস্তৃতি, সুযোগ, সময়, বিশ্লেষণের মাত্রা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় বিবেচনাপূর্বক গবেষণার বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে। এই ইউনিটে মূলত শ্রেণিবিভাগের মানদণ্ড বাদ দিয়ে বহুল প্রচলিত গবেষণার কিছু ধারা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

### ২.১ ঐতিহাসিক গবেষণা (Historical Research)

ঐতিহাসিক গবেষণা সাম্প্রতিক, অতীতকালের কিংবা দূরবর্তী অতীতকালের কোনো ঘটনার বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন। এটা একপ্রকার গুণগত গবেষণা যেখানে গবেষক অতীতের কোনো ঘটনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উপসংহারে উপনীত হন এবং ভবিষ্যতের ঘটনাবলির ক্ষেত্রে অনুমান/ভবিষ্যৎবাণী করেন। ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষক বিভিন্ন উৎস থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এখানে উপাত্তের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিশ্বস্ততা বা বৈধতা খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। যেমন- তথ্য-উপাত্ত যে সময়ের বলে দাবী করা হচ্ছে আসলেই সেই সময়ের কিনা, যে লেখক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছেন প্রকৃতপক্ষে তিনি বিশ্বাসযোগ্য কিনা অথবা ঐ বিষয়ের তথ্য সরবরাহের জন্য উপযুক্ত উৎস কিনা; কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার দলিল আসলেই সেই সময়ে লিপিবদ্ধ হয়েছিল কিনা অথবা ঘটনা ঘটার কত সময় পরে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে— এমন অনেকগুলো বিষয় গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য উপাত্ত ঐতিহাসিক গবেষণায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হয়।

ঐতিহাসিক গবেষণা অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে এবং একটা ধারাবাহিক পথরেখা অঙ্কন করতে সাহায্য করে। ফলে আমরা কোন দিক থেকে এসেছি এবং কোন দিকে যাচ্ছি তা বুঝতে সুবিধা হয়। এমনকি অতীতের কোনো ঘটনা বা বিষয় সমাধানের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়।

ঐতিহাসিক গবেষণা একটা ধারাবাহিক এবং পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া যেখানে কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো নিম্নরূপ:

 * ক) গবেষণার বিষয় নির্ধারণ এবং গবেষণা সমস্যার বিবরণ বা গবেষণা প্রশ্ন প্রস্তুতকরণ

 * খ) সংশ্লিষ্ট গবেষণাকর্মের পর্যালোচনা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ

 * গ) উপকরণ মূল্যায়ন

 * ঘ) উপাত্ত সংশ্লেষণ

 * ঙ) প্রতিবেদন তৈরি করা

বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গবেষণা একজন সমাজ গবেষককে ঘটনা বিশ্লেষণের উত্তম প্রেক্ষাপট সরবরাহ করে। ঐতিহাসিক গবেষণার সুবিধার পাশাপাশি কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। উদাহরণ: পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ উদঘাটন এবং তা থেকে শিক্ষণীয়।

#### সুবিধাসমূহ

 * ঐতিহাসিক ঘটনাক্রমের একটা সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা যায়।

 * বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহৃত হয়।

 * চলমান ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে প্রমাণ সরবরাহ করে।

#### সীমাবদ্ধতাসমূহ

 * ঐতিহাসিক গবেষণা সময় সাপেক্ষ।

 * সঠিক তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পাওয়া কষ্টকর।

 * তথ্য-উপাত্ত অনেক সময় সাংঘর্ষিক হয়ে থাকে।

 * অনেক সময় সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যায় না।

 * তথ্য-উপাত্ত অসম্পূর্ণ, অসংলগ্ন, অপ্রয়োজনীয় কিংবা ভুল হতে পারে।

 * বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তের মধ্যেই উপাত্তের উৎস সীমিত।

### ২.২: বর্ণনামূলক গবেষণা (Descriptive Research)

বর্ণনামূলক গবেষণা বলতে এমন গবেষণাকে বোঝায় যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে সঠিক চিত্র প্রদান করে। এটাকে পরিসংখ্যানিক গবেষণাও বলা হয়। বর্ণনামূলক গবেষণায় মূলত নির্ধারিত ঘটনা বা জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়ে থাকে। সাধারণত এটা 'কী' প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে চেষ্টা করে, "কেমন করে, কেন, কীভাবে"— এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এই গবেষণায় 'কী' প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা হয়। সুতরাং জরিপ এবং পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ধরনের গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

বর্ণনামূলক গবেষণার উদ্দেশ্য হলো কোনো কিছুর অর্থ খুঁজে বের করা, যা কিছু বিদ্যমান তা বর্ণনা করা, কোনো ঘটনা ঘটার হার নির্ণয় করা এবং তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস করা। বলতে গেলে, বর্ণনামূলক গবেষণা কাজ করে সেসব বিষয় নিয়ে যা গণনাযোগ্য এবং অধ্যয়নযোগ্য। বর্ণনামূলক গবেষণা গুণগত গবেষণাও হতে পারে। আবার পরিমাণগত গবেষণাও হতে পারে। এটা সংখ্যাবাচক তথ্য-উপাত্তকে ছকে সাজিয়ে উপস্থাপন করতে পারে, আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির তথ্যসমূহকে বর্ণনা করতে পারে। এই গবেষণায় কোনো ঘটনা বা বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা সাজানো, বিশ্লেষণ, লিপিবদ্ধ এবং বর্ণনা করা হয়। তথ্য-উপাত্ত পাঠক যেন সহজে বুঝতে পারে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের চার্ট এবং গ্রাফ সন্নিবেশ করা হয় (গ্লাস এবং হপকিনস, ১৯৮৪)।

**উদাহরণ:**

একটা এলাকার শিশুদের সচরাচর যে রোগটি ঘন ঘন হয় তা খুঁজে বের করা। এই ধরনের গবেষণার মাধ্যমে তাহা নির্ণয় করা সম্ভব। রোগটি প্রতিরোধ করতে কী কী করণীয়, যার ফলে মানুষ সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবে।

#### সুবিধা:

 * এই গবেষণায় তথ্যদাতারা গবেষণার ব্যাপারে অসচেতন থাকে ফলে তারা দৈনন্দিন জীবনের মতো স্বাভাবিক আচরণ করে।

 * ঐতিহাসিক গবেষণার তুলনায় এই গবেষণা স্বল্পব্যয়ী এবং সময় সাশ্রয়ী।

 * বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার জন্য খুঁটিনাটি টীকা সংগ্রহ করা হয়।

 * এ গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু বর্ণনা করা এবং কোনো উপসংহারে উপনীত হওয়া নয়।

#### অসুবিধা:

 * বর্ণনামূলক গবেষণায় গবেষককে অনেক বেশি দক্ষ হতে হয়।

 * কোনো ঘটনার পিছনের কারণ অনুসন্ধান করা হয় না।

 * এই গবেষণায় তথ্যদাতাদের উত্তর দেওয়ার হার খুবই কম।

 * এই গবেষণার ফলাফল সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল।

### ২.৩: পরীক্ষামূলক গবেষণা (Experimental Research)

পরীক্ষামূলক গবেষণা মূলত কার্যকারণ অনুসন্ধান এবং একাধিক চলকের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এই গবেষণায় কোনো ঘটনা বা বিষয়ের 'কারণ' এবং 'প্রভাব' সম্পর্কগুলো পরীক্ষা করে। একটি পরিবর্তনশীল চলক এবং অন্য চলকগুলোর মধ্যে সম্পর্ক অধ্যয়ন করার জন্য এই ধরনের গবেষণা ব্যবহৃত হয়। এ বহুল প্রচলিত গবেষণা মূলত পরিমাণগত গবেষণার একটি প্রকারভেদ। দুই বা ততোধিক চলকের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণে বা তুলনা করার ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক গবেষণা ব্যবহার করে। এই গবেষণায় একটি চলক অন্য চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে কিনা তা দেখা হয়। পরীক্ষামূলক গবেষণায় কতকগুলো অনুমিত সিদ্ধান্ত বা হাইপোথিসিস-এর উত্তর খোঁজা হয়। একটি হাইপোথিসিস বা অনুমিত সিদ্ধান্ত হলো একটি পরীক্ষণযোগ্য বা যাচাইযোগ্য বিবৃতি যা একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে গবেষককে সাহায্য করে। পরবর্তীতে গবেষক ঐ অনুমিত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষামূলক গবেষণার নকশা করে যা হাইপোথিসিসকে সমর্থন বা বিরোধিতা করে।

পরীক্ষামূলক গবেষণা ভালোমতো বোঝার জন্য এই গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু টার্ম বা পরিভাষা বোঝা খুব জরুরি। মূলত **স্বাধীন চলক (independent variable)**, **অধীন চলক (dependent variable)**, **পরীক্ষামূলক দল (experimental group)** এবং **নিয়ন্ত্রিত দল (control group)**— এই চারটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

 * **স্বাধীন চলক (Independent Variable):** এটি গবেষক কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তনশীল চলক, যা "কারণ" বা ট্রিটমেন্ট চলক হিসেবে পরিচিত। এটা কোনো বৈশিষ্ট্য বা কোনো আচরণও হতে পারে যেটা কোনো কিছুকে প্রভাবিত করে বলে গবেষক মনে করেন। যেমন- কোনো গবেষণায় শিশুদের বয়সের সাথে শারীরিক বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা হবে। তাহলে শিশুদের বয়স এখানে স্বাধীন চলক ধরে নেওয়া যায়, যার উপর তাদের শারীরিক বৃদ্ধি নির্ভরশীল।

 * **অধীন চলক (Dependent Variable):** এই চলকটি স্বাধীন চলকের প্রভাব বা ফলাফল, যা স্বাধীন চলকের উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো ফলাফলটি পরিমাপযোগ্য হতে হবে। উপরের গবেষণায় শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এক্ষেত্রে অধীন চলক।

 * **পরীক্ষামূলক দল (Experimental Group):** গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দলটির উপর স্বাধীন চলকের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা হয়। অর্থাৎ যে দলের উপর ট্রিটমেন্ট চলকের প্রভাব দেখা হয় সেটাই পরীক্ষামূলক দল।

 * **নিয়ন্ত্রিত দল (Control Group):** নিয়ন্ত্রিত দল হলো সেটাই যার উপর কোনো ট্রিটমেন্ট প্রয়োগ করা হয় না কিন্তু তাকেও গবেষণার ঐ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরীক্ষার আওতায় রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এই নিয়ন্ত্রিত দল থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং পরীক্ষামূলক দলের ফলাফলের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়।

**উদাহরণ:**

ধরা যাক, একজন গবেষক বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি ক্লাসে "বাংলাদেশ এবং গ্লোবাল স্টাডিস" বিষয় পাঠদানের ক্ষেত্রে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' এর প্রভাব যাচাই করতে চান। এক্ষেত্রে হাইপোথিসিস বা অনুমিত সিদ্ধান্ত হলো 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' পদ্ধতিতে পাঠ পরিচালনা করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করবে। এক্ষেত্রে গবেষক শুরুতেই এই কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমযোগ্যতাসম্পন্ন দুটি পৃথক দলে ভাগ করে নিবেন। যেখানে প্রথম সেকশনে গতানুগতিক পদ্ধতিতে (যেভাবে এতদিন পড়ানো হতো) পাঠদান করা হবে, অন্যদিকে অন্য সেকশনে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' পাঠদান কৌশল ব্যবহার করে একই বিষয় পাঠদান করা হবে। উভয় সেকশনেই পাঠের উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু একই হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অন্তর একই প্রশ্নপত্রে দুই সেকশনে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য এই দুই দলের ফলাফল তুলনা করা হবে। এখানে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' কৌশল স্বাধীন চলক এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল অধীন চলক। আর যে সেকশনে ফ্লিপড ক্লাসরুম কৌশল ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়েছে সেটা পরীক্ষামূলক দল, আর যে সেকশনে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়েছে সেটা নিয়ন্ত্রিত দল। এটি পরীক্ষামূলক গবেষণা নকশা ব্যবহারের একটি চমৎকার উদাহরণ।

#### সুবিধা:

 * বিভিন্ন চলকের মধ্যে কারণ এবং ফলাফলের সম্পর্ক নির্ধারণে পরীক্ষামূলক গবেষণা খুবই কার্যকরী।

 * এই গবেষণায় চলকের উপর গবেষকের নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং অন্যান্য চলকের প্রভাব বাদ দেওয়া বা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

 * পরীক্ষামূলক গবেষণায় গবেষণার পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ দল এবং অন্যান্য চলকের উপর গবেষকের নিয়ন্ত্রণ থাকে ফলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

 * এই গবেষণায় একই শর্ত মেনে একইভাবে গবেষণার পুনরাবৃত্তি করে ফলাফল পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ থাকে, ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি হয়।

#### অসুবিধা:

 * সকল ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক গবেষণা করা যায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবতার বিবেচনায় কিংবা নৈতিক বিবেচনায় গবেষণা করা যায়।

 * পরীক্ষামূলক গবেষণার বিরুদ্ধে আরেকটা অভিযোগ হলো এটা কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে গবেষণা চালিয়ে থাকে, যা অনেক সময় বাস্তবতা বিবর্জিত।

 * মানুষ মাত্রই ভুল করে— তাই এই ধরনের গবেষণায়ও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 * স্বাধীন চলকের উপর গবেষকের নিজস্ব প্রভাব পড়ে ফলে স্বাধীন চলক স্বাধীনতা হারায়, এতে গবেষণার ফলাফল পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে।

 * পরীক্ষামূলক গবেষণার ফলাফল সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে না, ফলে সাধারণীকরণ করা যায়না।

 * পরীক্ষামূলক গবেষণার ক্ষেত্র অনেক বড় হলে (যেমন- হাসপাতাল, স্কুল ইত্যাদি) বহিরাগত চলক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, ফলে সঠিক কার্যকারণ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

### ২.৪: পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা

**(Quantitative, Qualitative and Mixed Methods in Education Research)**

সাধারণত শিক্ষা ক্ষেত্রে তিন ধরনের গবেষণা প্রচলিত যথা: পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা।

#### ২.৪.১: পরিমাণবাচক গবেষণা (Quantitative Research)

পরিমাণবাচক গবেষণায় সংখ্যাগত বা পরিমাণবাচক উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করা হয়। এই গবেষণায় সংখ্যাগত পরিসংখ্যানের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল নির্ধারিত হয়। পরিমাণবাচক উপাত্ত হলো বিভিন্ন সংখ্যা এবং পরিসংখ্যান। এখানে সুবিধা হলো যে অনেক বেশি তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করা যায়। উত্তম গবেষণা নকশার মাধ্যমে গবেষণা করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা সমগ্র তথ্যবিশ্বের জন্য সাধারণীকরণ করা যায়। এই গবেষণায় অবশ্য একটা ত্রুটি আছে সেটা হলো গবেষণার গভীরতা। এখানে গভীরতার অভাব হতে পারে (যেমন- এই গবেষণায় ঘটনার পিছনের কারণ অনুসন্ধান, প্রেক্ষাপট, আবেগ বা অনুভূতি বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে না)। এই গবেষণায় সঠিকভাবে উপাত্ত বিশ্লেষণের জন্য গবেষককে গাণিতিক এবং পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে হবে।

পরিমাণবাচক গবেষণায় অনুমিত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করতে এবং আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করার লক্ষ্যে সংখ্যাবাচক উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয় এবং চিত্রের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়। গবেষক সংখ্যার ব্যবহার করে উন্নত এবং শক্তিশালী পরিসংখ্যান ব্যবহার করেন, যাতে ফলাফলের একটি পরিসংখ্যানগত ভিত্তি থাকে। এটি শুধু যেন একটি অনুমানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ না হয়। পরিমাণবাচক গবেষণায় সবার আগে গবেষক কী পরিমাপ করছেন তা উল্লেখ করতে হয়। গবেষক যা খুঁজছেন তা উল্লেখ করলে তাঁর মনোযোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক জিনিসে নিমগ্ন থাকে।

##### পরিমাণবাচক গবেষণার সুবিধা (Advantages of Quantitative Research)

 * সংখ্যাবাচক উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় বলে সহজেই অধিকসংখ্যক নমুনার কাছ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়।

 * উপাত্ত বিশ্লেষণের সময় পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় ফলাফলের নৈর্ব্যক্তিকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং গবেষণার ফলাফলের উপর গবেষকের কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব থাকে না।

 * সংখ্যাগত ফলাফল গ্রাফ, চার্ট, টেবিল এবং অন্যান্য ফরমেটে সুন্দরভাবে এবং সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়।

 * উপাত্ত বিশ্লেষণে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান সফটওয়্যার ব্যবহার করেই করা যায়।

 * দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনায়ন করা হয় এবং নমুনার আকারও প্রতিনিধিত্বমূলক হয় ফলে গবেষণার ফলাফল সাধারণীকরণ বা সার্বজনীন করা যায়।

 * উপাত্ত সংগ্রহের কাজ তুলনামূলক দ্রুত করা যায়, যদিও এটা উপাত্তের ধরনের উপর নির্ভর করে।

 * তাছাড়া পরিমাণবাচক তথ্য নীতিনির্ধারক, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং প্রশাসকদের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য হয়।

##### অসুবিধা (Disadvantages of Quantitative Research)

 * পরিমাণবাচক গবেষণার মূল অসুবিধা হলো এই গবেষণায় প্রেক্ষাপট উপেক্ষিত হয়।

 * সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য অধিক সংখ্যক নমুনার কাছ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়।

 * বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিমাণবাচক গবেষণা 'কেন' প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।

#### ২.৪.২: গুণবাচক গবেষণা (Qualitative Research)

গুণবাচক গবেষণা কোনো বিষয়ের ধরন এবং মান নিয়ে আলোচনা করে, অন্যদিকে কোনো ঘটনাকে এমনভাবে তুলে ধরে যেন সহজে বোধগম্য হয়। বর্ণনামূলক বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে গুণবাচক গবেষণায় গবেষক বিষয়টাকে এমনভাবে চিত্রায়ন করার চেষ্টা করেন যেন তিনি যেটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা সবাই দেখতে পান। গুণবাচক গবেষণার রীতি অনুসারে পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ কম। এ গবেষণায় অধ্যয়নের জন্য খুব অল্প নমুনা নেওয়া হয়, ক্ষেত্র বিশেষে একজনও নমুনা হতে পারে। ফলে গবেষণার ফলাফল সার্বজনীন হয় না। গুণবাচক গবেষণা গবেষকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং কোনো অবস্থার বর্ণনার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে গবেষকের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি একেবারে অগ্রাহ্য করা যায়না। গুণবাচক উপাত্ত বলতে শব্দ, মতামত, চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি এবং আচরণকে বুঝায়। সুবিধা হলো এই যে যে কোনো ঘটনা, মানুষ কিংবা দল সম্পর্কে প্রচুর পরিমাণে খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া যায়।

গুণবাচক গবেষণা অপরিমাণবাচক বিশ্লেষণকে উপস্থাপন করে। গুণবাচক গবেষণা হলো মানুষ যা করে এবং বলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রাপ্ত উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করার প্রক্রিয়া। গুণবাচক গবেষণা হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার অর্থ, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রতীক এবং বর্ণনা। এই ধরনের গবেষণা ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় (প্রধানত সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ এবং ফোকাস দলীয় আলোচনা)। এই গবেষণার প্রকৃতি অনেকটা অনুসন্ধানমূলক এবং উন্মুক্ত। অল্প কিছু সংখ্যক নমুনার কাছ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সরাসরি পর্যবেক্ষণ কিংবা ফোকাস দলীয় আলোচনার মাধ্যমে অনেক বেশি তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

গুণবাচক গবেষণা এমনসব বিষয় এবং ঘটনা নিয়ে গবেষণা করে যেগুলো গাণিতিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা খুবই দুঃসাধ্য কাজ, যেমন- মানুষের বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, অভিপ্রায়, লক্ষণ এবং প্রতীক। গুণবাচক গবেষণা মূলত মানুষের আচরণকে খুব গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করে এবং তার পিছনের কারণ অনুসন্ধান করে। মূলত কোনো ঘটনা কোথায় ঘটলো সেটাই শুধু নয় বরং কেন ঘটলো, কিভাবে ঘটলো সেটাও এই গবেষণা খুঁজে বের করে।

##### সুবিধা:

 * এই গবেষণা মানুষের অনেক জটিল বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করে।

 * তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা বিধিনিষেধ খুব কম।

 * সব কিছু সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায়না। গুণবাচক গবেষণার মাধ্যমে কিছু বিষয়কে আরো গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ থাকে।

 * অনুসন্ধানী গবেষণা এবং অনুমিত সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য এই গবেষণা সাহায্য করে।

 * গবেষণায় অংশগ্রহণকারী তথ্যদাতা নিজের মতো করে তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

##### অসুবিধা:

 * গুণবাচক গবেষণার বৈধতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করা তুলনামূলক কঠিন কাজ।

 * উপাত্ত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব অনেক বেশি।

 * অনেক সময় উপাত্ত অনেক বেশি হয়ে যায় ফলে উপাত্ত বিশ্লেষণে অনেক সময় লেগে যায়।

 * গুণবাচক গবেষণায় সময় বেশি লাগে।

##### গুণবাচক গবেষণা বনাম পরিমাণবাচক গবেষণা:

গুণবাচক গবেষণা হচ্ছে যেখানে কোনো কিছুর গুণকে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে পরিমাণবাচক গবেষণার ভিত্তি হচ্ছে সংখ্যাবাচক পর্যালোচনা। অর্থাৎ সংখ্যাবাচক পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো ঘটনা বা বিষয়কে ব্যাখ্যা করা। যা কিনা গুণবাচক গবেষণায় গুণকে পর্যালোচনা করে। অনেকে গুণবাচক গবেষণা এবং পরিমাণবাচক গবেষণা নিয়ে বিতর্ক করে থাকেন, কোনোটা বেশি কার্যকরী এটা নিয়ে হরহামেশা তর্ক করেন। কিন্তু কোনোটা কার্যকরী কিংবা সুবিধাজনক সেটা নির্ভর করবে আপনার গবেষণার বিষয়, উদ্দেশ্য, নমুনা ইত্যাদি বিষয়য়ের উপর। যেমন- কোনো একজনকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, "বলুন দেখি হাতুড়ি বেশি ভালো হবে নাকি কোদাল বেশি ভালো হবে?"। কী জবাব দেবেন তিনি? তিনি সবার আগে যেটা জানতে চাইবেন সেটা হলো "আপনি কী কাজ করবেন?"। অর্থাৎ আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে কোনো যন্ত্রটি আপনার জন্য ব্যবহার করা ভালো হবে। একইভাবে আপনার গবেষণার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করবে গুণবাচক পদ্ধতি নাকি পরিমাণবাচক পদ্ধতি অনুসরণ করা ভালো হবে। তবে গুণবাচক গবেষণা গবেষকের দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। পরিমাণবাচক গবেষণা ডকুমেন্ট বা রেকর্ড এর উপর নির্ভরশীল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক।

#### ২.৪.৩: মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা (Mixed Method Research)

মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা হলো এক ধরনের গবেষণা যেখানে গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক পদ্ধতি ও কৌশল কিংবা অন্য কোনো ধরনের পদ্ধতি-কৌশল একসাথে ব্যবহার করা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে যে গবেষণায় একইসাথে গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক গবেষণা পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করা হয় তাকে মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা বলা হয়। এই গবেষণায় গুণবাচক গবেষণা এবং পরিমাণবাচক গবেষণা বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন- কোনো গবেষণার এক ধাপে পরিমাণবাচক গবেষণা এবং অন্য ধাপে গুণবাচক গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একই প্রশ্নপত্রে কিছু বহুনির্বাচনি প্রশ্ন এবং কিছু মুক্ত প্রশ্ন সরবরাহ করা যায়, যা পরবর্তীতে কোনো বিষয় বা ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি সেই ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে সহায়ক হবে। আবার অনেক সময় গবেষক গুণবাচক তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলোকে পরিমাণবাচক তথ্যে রূপান্তর করতে পারে।

মূলত এই গবেষণায় উভয় ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে গবেষণার উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেইসাথে বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার ফলে তথ্যসমূহ ক্রস চেক করা সম্ভব হয় যা গবেষণার ফলাফলের যথার্থতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। তবে মনে রাখা ভালো যে, সব গবেষণায় মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করার দরকার নেই কিংবা এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই যে গবেষণাটি ভালো হবে এমন মনে করার কারণ নেই। বরং যেখানে প্রয়োজন সেখানে মিশ্র পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। মিশ্র পদ্ধতির গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ এবং গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার কাজের মধ্যে যথাযথ সামঞ্জস্যবিধান করা জরুরি যেন একটা প্রেক্ষাপট উঠে আসে। তবে গবেষককে খেয়াল রাখতে হবে যেন এক ধরনের উপাত্ত আরেক ধরনের উপাত্তের (গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক উপাত্ত) সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে, কোনোভাবে যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।

### ২.৫: জরিপ গবেষণা (Survey Research)

জরিপ গবেষণার নমুনা আজকাল দৈনিক পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাই। কোনো দেশের সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের জনপ্রিয়তা, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা কিংবা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা নতুন কোনো পণ্যের ব্যবসায়িক সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ে জনমত জরিপ করে থাকে। সাধারণভাবে জরিপ কথাটি শুনলেই জনসংখ্যা জরিপ (আদমশুমারি) এবং ভূমি জরিপের কথা মনে আসে।

সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত গবেষণার মধ্যে জরিপ গবেষণা অন্যতম। আজকাল দ্রুত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় উপকৃত জনসংখ্যা ও তার হার নির্ধারণের প্রয়োজনে, কোনো সামাজিক সমস্যার ব্যাপকতা ও ধরন নির্ধারণে, কোনো কিছুর গ্রহণযোগ্যতা বা ব্যবহারের ব্যাপকতা নির্ধারণে, মতামত যাচাইয়ের জন্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নীতি নির্ধারণে কোনো নীতিমালার সাফল্য এবং ব্যর্থতা যাচাইয়ে জরিপ গবেষণা করা হয়। বস্তুত শুধু উপর্যুক্ত ক্ষেত্রেই নয়, আরও অসংখ্য নতুন নতুন ক্ষেত্রে জরিপ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

জরিপ গবেষণা পরিচালনা করতে কখনও একটি গ্রাম, একগুচ্ছ গ্রাম কিংবা কয়েকটি উপজেলা থেকে নমুনা নেওয়া হয় অথবা কখনও জাতীয় নমুনা জরিপ (national sample survey) পরিচালনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর জরিপ চালানো যেতে পারে। এতে প্রতি পাঁচ বছরে কী হারে লোকেরা ভূমিহীন হচ্ছে, জমি কি ধনীদের হাত থেকে দরিদ্রদের হাতে যাচ্ছে না তার উল্টো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, বর্গাদারীর ক্ষেত্রে কি ঘটছে, জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি পরিবর্তন আসছে ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় জানা যায়।

জরিপ গবেষণায় গবেষক প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য এবং বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে বর্ণনা করার জন্য এ পদ্ধতির ব্যবহার করে থাকে। এখানে সতর্কভাবে সম্ভাবনা নমুনার মাধ্যমে কাজ করা হয়। এই সম্ভাবনা নতুন একক বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে প্রকাশ করে বা প্রতিনিধিত্ব করে এবং এখানে মানসম্মত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সতর্কভাবে একই কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে সকল উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপ পদ্ধতি সাধারণত বর্তমান বিদ্যমান সমাজের কোনো সমস্যা নিয়ে করা হয়। কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপর গবেষণা করার জন্য জরিপ পদ্ধতি নির্বাচন করা সঠিক। জরিপ গবেষণায় কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সর্বপ্রথমে জরিপ কাজটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয়। এরপর লক্ষ্যদল নির্ধারণ করতে হয়। লক্ষ্যদলের পরের ধাপে কোনো প্রতিনিধিত্বশীল অংশ নমুনা হিসেবে চিহ্নিত করা আবশ্যক তা নির্ধারণ করতে হয়। অতঃপর প্রশ্নমালার মাধ্যমে গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করতে চাইলে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রশ্নমালা প্রস্তুত করতে হয়। তারপর যারা প্রশ্নামালাটি মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করবেন সেইসব মাঠ কর্মীদের নির্বাচন কাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হয়। জরিপ গবেষণায় প্রশ্নমালা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং প্রশ্নমালা তৈরি করার সময় নিম্নোক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

 * উত্তরদাতার কাছে যে সমস্ত শব্দ অপরিচিত মনে হতে পারে সেগুলো ব্যবহার না করা

 * নেতিবাচক শব্দ বা ধারণা উপস্থাপন না করা

 * একই প্রশ্নে অত্যধিক তথ্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার না করা

 * মানবাচক শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলা

 * 'একইরকম' কিংবা 'আগের মতো' জাতীয় উত্তর আসতে পারে এমন প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত না করা

 * পরামর্শ বা উপদেশমূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত না করা

 * উত্তরদাতাকে মাথা খাটাতে হবে কিংবা মুখস্থ উত্তর দিতে হবে এমন কোনো প্রশ্ন না করা

 * প্রশ্ন সবসময় ছোট, সহজবোধ্য এবং মূর্ত হওয়া উচিৎ

**উদাহরণ:**

বাংলাদেশের ঢাকা শহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর একটা জরিপ করা হয়। দেখা যায় গড়ে প্রত্যেক শিক্ষক প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ৭০% সময় তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যয় করেন, ১০% সময় তারা গুগল ব্রাউজ করে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেন, ১০% সময় তারা ইউটিউব এ ব্যয় করেন, ৮% সময় শিক্ষক বাতায়নসহ অন্যান্য শিক্ষণীয় কাজে ব্যয় করেন এবং ২% সময় বিবিধ কাজ করেন।

### ২.৬: কেস স্টাডি (Case Study)

কেস স্টাডি গবেষণা বা ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি হলো গুণবাচক গবেষণার আরেকটি ধারা। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো ঘটনার অত্যন্ত গভীরে প্রবেশ করে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি বিশেষ এককের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে বাস্তবধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একই ধরনের ইউনিট বা একক সম্বন্ধে সাধারণীকরণে পৌঁছানো সম্ভব। ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতির মূল কৌশল হলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করা।

উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণ আবার দুই রকমের হতে পারে— অংশগ্রহণমূলক এবং অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে পর্যবেক্ষণ। অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক নিজেই লক্ষ্যণীয় ইউনিট বা দলের সাথে মিশে যান কিন্তু অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে কৌশলের ক্ষেত্রে গবেষক দলগত কার্যপ্রণালী থেকে দূরে অবস্থান করে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

কেস স্টাডি গবেষণায় গবেষককে যে সমস্ত দিকে খেয়াল রাখতে হয় সেগুলো হচ্ছে:

 * সতর্কতার সাথে বাস্তবতার নিরিখে প্রাথমিক ধারণা থেকে কার্যকর গবেষণা নকশা প্রস্তুত করা

 * গবেষক হিসেবে সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতির হিসেব পর্যবেক্ষণ করা

 * কোনো ধরনের বর্জনযোগ্য চিন্তাভাবনা ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে সে সম্বন্ধে সচেতন থাকা

 * গবেষণা কাজটির জন্য উপযুক্ত স্থান বা ক্ষেত্র খুঁজে বের করা

 * যোগ্যতর তথ্য প্রদানকারীকে খুঁজে বের করা

 * পর্যবেক্ষণের সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা

 * তথ্য, প্রমাণ ও দলিলাদি কিভাবে রেকর্ড করা হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা

 * তথ্য শ্রেণিবদ্ধকরণ সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা

 * ধারণা হতে কার্যসম্পাদন পর্যন্ত মধ্যবর্তী পর্যায়ে কতটুকু সময় লাগবে তা নির্ধারণ করা

 * গবেষণা প্রতিবেদন কোনো পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের দর্শকের সামনে প্রকাশ করা হবে তা নির্ধারণ করা।

কেস স্টাডি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গবেষণার ফলাফলের স্বীকৃতি পেতে হলে গবেষককে কতকগুলো বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন—

 * তথ্য সংগ্রহ কৌশল, নমুনায়ন পদ্ধতি এবং তথ্য বিশ্লেষণ কৌশল ব্যাখ্যা করতে হবে

 * সংগৃহীত তথ্য প্রতিবেদন আকারে প্রদর্শন করতে হবে এবং যে কোনো সময় পুনঃবিশ্লেষণের নিমিত্তে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে

 * প্রতিবেদনে ঋণাত্মক উদাহরণসমূহের উল্লেখ থাকবে

 * মাঠ পর্যায়ের কাজের বিশ্লেষণ প্রতিবেদন আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে

 * অনুমান এবং প্রমাণমূলক কাজের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয় করতে হবে

 * প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে, সেই সাথে বর্ণনা ও ব্যাখ্যার মধ্যেও পার্থক্য তুলে ধরতে হবে

 * প্রকৃত কাজের বিবরণ ডায়েরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে

 * তথ্যের উৎকর্ষতা যেন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

### ২.৭: কর্মসহায়ক গবেষণা (Action Research)

আধুনিক শিক্ষা গবেষণায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে কর্মসহায়ক গবেষণা (action research)। শিক্ষা গবেষণা কার্যক্রমে কর্মসহায়ক গবেষণা একটি নতুন বৈজ্ঞানিক ও প্রয়োগিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির গবেষণা শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ধারা সংযোজন করেছে। প্রথম থেকেই এই গবেষণা পদ্ধতি বাস্তব জগতের প্রয়োজন ও সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছে এবং ঐ সব সমস্যা সমাধানের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অতিদ্রুত তা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কর্মসহায়ক গবেষণার দুটি উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা। আর তাই সমাজের পরিবর্তনের জন্য নতুন পথের সন্ধান কর্মসহায়ক গবেষণা দিয়ে থাকে। ১৯৪৪ সালে কার্ট লিউইন কর্মসহায়ক গবেষণাকে ব্যবহার করেন তত্ত্ব ও প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে। তিনি কার্য ও গবেষণাকে একত্রিত করেন যা সমাজের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। এই ধরনের গবেষণা কোনো নির্দিষ্ট পরিসরে উদ্ভূত কোনো একটি সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য একটি আধুনিক প্রক্রিয়া। কর্মসহায়ক গবেষণা পরিস্থিতি নির্ভরশীল অর্থাৎ কোনো একটি বিশেষ পরিস্থিতি বা ধারণার মধ্যে কোনো একটি সমস্যা সনাক্ত করে একই পরিস্থিতির মধ্যে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে বের করা হয়। এ ধরনের গবেষণা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। একদল গবেষক এবং বিশেষজ্ঞ একসাথে কাজ করে নিজেরাই গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করার মাধ্যমে সমস্যার একটি প্রায়োগিক সমাধান বের করেন।

#### কর্মসহায়ক গবেষণার ধারণা (Concepts of Action Research)

কর্মসহায়ক গবেষণা হলো এক ধরনের প্রায়োগিক গবেষণা। কোনো ব্যক্তি তার পেশাগত কাজে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সেই সমস্যার সমাধানের জন্য যে গবেষণা পরিচালনা করেন তাই কর্মসহায়ক গবেষণা। এই গবেষণায় গবেষক নিজেই এই সমস্যার সম্মুখীন। পেশাগত অনুশীলন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়েও এ গবেষণা পরিচালনা করা যায়। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যখন কোনো চলমান কাজের উপর ক্ষুদ্রমাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে এই পরিবর্তিত কাজের উপর সূক্ষ্ম দৃষ্টি নিবন্ধ রাখা হয় তখন আমরা বলতে পারি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি নিজ পেশার উন্নয়নের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণা করছেন। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা দেখা দেয় তখন সেই সমস্যার গুরুত্ব ও গভীরতা চিহ্নিত করে সকলের সহযোগিতায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।

**কর্মসহায়ক গবেষণার সংজ্ঞা:** বিভিন্ন গবেষক কর্মসহায়ক গবেষণাকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেমন—

 * "কর্মসহায়ক গবেষণা হলো সামাজিক কার্যক্রমের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত এমন একটি গবেষণা পদ্ধতি যা কোনো সমস্যা সমাধান এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য কিছু সংখ্যক লোক সংঘবদ্ধ করতে পারে। গবেষক নিজেই গবেষণার ক্ষমতা অর্পণ এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে।"— **পালমার ও জনসন**।

 * "কর্মসহায়ক গবেষণার মৌলিক অনুমান হচ্ছে সমাজের প্রচলিত রীতি বা অভ্যাস পরিবর্তনের ফলাফল অন্যের দ্বারা নিরীক্ষার চেয়ে নিজে নিরীক্ষা করা।"— **কুক**।

 * *Action Research is a three steps spiral process of (1) planning which involves reconnaissance; (2) talking actions and; (3) fact-finding about the results of the action.* — **Kurt Lewin**.

 * *Action Research is the process by which practitioner's attempts to study their problems scientifically in order to guide, correct and evaluate their decisions and actions.* — **Stephen Corey**.

 * *Action Research in education is study connected by colleagues in a school setting of the result of their activities to improve instructions.* — **Carl Ghekman**.

 * *Action Research is a fancy way of saying let's study what's happening at our school and decide how to make it a better place.* — **Emily Calhoun**.

কর্মসহায়ক গবেষণার উদ্ভাবক ও অন্যান্য যারা বিভিন্ন গবেষণার সাথে জড়িত তারা নিজেদের কর্মের সুবিধার্থেই এ ধরনের গবেষণা কর্মে যুক্ত হন যেন তাঁদের গবেষণা কর্ম অধিক কার্যকারিতা লাভ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যারা শিক্ষার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নয়, তাঁদের পরিচালিত গবেষণার ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকরী নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা ও শিক্ষাক্রমে শিক্ষকদের উৎসাহিত হওয়া আবশ্যক তাদের শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। শিক্ষামূলক কর্মসহায়ক গবেষণা হলো এক ধরনের শিক্ষা প্রযুক্তি যা দ্বারা একজন শিক্ষক কার্যকরীভাবে শিক্ষার্থীদের শিখনকে উন্নত করতে পারেন। কর্মসহায়ক গবেষণা হতে প্রাপ্ত উপাত্ত কাজে লাগিয়ে একজন শিক্ষক বুঝতে পারেন কী কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যা বিরাজমান এবং সমস্যার প্রভাব কিভাবে দূর করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিখন অভিজ্ঞতার উন্নয়নের কর্মসহায়ক গবেষণা হলো শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, যে প্রক্রিয়ায় গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তত্ত্বকে তাৎক্ষণিক প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো সমস্যা সমাধান বা সমাজের চলতি রীতির পরিবর্তন করা হয় তাকে কর্মসহায়ক গবেষণা বলে। কর্মসহায়ক গবেষণার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকর্মসহায়ক গবেষণা বাস্তব সমস্যাভিত্তিক গবেষণা পদ্ধতি যা বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সাধারণ তত্ত্ব আবিষ্কার করে এবং সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাথে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকে। এটি সামাজিক গবেষণা থেকে একটি ভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি।

কার্ট লিউইন (১৯৪৭)-এর মতানুসারে কর্মসহায়ক গবেষণার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীনের অধীনে কোনো পরিবর্তনশীল প্রকৃতি বিবেচনা করে কিছু কার্যক্রম এবং গবেষণা পরিচালনা করা।

**নিম্নে কর্মসহায়ক গবেষণার বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:**

 * **কার্যভিত্তিক (Action Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা শুধু সাধারণ তত্ত্ব আবিষ্কার করে না, বরং সমস্যা সমাধানের জন্য তা কার্যে পরিণত করে।

 * **আবর্তনশীল (Cyclical Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা গবেষণার একটি চলমান প্রক্রিয়া যা সমস্যা চিহ্নিত করে, সমাধানের তত্ত্ব আবিষ্কার করে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে।

 * **সমন্বিত প্রক্রিয়া (Integration Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা কোনো স্তর বাধাপ বুঝায় না, বরং গবেষণার সমন্বিত প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

 * **বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া (Scientific Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা হয়ে থাকে।

 * **ধারাবাহিক প্রক্রিয়া (Systematic Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা সমস্যা সমাধানের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি সমস্যা চিহ্নিতকরণ হতে শুরু হয়ে তত্ত্ব প্রণয়ন এবং তত্ত্ব বাস্তবে প্রয়োগ করে ফলাফল মূল্যায়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।

 * **ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত (Future Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা শুধু অতীত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে না বরং গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তত্ত্ব ভবিষ্যতে প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করে থাকে।

 * **বাস্তব সমস্যাভিত্তিক (Practical Problem Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা সব সময় সমাজ জীবনের বা প্রাতিষ্ঠানিক জীবনের বাস্তব সমস্যা নিয়ে গবেষণা কার্য পরিচালনা করে।

 * **যৌথ প্রচেষ্টা (Collaboration):** কর্মসহায়ক গবেষণা গবেষক এবং সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকে।

 * **অবস্থানভিত্তিক (Situational):** কর্মসহায়ক গবেষণা সমস্যার বিভিন্ন অবস্থানে ভিন্নতর হতে পারে। সব সমস্যার জন্য একই রকম প্রক্রিয়া ব্যবহার নাও হতে পারে।

**তাছাড়াও কর্মসহায়ক গবেষণার আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন—**

 * কর্মসহায়ক গবেষণা এক ধরনের আত্মপ্রতিফলনমূলক অনুসন্ধান।

 * এটি ব্যবহারকারী বা অংশগ্রহণকারী সুবিধাভোগীদের দ্বারা গৃহীত হয়।

 * এ গবেষণা সাধারণত স্বীয় পেশাগত, শিক্ষাগত, সামাজিক কার্য বা চর্চার উন্নয়ন অথবা স্বীয় দুর্বলতা আবিষ্কার ও উন্নয়নে পরিচালিত হয়।

 * এটি এক ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ গবেষণা তাই নতুন গবেষকবৃন্দ স্বীয় সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ গবেষকদের কাছ থেকে সহযোগিতা লাভ করতে পারেন।

 * কর্মসহায়ক গবেষণার জন্য কোনো স্বতঃসিদ্ধ একক সাধারণ পদ্ধতি নেই। তাই এখানে বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় এবং তথ্য সংগ্রহের অংশ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পদ্ধতিগতভাবে কর্মসহায়ক গবেষণায় একই সাথে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয় ও অনুসরণ করা সম্ভব। গবেষক এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন।

 * এটি যুক্তি নির্ভর এবং গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বনে পরিচালিত হয়।

 * এটি গবেষকদের প্রতিদিন যে সমস্ত পেশাগত কার্যক্রম সমাধা করেন, তার নিয়মতান্ত্রিক কার্যকারিতা যাচাই বা পরীক্ষা নিরীক্ষাকরণে সহায়তা করে।

 * শিক্ষায় কর্মসহায়ক গবেষণার মূল আলোকপাত করা হয় শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের উপর। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পৃক্তকরণ এবং শিক্ষাগত ভিত্তি হচ্ছে গুণগত মানোন্নয়ন।

 * কর্মসহায়ক গবেষণা দ্বারা অর্জিত জ্ঞান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসকের নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে এবং শিখন ও নীতি নির্ধারণকে দৃঢ় করে।

 * কর্মসহায়ক গবেষণা মূলত ২টি 'W' এবং ১টি 'H' প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পরিচালিত হয়। যথা— কি (What), কেন (Why), কিভাবে (How)।

 * যেহেতু এই গবেষণা নির্দিষ্ট স্থানে বসে পরিচালনা করা হয় তাই দলভিত্তিক মিথষ্ক্রিয়া পাওয়া যায়।

 * এই পদ্ধতির নমনীয়তা ও সহযোজন ক্ষমতা রয়েছে।

 * অন্যান্য পদ্ধতির সাথে এই পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো কোনো একটি বিশেষ চলককে কখনোই সমষ্টি থেকে পৃথক করে পর্যবেক্ষণ করা হয়না।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, কর্মসহায়ক গবেষণা সর্বদা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট। তাই মূলত আমাদের বুঝতে হবে, কিভাবে এ পরিবর্তন আনা যায়, কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন? কি পরিবর্তন আমরা চাই? তাহলে কর্মসহায়ক গবেষণার মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

### ২.৮: মৌলিক ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য

**(Difference between Fundamental and Social Research)**

#### ২.৮.১: মৌলিক গবেষণা

যে গবেষণার দ্বারা কোনো মৌলিক তত্ত্বের ও পূর্বানুমানের উন্নয়ন ও পরীক্ষা করা হয় তাই মৌলিক গবেষণা। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি এবং গবেষণার জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তির উন্নয়ন। মৌলিক গবেষণাপ্রাপ্ত এসব জ্ঞান এবং তত্ত্বের ভবিষ্যতে সামাজিক প্রায়োগিক দিক থাকবে, কিন্তু বর্তমানের সমস্যা সমাধানের কোনো প্রায়োগিক দিক নেই (ড. খুরশিদ আলম ২০০৩:৯৭)। এক কথায় বললে যে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের চর্চা হয় এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয় তাই মৌলিক গবেষণা (Kothari ২০০৪:৩)। বস্তুত মৌলিক গবেষণা দুটি কাজ সম্পন্ন করে:

 1. নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার এবং

 2. বিদ্যমান তত্ত্বের উন্নয়ন

মৌলিক গবেষণার আসল উদ্দেশ্য হলো নতুন তত্ত্ব তৈরি করা কিংবা বিদ্যমান কোনো তত্ত্বের উন্নয়ন করা। যেমন: পিঁয়াজে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নিয়ে একটা গবেষণা করেছিলেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুরা কীভাবে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিখে থাকে তাই নিয়ে একটা তত্ত্ব দেওয়ার জন্য তিনি গবেষণা কাজটি পরিচালনা করেন। শিশুদের শিখনের আনুষ্ঠানিক অপারেশনাল স্তরে এসে তা তাঁদের আচরণে পরিণত হয়। শিশুরা কী শিখবে বা শিক্ষা কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে শিখে।

মৌলিক গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে একদিকে খরচ বেশি, অন্যদিকে অন্তর্নিহিত বা অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিও আছে। অনেকসময় গবেষণার মেয়াদ বাড়তেই থাকে, ফলে কতদিন ধরে অর্থব্যয় করতে হবে তা অনিশ্চিত। অন্যদিকে মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়, সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগে এবং আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই গবেষণার কোনো প্রয়োগ না হলেও পরবর্তীতে নানাভাবে এই গবেষণার ফলাফল প্রয়োগ করা হয়। এই গবেষণার উপর ভিত্তি করে অনেক বাণিজ্যিক পণ্য প্রস্তুত করা হয়।

#### ২.৮.২: সামাজিক গবেষণা কী?

সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণাকে বোঝানো হয়। সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের বিষয়বস্তু মানুষ, মানুষের মন, মানুষের সমাজ, মানুষের সংস্কৃতি, মানুষের অর্থনীতি, মানুষের রাজনীতি প্রভৃতি। মোট কথা মানুষ, তার আচরণ ও ক্রিয়া এবং মানুষের সমাজ-সংগঠন সামাজিক বিজ্ঞানীদের সাধারণ বিষয়বস্তু। একারণে সামাজিক গবেষণা বলতে শুধু সমাজতাত্ত্বিক গবেষণাকে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া, সামাজিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি এবং পদ্ধতিতত্ত্বে যথেষ্ট সাদৃশ্য থাকায় সামাজিক গবেষণা বিষয়ক আলোচনায় সাধারণত ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। আমরা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার উপর কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও এখানে সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণাকেই বোঝানো হবে। বলা বাহুল্য, সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিষয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেই বুঝায়।

##### সামাজিক গবেষণার বৈশিষ্ট্য:

সামাজিক গবেষণার কতকগুলো বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদিও একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সব প্রাকৃতিক বিজ্ঞানেই অভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে সামাজিক গবেষণার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো:

 * সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়ক

 * সামাজিক গবেষণা দুই বা ততোধিক চলকের (variable) মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করে

 * সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে

 * সামাজিক গবেষণা বাস্তব তথ্য নির্ভর

 * সামাজিক গবেষণা ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল

 * সামাজিক গবেষণা তত্ত্ব গঠনে সহায়ক

 * সামাজিক গবেষণা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ করে।

##### সামাজিক গবেষণার প্রকারভেদ:

কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা বা কোনো অজানা বিষয়ে জানার চেষ্টা করা। বস্তুত গবেষণাকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—

 * মৌলিক গবেষণা (Basic or fundamental research)

 * ফলিত গবেষণা (Applied research)

 * কার্যোপযোগী গবেষণা (Operational research)

 * মূল্যায়ন গবেষণা (Evaluative research)

 * জরিপ গবেষণা (Survey research)

 * মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানমূলক গবেষণা (Field investigative research)

#### ২.৮.৩: মৌলিক ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য

**(Difference between Fundamental and Social Research)**

| মৌলিক গবেষণা | সামাজিক গবেষণা |

|---|---|

| নতুন তত্ত্ব সৃষ্টি এবং বিদ্যমান তত্ত্বের উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালিত হয় | বাস্তবসম্মত উপায়ে যে কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে গবেষণা পরিচালিত হয় |

| জ্ঞান সৃষ্টির উপর মূল মনোযোগ থাকে | জ্ঞান প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ থাকে |

| জ্ঞানের একটি শাখার বিভিন্ন মৌলিক নীতিসমূহ প্রয়োগ করে তত্ত্বটি বাতিল করে দেওয়ার চেষ্টা করে | জ্ঞানের একটি প্রায়োগিক শাখাকে বিবেচনা করে সমস্যার সমাধান করে |

| জ্ঞানের একটি মাত্র শাখা থেকে সমস্যাটিকে বিশ্লেষণ করে | অনেক সময় একটি সমস্যা সমাধানের জন্য জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমন্বিত হয়ে কাজ করে |

| গবেষণার ফলাফল সার্বজনীন করার পক্ষপাতী | কখনও কখনও ফলাফল সার্বজনীন করার উদ্দেশ্য ছাড়াও একক কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করে |

| পূর্বাভাস পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় | কোনো বিষয় বা ঘটনা কিভাবে পরিবর্তিত হয়ে তা ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে গবেষণা কাজ পরিচালিত হয় |

| অন্যান্য চলকসমূহের পরিবর্তন হবে না ধরে নিয়েই গবেষণা করা হয় | স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য চলকগুলো পরিবর্তনশীল ধরে নেওয়া হয় |

| জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটা শাখার প্রযুক্তিগত ভাষা অনুসরণ করে প্রতিবেদন সংকলন করা হয়। | সাধারণ ভাষা ব্যবহার করে গবেষণা প্রতিবেদন সংকলন করা হয়। |

### অনুশীলনী

#### সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. ঐতিহাসিক গবেষণা বলতে কী বোঝায়?

২. বর্ণনামূলক গবেষণার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।

৩. পরীক্ষামূলক গবেষণা কী?

৪. মিশ্র পদ্ধতির গবেষণার ৩টি গুরুত্ব লিখুন।

৫. কেস স্টাডি বা ঘটনা অনুধ্যান গবেষণার স্বীকৃতি পেতে গবেষকের কী কী করণীয় লিখুন।

#### রচনামূলক প্রশ্ন

১. পরিমাণবাচক গবেষণা এবং গুণবাচক গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এদের ৫টি মৌলিক পার্থক্য লিখুন।

২. ঐতিহাসিক গবেষণা কী? এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করুন।

৩. কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক গবেষণা করা হয়? একটি উদাহরণের সাহায্য বর্ণনামূলক গবেষণার বৈশিষ্ট্য লিখুন।

৪. পরীক্ষামূলক গবেষণায় স্বাধীন চলক এবং অধীন চলক বলতে কী বুঝায়? উদাহরণস্বরূপ একটি পরীক্ষামূলক গবেষণার স্বাধীন চলক এবং অধীন চলক ব্যাখ্যা করুন।

৫. জরিপ গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এ গবেষণায় প্রশ্নমালা তৈরির ক্ষেত্রে গবেষককে কোনো কোনো বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়?

৬. কর্মসহায়ক গবেষণা কী? দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে এই ধরনের গবেষণার কার্যকারিতা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন। পেশাগত মান উন্নয়নে কর্মসহায়ক গবেষণা কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে লিখুন।

৭. মৌলিক গবেষণা এবং সামাজিক গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য উল্লেখ করুন।

#### তথ্যসূত্র:

 * Bernard, H. R., and Bernard, H. R. (2012). *Social research methods: Qualitative and quantitative approaches.*

 * Creswell, J. W. (2013). *Research design: Qualitative, quantitative, and mixed methods approaches.* Sage publications.

 * Gall, M. D., Borg, W. R., and Gall, J. P. (1996). *Educational research: An introduction.* Longman Publishing.

 * Fraenkel, J. R., Wallen, N. E., and Hyun, H. H. (1993). *How to design and evaluate research in education* (Vol. 7). New York: McGraw-Hill.

 * Keppel, G. (1991). *Design and analysis: A researcher's handbook.* Prentice-Hall, Inc.

 * Lipsey, M. W. (1990). *Design sensitivity: Statistical power for experimental research* (Vol. 19).

 * Neuman, W. L., and Neuman, W. L. (2006). *Social research methods: Qualitative and quantitative approaches.*

 * Punch, K. F. (2013). *Introduction to social research: Quantitative and qualitative approaches.* Sage.

 * Creswell, J. W. (2002). *Educational research: Planning, conducting, and evaluating quantitative.* Prentice Hall.

 * Neuman, W. L., and Robson, K. (2004). *Basics of social research.* Pearson.

 * Malterud, K. (2001). Qualitative research: standards, challenges, and guidelines. *The lancet*, 358(9280), 483-488.

 * Robson, C. (2002). *Real world research* (Vol. 2). Oxford: Blackwell publishers.


গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা (Basic Concepts of Research and Education Research) - শিক্ষায় গবেষণা

 গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা (Basic Concepts of Research and Education Research) - শিক্ষায় গবেষণা

ইউনিট-১: গবেষণার মৌলিক ধারণা ও শিক্ষা গবেষণা

​(Basic Concepts of Research and Education Research)

​মানব জীবনের উন্নয়নে গবেষণার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। সমাজ ও সভ্যতা ক্রমশ সম্মুখের দিকে ধাবমান। অতীতের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ এবং তার সত্যতা যাচাই করা, বর্তমানকে উদ্‌ঘাটন করা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করা এবং অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র স্থাপন করার জন্য গবেষণার প্রয়োজন। শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের একমাত্র চাবিকাঠি। কাজেই শিক্ষা তথা উন্নতর বৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। দেশ ও জাতির দ্রুত উন্নয়নের জন্য মৌলিক গবেষণা অপরিহার্য। কারণ মৌলিক গবেষণার উপর ভিত্তি করেই অপরাপর গবেষণাগুলো পরিচালনা করতে হয়। গবেষণা ছাড়া কোনো জাতি ও দেশ তাঁর সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারেনি। তাই বিশ্বের সচেতন দেশসমূহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মহাকাশ ইত্যাদি সেক্টরে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।

​এ অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়সমূহ—

  • ​১.১ গবেষণার ধারণা, লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য
  • ​১.২ শিক্ষা গবেষণার ধারণা ও প্রকৃতি
  • ​১.৩ শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
  • ​১.৪ শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ

​১.১: গবেষণার ধারণা, লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য

​(Concepts of Research, goal and features)

​গবেষণার ধারণা

​কৌতূহল মানবমনের এক চিরন্তন প্রবৃত্তি। কৌতূহল সেই আদিম যুগ থেকে অদ্যাবধি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। আর সে কারণেই মানুষ তার পারিপার্শ্বিক জীবন-জগৎ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে এত আগ্রহী। পারিপার্শ্বিক জীবন জগৎ সম্পর্কে কৌতূহলী। মানব মনে যেসব বহুমুখী প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে তার যথাযথ উত্তর লাভের আকাঙ্ক্ষায় গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অবলম্বনে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে লব্ধ তথ্যসমূহকে যাচাই বাছাই করে নতুন জ্ঞান আহরণ করা ও প্রচলিত জ্ঞানের উন্নতি সাধনই গবেষণার কাজ।

​শিক্ষাবিদ মৌলির মতে—পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহপূর্বক সেই তথ্যের বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে যখন কোনো সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় তখন সেই পদ্ধতিকে গবেষণা বলা হয়। শিক্ষাক্রম, শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রণয়ন ও ব্যবহার, পাঠ্যপুস্তক এর বিভিন্ন দিক, শিখন শেখানো পদ্ধতি, শিক্ষা মূল্যায়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহের অসঙ্গতি ও দুর্বলতার দিক অবলম্বনে শিক্ষা গবেষণার কাজ পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা আজকের দ্রুত উন্নয়নশীল বিশ্বে অনস্বীকার্য।

​গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

​গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো মানবকল্যাণে ইতিবাচক বিষয়গুলোকে প্রতিষ্ঠিত করা। গবেষণা ছাড়া সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। নিম্নে গবেষণার কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেওয়া হলো:

  • ​গবেষণার প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো নতুন সত্যের আবিষ্কার, এখন পর্যন্ত যার খোঁজ পাওয়া যায় নাই;
  • ​কোনো ঘটনা বা বিবরণ সম্পর্কে পরিচিতি লাভ;
  • ​দুটো ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক বের করা;
  • ​পুরাতন তত্ত্বের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নতুন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা;
  • ​ব্যাপকভিত্তিক সার্বজনীন গবেষণার মাধ্যমে গবেষণার সাধারণ নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত করা;
  • ​গবেষণার উদ্দেশ্যে গৃহীত সমস্যাটির অনুমিত সিদ্ধান্ত ঠিক আছে কিনা যাচাই করা;
  • ​সংগৃহীত উপাত্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফলাফল ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

​গবেষণার বৈশিষ্ট্য

  • ​গবেষণা সব সময়ই কোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরিচালিত;
  • ​এটা হলো বুদ্ধিদীপ্ত ও পদ্ধতিগত অনুসন্ধান কর্ম;
  • ​গবেষণা কোনো তত্ত্ব বা মূলনীতি বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করে;
  • ​গবেষণা অনুমান, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত;
  • ​গবেষণা তথ্য, উপাত্ত ও বর্ণনা নির্ভর;
  • ​গবেষণার সিদ্ধান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে গৃহীত হয়;
  • ​সংগৃহীত উপাত্ত যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করা হয়;
  • ​গবেষণা কর্মের জন্য সূক্ষ্ম চিন্তন ক্ষমতা ও দক্ষতা প্রয়োজন;
  • ​গবেষণায় অনুমিত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়;
  • ​গবেষণা কার্যক্রমে নিরপেক্ষ, ধীরস্থির ও সাহসী হতে হয়;
  • ​গবেষণায় যৌক্তিক ধারাবাহিকতা প্রয়োজন;
  • ​গবেষণায় সতর্কতার সাথে কাজ করতে হয়।

​১.২ শিক্ষা গবেষণার ধারণা ও প্রকৃতি

​(Concept of Education Research and Nature of Study)

​শিক্ষা গবেষণার ধারণা

​শিক্ষা গবেষণা হলো শিক্ষা সমস্যা সম্পর্কীয় প্রক্রিয়াবদ্ধ ও যুক্তিনিষ্ঠ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করা। শিক্ষা বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য বৈজ্ঞানিক ও নিয়মতান্ত্রিক অনুসন্ধানই হলো শিক্ষা গবেষণা। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে বিরাজমান কোনো সমস্যার প্রয়োজনীয় সমাধান লাভের জন্য ব্যবহৃত গবেষণাও শিক্ষা গবেষণা। অতীতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা করা হতো না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ধারণা ও কর্তৃপক্ষের প্রণীত নিয়মাবলিই ছিল সমস্যা সমাধানের একমাত্র হাতিয়ার। পরিবর্তিত দ্বন্দ্বপূর্ণ সামাজিক ব্যবস্থায় শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষা গবেষণা করা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজিত সমস্যাসমূহ সমাধান করার প্রক্রিয়াকে শিক্ষা গবেষণা বলা হয়।

​শিক্ষা গবেষণার প্রকৃতি

  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পথ নির্দেশনা দিয়ে থাকে;
  • ​সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দ্বারা পরিচালিত হয়;
  • ​শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন তথ্য, প্রত্যয় ও কৌশল নির্ধারণের জন্য শিক্ষা গবেষণা পরিচালিত হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা পুনঃ অনুসন্ধান ও পুনঃ যাচাইযোগ্য;
  • ​শিক্ষা গবেষণা ব্যক্তিস্বার্থে নয় বরং জনস্বার্থে পরিচালিত ও ব্যবহৃত হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয়;
  • ​প্রচলিত জ্ঞানের সাথে শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন জ্ঞানের সংযোজন ঘটায়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্য নির্ভর;
  • ​শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা তত্ত্বের সাধারণীকরণে বিশ্বাসী;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য গঠন ও ভ্রান্ত তত্ত্ব বা তথ্য অপসারণে নিবেদিত;
  • ​বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষণার প্রতিটি বিষয়ই সচেতনভাবে ও যত্ন সহকারে রেকর্ড করা হয়;
  • ​শিক্ষা গবেষণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানবকল্যাণে অবদান রাখে।

​১.৩ শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

​শিক্ষা গবেষণার উদ্দেশ্য

  • ​শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান, তত্ত্ব ও সূত্র সৃষ্টি করা;
  • ​সমসাময়িক শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা;
  • ​শিক্ষাসংক্রান্ত আচরণীয় বিজ্ঞানের উন্নয়ন করা;
  • ​অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানের শিক্ষামূলক সমস্যাসমূহ সমাধান করা;
  • ​জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পন্থা উদ্ভাবন করা;
  • ​শিক্ষার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ধারণা প্রস্তুত করা;
  • ​শিক্ষকের শিখন শেখানোর মান উন্নয়নে সাহায্য করা;
  • ​বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার উপর ঐতিহাসিক, সামাজিক, দার্শনিক, মনোবৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক যে প্রভাব রয়েছে তা বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিক্ষার সঠিক তত্ত্বের উদ্ভাবন করা;
  • ​ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কুসংস্কার ও অজ্ঞতা থেকে বের করে নিয়ে আসা;
  • ​শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচলিত সূত্র, তত্ত্ব ও জ্ঞানকে পুনঃমূল্যায়ন করা;
  • ​শিক্ষা সম্পর্কিত পরিস্থিতি ও সমস্যাসমূহ আলোচনা করা;
  • ​জাতীয় শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা;
  • ​বিভিন্ন স্তরে মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন করা।

​শিক্ষা গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

​সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তার সত্যতা যাচাই করা, বর্তমানকে উদ্‌ঘাটন করা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করা, অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র স্থাপন করার জন্য শিক্ষা গবেষণার প্রয়োজন। শিক্ষা গবেষণার মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি ও সমাজ ব্যবস্থায় ইতিবাচক কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধন করা যায়। নিম্নে শিক্ষা গবেষণার কিছু গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:

  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিকার ও উন্নয়নমূলক লাগসই বিভিন্ন বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে;
  • ​গবেষণালব্ধ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সুপরিকল্পিত উপায়ে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা দেশে বিরাজমান বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান দান করে। তাই শিক্ষার সমস্যা নির্ণয় ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম;
  • ​শিক্ষা উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত নীতি, কর্মসূচি পরিকল্পনা, প্রকল্প ইত্যাদি প্রণয়নে সাহায্য করে থাকে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা অনুকূল জাতীয় জনমত গঠনের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে গণজনমত গঠনে সহায়তা করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতীয় অবস্থান, নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতার মাত্রা নির্ধারণ করে এবং প্রচলিত জাতীয় সেবাদান ব্যবস্থা ও কলাকৌশলগুলোকে অধিকতর উপযোগী করে তোলে;
  • ​শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুনত্বের উদ্ভাবন ও সংযোজন, যুগোপযোগী সিদ্ধান্তগ্রহণ, নতুন প্রযুক্তিগত শিক্ষা উদ্ভাবন, শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির বহুমাত্রিক ব্যবহার ও শিক্ষা উপকরণ উদ্ভাবন ইত্যাদি সম্পাদনে সহায়তা করে;
  • ​শিক্ষা গবেষণা শিখন শেখানো প্রক্রিয়া মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

​১.৪ শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ

​শিক্ষাব্যবস্থা কোনো একটি সংক্ষিপ্ত পরিসরে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ এর পরিসর ও পরিধি এত ব্যাপক যে কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে কাজ পরিচালনা করা হয়। সুতরাং শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহকে তার ব্যাপকতার নিরিখে পরিচালনা করতে হয়। নিম্নে কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো—

  • ​শিক্ষার্থীর আচরণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণা যথা: শিক্ষার্থীর আগ্রহ, মনোযোগ, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি;
  • ​শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি;
  • ​পাঠ্যপুস্তকের মান উন্নয়ন;
  • ​শিখন শেখানো পদ্ধতি;
  • ​শিক্ষার্থী মূল্যায়ন;
  • ​পরীক্ষা পদ্ধতির মান উন্নয়ন;
  • ​শিক্ষকের মান উন্নয়ন;
  • ​শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;
  • ​বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে শিক্ষাদান পন্থা উদ্ভাবন করা;
  • ​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ এর কারণ উদঘাটন ও এর মূল উৎপাটনের উপায় বের করা;
  • ​শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয়;
  • ​প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ ও সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;
  • ​শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়;
  • ​শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার প্রয়োগে বাধাসমূহ ও চাকরিতে অসন্তুষ্টি।

​নমুনা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

​১. গবেষণা কী?

২. শিক্ষা গবেষণা কী?

৩. গবেষণার ৫টি বৈশিষ্ট্য লিখুন।

৪. শিক্ষা গবেষণার ৫টি উদ্দেশ্য লিখুন।

৫. শিক্ষা গবেষণার ৫টি ক্ষেত্র উল্লেখ করুন।

​নমুনা রচনামূলক প্রশ্ন

​১. গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো লিখুন।

২. গবেষণার বৈশিষ্ট্যগুলো লিখুন।

৩. শিক্ষা গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।

সাম্য এবং সমতা মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন

 সাম্য এবং সমতা মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন

সাম্য এবং সমতা—শব্দ দুটি দৈনন্দিন কথাবার্তায় প্রায়ই এক অর্থে ব্যবহার করা হলেও, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনে এদের অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

​১. সমতা (Equality)

​সমতা বলতে বোঝায়—পরিস্থিতি বা ব্যক্তির চাহিদা যাই হোক না কেন, সবাইকে একেবারে সমান সুযোগ, সম্পদ বা অধিকার প্রদান করা। এটি প্রক্রিয়া বা উপকরণের নিরপেক্ষতার ওপর জোর দেয়।

  • ​মূল ধারণা: "সবাইকে সমান মাপে মাপা।"
  • ​উদাহরণ: কোনো প্রতিযোগিতায় যদি খাটো, লম্বা, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—সবাইকে একটি ৫ ফুট উঁচু প্রাচীর টপকাতে বলা হয় এবং সবাইকে সমান আকারের (যেমন: ২ ফুট) একটি করে টুল বা বক্স দেওয়া হয়, তবে তা হবে সমতা।

​২. সাম্য (Equity)

​সাম্য বলতে বোঝায়—প্রত্যেক ব্যক্তির বিশেষ প্রয়োজন, সীমাবদ্ধতা ও পটভূমি বিবেচনা করে তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া, যাতে সবাই শেষপর্যন্ত একিই বা সমান স্তরে পৌঁছাতে পারে। এটি ফলাফলের ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেয়।

  • ​মূল ধারণা: "যার যতটুকু প্রয়োজন, তাকে ততটুকু দিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।"
  • ​উদাহরণ: আগের উদাহরণেই, প্রাচীর টপকানোর জন্য যিনি লম্বা তাকে হয়তো কোনো টুলই দেওয়া হবে না, যিনি মধ্যম উচ্চতার তাকে ২ ফুটের টুল দেওয়া হবে, আর যিনি খাটো বা শিশু তাকে ৩ বা ৪ ফুটের টুল দেওয়া হবে—যাতে সবাই প্রাচীরের ওপর দিয়ে দেখতে বা প্রাচীর পার হতে পারে। এই নীতিটিই হলো সাম্য।

সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশে উদ্ভূত সমস্যাবলী এবং প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ গুলো উল্লেখ করুন

 সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশে উদ্ভূত সমস্যাবলী এবং প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ গুলো উল্লেখ করুন

বাংলাদেশে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ (Education for All) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং একীভূত শিক্ষা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে যেমন নানাবিধ চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ও প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগও গৃহীত হয়েছে। নিচে সমস্যা ও প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হলো:

​সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে উদ্ভূত সমস্যাবলি

​১. পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব: অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চলাচলের জন্য র‍্যাম্প, মানানসই টয়লেট বা পর্যাপ্ত আলোর সুবিধা নেই।

২. দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি: একীভূত শিক্ষা ও বিশেষ চাহিদা বোঝার জন্য সাধারণ শিক্ষকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে।

৩. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতার অভাব: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রন্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের ক্ষমতা সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও ট্যাবু অন্যতম বড় বাধা।

৪. উপযুক্ত পাঠ উপকরণ ও প্রযুক্তির অপ্রতুলতা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্রেইল বই এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।

৫. আর্থ-সামাজিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য: চরম দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, চর ও হাওর অঞ্চল বা পাহাড়ি দুর্গম এলাকার শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

৬. শ্রেণিকক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী: একজন শিক্ষকের পক্ষে বহুসংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্লাসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ওপর পৃথকভাবে নজর দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়।

​প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগসমূহ

​১. বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও ব্রেইল বই বিতরণ: প্রতি বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে রঙিন বই এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ব্রেইল বই বিতরণ করা হয়।

২. উপবৃত্তি ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু: প্রাথমিকে ঝরে পড়া কমাতে ব্যাপক উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক শিশুদের স্কুলের উপযোগী করতে এক বছরের বাধ্যতামূলক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

৩. চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (PEDP-4): এই উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একীভূত শিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ, ভৌত অবকাঠামো (র‍্যাম্প ও ওয়াশ ব্লক তৈরি) ও শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

৪. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তক: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৫. আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষা ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: 'স্মার্ট বাংলাদেশ' অনুপ্রেরণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুদের অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে শেখার সুযোগ বাড়ায়।

৬. জাতীয় ড্রপ-আউট রেজিস্টার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা: ঝরে পড়া রোধে ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত সময় ও রাইটার (Writer) প্রদানের সরকারি নির্দেশ কার্যকর রয়েছে।


বাংলাদেশে একীভূত শিক্ষার আইনী ভিত্তি সমূহগুলো লিখ

 বাংলাদেশে একীভূত শিক্ষার আইনী ভিত্তি সমূহগুলো লিখ

বাংলাদেশের সংবিধানে ঘোষিত মৌলিক অধিকার, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইনসমূহ বাংলাদেশে একীভূত শিক্ষা (Inclusive Education) বাস্তবায়নের মূল আইনী ও নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। নিচে প্রধান আইনী ও নীতিগত ভিত্তিগুলো তুলে ধরা হলো:

​১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

​সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা সকল নাগরিকের শিক্ষায় সমান অধিকার নিশ্চিত করে:

  • ​ধারা ১৭: সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।
  • ​ধারা ২৮ (৩): কেবল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা ভিন্নতার কারণে কোনো সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না—এমন চেতনাকে সমর্থন করে।

​২. প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩

​এটি বাংলাদেশে একীভূত শিক্ষাকে আইনী বাধ্যবাধকতায় রূপ দেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন।

  • ​ধারা ১৬ (১) (ঝ): বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সমন্বিত বা একীভূত শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
  • ​ধারা ৩৪: কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো শিশুকে ভর্তি নেওয়া থেকে অস্বীকার করতে পারবে না।
  • ​সহায়ক ব্যবস্থা: শ্রেণিকক্ষে ব্রেইল বই, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা (যেমন: র‍্যাম্প) নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

​৩. জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০

​জাতীয় শিক্ষানীতিতে একীভূত শিক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় ও লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

  • ​লিঙ্গ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও শারীরিক বৈচিত্র্য নির্বিশেষে সকল শিশুর জন্য মূলধারার প্রাথমিক শিক্ষা উন্মুক্ত রাখা।
  • ​বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সাধারণ বিদ্যালয়ের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের নির্দেশনা।

​৪. শিশু আইন, ২০১৩

​জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে প্রণীত এই আইনে শিশু হিসেবে সকল অধিকার ভোগের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • ​এতে সকল ধরনের বৈষম্য থেকে শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা পিছিয়ে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে বৈষম্যহীন শিক্ষার অধিকার প্রদান করে।

​৫. প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (PEDP)

​যদিও এটি সরকার পরিচালিত উন্নয়ন কর্মসূচি, তবে এর আইনী ও নীতিগত কাঠামোর অধীনে 'একীভূত শিক্ষা কৌশল' (Inclusive Education Strategy) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকল ধরনের শিশুকে মানসম্মত শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

মানবাধিকার কাকে বলে? বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার ও অধিকার বিষয়ক ধারা গুলো লিখ

 মানবাধিকার কাকে বলে? বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার ও অধিকার বিষয়ক ধারা গুলো লিখ

মানবাধিকারের সংজ্ঞা

​মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও স্বাভাবিক এমন কিছু মৌলিক অধিকার, যা কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং পূর্ণ বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বর্ণ, লিঙ্গ, জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অন্য কোনো পরিচয়নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষ সমানভাবে এই অধিকারগুলো পাওয়ার অধিকারী। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' (UDHR)-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অধিকারগুলোর স্বীকৃতি দেয়।

​বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত ধারা

​বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি) মানবাধিকারের সাধারণ চেতনা এবং তৃতীয় ভাগে (মৌলিক অধিকার) নাগরিকদের জন্য বলবৎযোগ্য অধিকারগুলোর উল্লেখ রয়েছে।

​১. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (দ্বিতীয় ভাগ)

​এগুলো সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য না হলেও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার মূল ভিত্তি:

  • ​ধারা ১১ (গণতন্ত্র ও মানবাধিকার): প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
  • ​ধারা ১৫ (মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা): জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ (অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা), কর্মসংস্থান, বিশ্রাম ও সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
  • ​ধারা ১৭ (অবৈতনিক ও বাধ্যতামূক শিক্ষা): নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

​২. মৌলিক অধিকারসমূহ (তৃতীয় ভাগ)

​সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো আদালতে বলবৎযোগ্য (নাগরিকের এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে ধারা ৪৪ ও ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট করা যায়):

  • ​ধারা ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
  • ​ধারা ২৮ (ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য): কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
  • ​ধারা ২৯ (সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা): সকল নাগরিকের জন্য সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা থাকবে।
  • ​ধারা ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার): আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না।
  • ​ধারা ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ): আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তি-স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  • ​ধারা ৩৩ (গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষা কবচ): বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার রাখা যাবে না এবং আইনজীবীর সাথে পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
  • ​ধারা ৩৫ (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ): আইন না ভেঙে বিচার করা যাবে না, এক অপরাধের জন্য দুই বার শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • ​ধারা ৩৬ (চলাফেরার স্বাধীনতা): জনস্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র মুক্তভাবে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার।
  • ​ধারা ৩৭ (সমাবেশের স্বাধীনতা): শান্তিপূর্ণভাবে ও অস্ত্র ছাড়া সমবেত হওয়ার অধিকার।
  • ​ধারা ৩৮ (সংগঠন করার স্বাধীনতা): কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার।
  • ​ধারা ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা): প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, বাক্-স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
  • ​ধারা ৪০ (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা): যোগ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো আইনসংগত পেশা, ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনার অধিকার।
  • ​ধারা ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা): প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো ধর্ম পালন, প্রচার বা গ্রহণের স্বাধীনতা।
  • ​ধারা ৪২ (সম্পত্তির অধিকার): আইন দ্বারা নির্ধারিত শর্তে সম্পত্তি অর্জন, ভোগ ও হস্তান্তরের অধিকার।

একীভূত শিক্ষা জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বৈশ্বিক আন্দোলন

 একীভূত শিক্ষা জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বৈশ্বিক আন্দোলন

একীভূত শিক্ষা (Inclusive Education) প্রতিটি শিশুর অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত ও সমর্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আন্দোলন। এই ব্যবস্থার মূল কথা হলো—জাতি, ধর্ম, বর্ণ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, লিঙ্গ বা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সব শিশুকে একই ছাদের নিচে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা।

​একীভূত শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ​মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ: ১৯৮৯ সালের জাতিসংঘের 'শিশু অধিকার সনদ' (UNCRC) এবং ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক 'সালামানকা ঘোষণা' (Salamanca Statement)-এর মাধ্যমে একীভূত শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা না করে মূলধারার স্কুলেই তাদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
  • ​পার্থক্য ও বৈচিত্র্যকে সম্মান: এই শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বাস করে যে প্রতিটি শিশুর শেখার পদ্ধতি ও ক্ষমতা আলাদা। বৈচিত্র্যকে সমস্যা হিসেবে না দেখে এটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে।
  • ​অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা: বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো (যেমন: র‍্যাম্প তৈরি), শিখন পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রমকে এমনভাবে উপযোগী করা হয় যাতে কোনো শিশুই মূলধারা থেকে ছিটকে না পড়ে।
  • ​সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা একসাথে বেড়ে উঠলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

​এসডিজি-৪ (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৪)-এ জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের EDBN 2401 শিখন ও শিখনযাচাই বিষয়ের ২০২৬ সালের বিএড ২য় সেমিস্টার এর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

 উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের EDBN 2401 শিখন ও শিখনযাচাই বিষয়ের ২০২৬ সালের বিএড ২য় সেমিস্টার এর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান 


নিচে প্রশ্নপত্রের সকল প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে ও সুস্পষ্টভাবে গুছিয়ে দেওয়া হলো:

​'ক' বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

​১. শিখন বলতে কী বোঝায়? কার্যকর শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করুন।

  • ​শিখন (Learning): অনুশীলনা ও অভিজ্ঞতার ফলে ব্যক্তির আচরণে যে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তনের সৃষ্টি হয়, তাকে শিখন বলে।
  • ​কার্যকর শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা:
    1. ​সহজতরকারী (Facilitator): শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন।
    2. ​প্রেষণা দান: শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করে তোলা।
    3. ​অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি: শ্রেণিকক্ষে ভীতিহীন ও সহযোগিতামূলক শিখন পরিবেশ তৈরি করা।
    4. ​বৈচিত্র্যময় শিক্ষণ পদ্ধতি: শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা।
    5. ​ব্যক্তিগত বৈষম্য বিবেচনা: প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব গ্রহণক্ষমতা অনুধাবন করে নির্দেশনা দেওয়া।

​২. থর্নডাইকের 'প্রচেষ্টা ও ভুল' মতবাদটি ব্যাখ্যাপূর্ব প্রধান তিনটি সূত্রের কার্যকারিতা উল্লেখ করুন।

  • ​প্রচেষ্টা ও ভুল মতবাদ (Trial and Error Theory): মনোবিজ্ঞানী ই. এল. থর্নডাইক মতে, উদ্দীপক (Stimulus) ও প্রতিক্রিয়ার (Response) মধ্যে সঠিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিখন ঘটে। ভুল প্রচেষ্টাগুলো বাদ দিয়ে সঠিক প্রতিক্রিয়াটি নির্বাচন করাই হলো এই মতবাদের মূল কথা।
  • ​প্রধান তিনটি সূত্রের কার্যকারিতা:
    1. ​প্রস্তুতির সূত্র (Law of Readiness): শিক্ষার্থী মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে শিখন দ্রুত ও স্থায়ী হয়।
    2. ​অনুশীলনের সূত্র (Law of Exercise): কোনো কাজ বারবার অনুশীলন করলে শিখন দৃঢ় হয় (ব্যবহারের সূত্র) এবং অনুশীলন না করলে তা শিথিল হয়ে যায় (অব্যবহারের সূত্র)।
    3. ​ফলাফলের সূত্র (Law of Effect): শিখনলব্ধ ফলাফলে শিক্ষার্থী সন্তোষ বা আনন্দ পেলে শিখন স্থায়ী হয়, আর অসন্তোষ পেলে শিখন দুর্বল হয়।

​৩. জ্যাঁ পিয়াজের জ্ঞানমূলক বিকাশ মতবাদের স্তরসমূহ বর্ণনা করুন। শিক্ষাক্ষেত্রে এই মতবাদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।

  • ​জ্ঞানমূলক বিকাশের ৪টি স্তর:
    1. ​সংবেদন-সঞ্চালনমূলক স্তর (Sensory-Motor Stage, ০-২ বছর): ইন্দ্রিয় ও সঞ্চালনের মাধ্যমে শিশু চারপাশের জগৎ সম্পর্কে শেখে।
    2. ​প্রাক-কার্যকরী স্তর (Pre-Operational Stage, ২-৭ বছর): প্রতীকী চিন্তা ও ভাষার ব্যবহার শুরু হয়, তবে চিন্তায় আত্মকেন্দ্রিকতা থাকে।
    3. ​মূর্ত-কার্যকরী স্তর (Concrete Operational Stage, ৭-১১ বছর): শিশু মূর্ত বস্তু বা প্রত্যক্ষ বিষয়ের ওপর যৌক্তিক চিন্তা করতে পারে।
    4. ​যৌক্তিক-কার্যকরী স্তর (Formal Operational Stage, ১১ বছর ও তদূর্ধ্ব): বিমূর্ত ও কাল্পনিক চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জিত হয়।
  • ​শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব: শিক্ষার্থীর বয়স ও বিকাশের স্তর অনুযায়ী কারিকুলাম ও শিখনসামগ্রী প্রণয়নে এটি সরাসরি সাহায্য করে।

​৪. শ্রেণিকক্ষে সতীর্থ শিখন কার্যকরভাবে প্রয়োগের উপায় বর্ণনা করুন।

  • ​সতীর্থ শিখন (Peer Learning): সহপাঠীদের পরস্পরকে শেখানোর প্রক্রিয়া।
  • ​প্রয়োগের উপায়:
    1. ​ছোট দল গঠন: মেধা ও দক্ষতার সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করা।
    2. ​জোড়ায় কাজ (Pair Work): দুজন শিক্ষার্থীকে জোড়া বানিয়ে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া।
    3. ​ভূমিকা পরিবর্তন: কখনো একজন শিক্ষক এবং অন্যজন শিক্ষার্থী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
    4. ​শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ: শিক্ষক শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দলগুলোর কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন ও দিকনির্দেশনা দেবেন।

​৫. অভীক্ষার যথার্থতা হ্রাসের কারণসমূহ শনাক্তপূর্বক প্রতিকারের উপায় নিরূপণ করুন।

  • ​যথার্থতা হ্রাসের কারণ:
    1. ​প্রশ্নপত্রের অস্পষ্টতা ও জটিল ভাষা।
    2. ​পাঠ্যক্রমের বহিরাগত বিষয় থেকে প্রশ্ন করা।
    3. ​পরীক্ষার সময় অপর্যাপ্ত হওয়া।
    4. ​মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব হওয়া।
  • ​প্রতিকারের উপায়:
    1. ​বিষয়বস্তুর উদ্দেশ্য ও ব্লু-প্রিন্ট (Blue Print) অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরি করা।
    2. ​সহজ-সরল ভাষায় সুস্পষ্ট প্রশ্ন প্রণয়ন করা।
    3. ​নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

​৬. পরিমাপ ও মূল্যায়নের পার্থক্য চিহ্নিত করুন। 'মূল্যায়ন একটি ত্রিমুখী প্রক্রিয়া'- ব্যাখ্যা করুন।

  • ​পরিমাণগত বনাম গুণগত (পার্থক্য): পরিমাপ হলো কোনো বৈশিষ্ট্যের পরিমাণগত প্রকাশ (যেমন: পরীক্ষায় ৮০ নম্বর পাওয়া)। অপরদিকে মূল্যায়ন হলো সেই পরিমাপের মূল্য বিচার করা (যেমন: মান বা গ্রেড নির্ধারণ - 'খুব ভালো')।
  • ​মূল্যায়ন একটি ত্রিমুখী প্রক্রিয়া: ব্লুমের মতে, মূল্যায়ন তিনটি উপাদানের ওপর নির্ভরশীল ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রক্রিয়া:
    1. ​শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য (Educational Objectives)
    2. ​শিখন অভিজ্ঞতা (Learning Experiences)
    3. ​আচরণগত পরিবর্তন/যাচাই (Behavioral Change/Evaluation)

​৭. স্ব-মূল্যায়ন বলতে কী বোঝায়? স্ব-মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।

  • ​স্ব-মূল্যায়ন (Self-Assessment): শিক্ষার্থী নিজ শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া ও অগ্রগতির মান নিজেই বিচার বা পর্যবেক্ষণ করাকে স্ব-মূল্যায়ন বলে।
  • ​প্রয়োজনীয়তা:
    1. ​আত্মসচেতনতা বাড়ায় এবং নিজের দুর্বলতা ও শক্তি চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
    2. ​স্বায়ত্তশাসিত বা স্ব-পরিচালিত শিখনে উৎসাহিত করে।
    3. ​আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিজের ভুল সংশোধন করার সুযোগ দেয়।

​৮. প্রতিফলন অনুশীলন বলতে কী বোঝায়? প্রতিফলন শিখন চক্রটি ব্যাখ্যা করুন।

  • ​প্রতিফলন অনুশীলন (Reflective Practice): কোনো কাজ সম্পন্ন করার পর তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যতে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নির্ধারণের চর্চা।
  • ​গিবসের প্রতিফলন শিখন চক্র (Gibbs' Reflective Cycle):
    1. ​বর্ণনা (Description): কী ঘটেছিল?
    2. ​অনুভূতি (Feelings): কাজের সময় কী চিন্তাভাবনা/অনুভূতি ছিল?
    3. ​মূল্যায়ন (Evaluation): অভিজ্ঞতাটি ভালো না খারাপ ছিল?
    4. ​বিশ্লেষণ (Analysis): পরিস্থিতিটির পেছনে কী কারণ ছিল?
    5. ​উপসংহার (Conclusion): আর কী করা যেত?
    6. ​কার্য পরিকল্পনা (Action Plan): ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি এলে কী করা হবে?

​'খ' বিভাগ (সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন)

​৯. গঠনকালীন ও সমষ্টিগত মূল্যায়নের পার্থক্য নিরূপণ করুন।

  • ​গঠনকালীন মূল্যায়ন (Formative): শিখন চলাকালীন পরিচালিত হয় (যেমন: ক্লাস টেস্ট, কুইজ)। এর মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীকে গঠনমূলক ফিডব্যাক দিয়ে শিখনে উন্নতি ঘটানো।
  • ​সমষ্টিগত মূল্যায়ন (Summative): নির্দিষ্ট কোর্স বা মেয়াদ শেষে পরিচালিত হয় (যেমন: বার্ষিক পরীক্ষা)। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রেড বা সনদ দেওয়া।

​১০. ভূমিকা অভিনয় পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?

  • ​ভূমিকা অভিনয় (Role Play): এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কোনো চরিত্র বা পরিস্থিতি রূপায়ণের মাধ্যমে তা অনুধাবন করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, সামাজিক সচেতনতা এবং সহানুভূতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

​১১. শ্রেণিকক্ষে পোস্টবক্স পদ্ধতি প্রয়োগের উপায় বর্ণনা করুন।

  • ​পোস্টবক্স পদ্ধতি (Postbox Method):
    1. ​শ্রেণিকক্ষে একটি বক্স বা বাক্স (পোস্টবক্স) রাখা হয়।
    2. ​পাঠ সংক্রান্ত প্রশ্ন, দ্বিধা বা প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীরা কাগজে লিখে না লুকিয়ে সেই বক্সে জমা দেয়।
    3. ​শিক্ষক ক্লাসের শেষে বা নির্দিষ্ট সময়ে বাক্স থেকে কাগজগুলো বের করে উত্তর দেন বা আলোচনা করেন। এটি লাজুক শিক্ষার্থীদের মনের দ্বিধা কাটাতে দারুণ কার্যকর।

​১২. নৈর্ব্যক্তিক পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধাসমূহ উল্লেখ করুন।

  • ​সুবিধা:
    1. ​অতি দ্রুত ও সহজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা যায়।
    2. ​মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় (শিক্ষকের ভালো লাগা/মন্দ লাগার প্রভাব পড়ে না)।
  • ​অসুবিধা:
    1. ​শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতা পরিমাপ করা যায় না।
    2. ​অনুমানের ভিত্তিতে (Guessing) ভুল উত্তরও সঠিক হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

​১৩. পর্যবেক্ষণ বলতে কী বোঝায়? পর্যবেক্ষণের প্রকারভেদ উল্লেখ করুন।

  • ​পর্যবেক্ষণ (Observation): লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিকল্পিত উপায়ে কোনো ব্যক্তি, ঘটনা বা আচরণ মনোযোগ সহকারে দেখে তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া।
  • ​প্রকারভেদ:
    1. ​অংশগ্রহণমূলক (Participant) ও অংশগ্রহণহীন (Non-participant) পর্যবেক্ষণ।
    2. ​নিয়ন্ত্রিত (Controlled) ও অনিয়ন্ত্রিত (Uncontrolled) পর্যবেক্ষণ।
    3. ​প্রোথোক্ষ (Direct) ও পরোক্ষ (Indirect) পর্যবেক্ষণ।

​১৪. আদর্শ বিচ্যুতি বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন।

  • ​আদর্শ বিচ্যুতি (Standard Deviation): পরিসংখ্যানের এমন একটি পরিমাপ যা নির্দেশ করে উপাত্তের মানগুলো তাদের গড় মান থেকে গড়ে কতটা দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
  • ​উদাহরণ: কোনো একটি শ্রেণির ৫ জন শিক্ষার্থীর গণিতের প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৫, ৫, ৫, ৫, ৫ হলে গড় ৫ এবং আদর্শ বিচ্যুতি ০ (কারণ কোনো বিচ্যুতি নেই)। কিন্তু প্রাপ্ত নম্বর ১, ৩, ৫, ৭, ৯ হলে গড় ৫ কিন্তু আদর্শ বিচ্যুতি ২.৮৩, যা নির্দেশ করে মানগুলো ছড়িয়ে রয়েছে।

​১৫. কেন্দ্রীয় প্রবণতা কী? কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপসমূহ উল্লেখ করুন।

  • ​কেন্দ্রীয় প্রবণতা (Central Tendency): উপাত্তের কোনো একটি মাঝামাঝি কেন্দ্রীয় মানের দিকে পুঞ্জীভূত বা একত্রিত হওয়ার ঝোঁককে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে।
  • ​পরিমাপসমূহ:
    1. ​গড় (Mean)
    2. ​মধ্যক (Median)
    3. ​প্রচুরক (Mode)

​১৬. শ্রেণিকক্ষে মাইন্ড ম্যাপিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল বর্ণনা করুন।

  • ​মাইন্ড ম্যাপিং (Mind Mapping): মূল ভাবনার চারপাশে শাখা-প্রশাখা এঁকে ছক আকারে তথ্য চিত্রায়িত করা।
  • ​সুফল:
    1. ​জটিল বিষয়বস্তু সহজে অনুধাবন ও দ্রুত মনে রাখতে সাহায্য করে।
    2. ​শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিমূর্ত চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়।
    3. ​পাঠ পর্যালোচনা (Revision) ও নোটিং তৈরিতে সময় সাশ্রয় হয়।

৪৮ তম বিশেষ বিসিএস প্রশ্ন ও সমাধান(48th Special BCS Question)

 ৪৮ তম বিশেষ বিসিএস প্রশ্ন ও সমাধান(48th Special BCS Question)

৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার শতভাগ প্রশ্ন ও উত্তর ১০০টি সাজিয়ে নিচে দেওয়া হলো:

### **বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (১-১৫)**

১. **প্রশ্ন:** ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

**উত্তর:** ১৯৪৪ সালে।

২. **প্রশ্ন:** 'যে আলোতে কুমুদ ফোটে'— এককথায় কী হবে?

**উত্তর:** কৌমুদী।

৩. **প্রশ্ন:** 'লাউ' শব্দটিতে কোন ধরনের স্বরধ্বনি রয়েছে?

**উত্তর:** দ্বিস্বরধ্বনি (যৌগিক স্বরধ্বনি)।

৪. **প্রশ্ন:** 'ডাক্তারখানা' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?

**উত্তর:** প্রত্যয়যোগে।

৫. **প্রশ্ন:** 'তিনি কথা বললেন না'— বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী?

**উত্তর:** তিনি চুপ থাকলেন / তিনি নীরব থাকলেন।

৬. **প্রশ্ন:** 'অন্তর্ভুক্তিমূলক' শব্দটিতে কয়টি অক্ষর (Syllable) রয়েছে?

**উত্তর:** ৬টি।

৭. **প্রশ্ন:** ক্রিয়াপদের মূল অবিভাজ্য অংশকে কী বলা হয়?

**উত্তর:** ধাতু।

৮. **প্রশ্ন:** 'Transparency'-এর বাংলা পরিভাষা কী?

**উত্তর:** স্বচ্ছতা।

৯. **প্রশ্ন:** বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?

**উত্তর:** প্রাকৃত ভাষা।

১০. **প্রশ্ন:** 'চর্যাপদ' প্রথম কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?

**উত্তর:** নেপালের রাজদরবারের রয়্যাল লাইব্রেরি থেকে।

১১. **প্রশ্ন:** 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে?

**উত্তর:** বড়ু চণ্ডীদাস।

১২. **প্রশ্ন:** 'কবর' নাটকটির রচয়িতা কে?

**উত্তর:** মুনীর চৌধুরী।

১৩. **প্রশ্ন:** লালসালু উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কী?

**উত্তর:** ধর্মীয় ভণ্ডামি ও গ্রামীণ সামাজিক অসচেতনতা।

১৪. **প্রশ্ন:** 'বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?

**উত্তর:** শব্দ।

১৫. **প্রশ্ন:** 'আকাশ' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?

**উত্তর:** অন্তরীক্ষ, গগন, ব্যোম।

### **English Language & Literature (১৬-৩০)**

১৬. **Q:** What does the idiom **"take someone to task"** mean?

**A:** To rebuke someone.

১৭. **Q:** Choose the correct spelling:

**A:** Repetition.

১৮. **Q:** What is the synonym of the word **'Spectacular'**?

**A:** Breathtaking / Impressive.

১৯. **Q:** Identify the passive form: **"Who did the work?"**

**A:** By whom was the work done?

২০. **Q:** "Lord of the Flies" was written by—

**A:** William Golding.

২১. **Q:** Fill in the blank: "He as well as his parents ___ spending vacation abroad."

**A:** is.

২২. **Q:** What type of sentence is **"Do or die"**?

**A:** Compound Sentence.

২৩. **Q:** She works **hard**. What part of speech is 'hard'?

**A:** Adverb.

২৪. **Q:** Who wrote *'Hamlet'* and *'Macbeth'*?

**A:** William Shakespeare.

২৫. **Q:** What is the noun form of 'Brief'?

**A:** Brevity.

২৬. **Q:** Who is known as the 'Poet of Nature' in English Literature?

**A:** William Wordsworth.

২৭. **Q:** What is the antonym of 'Enormous'?

**A:** Tiny / Small.

২৮. **Q:** Who wrote *'Paradise Lost'*?

**A:** John Milton.

২৯. **Q:** What is the meaning of 'White Elephant'?

**A:** A very costly but useless possession.

৩০. **Q:** What is the verb form of 'Ability'?

**A:** Enable.

### **গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৩১-৪৫)**

৩১. **প্রশ্ন:** k এর মান কত হলে kx^2 + 3x + 4 রাশিটি পূর্ণবর্গ হবে?

**উত্তর:** \frac{9}{16}

৩২. **প্রশ্ন:** যদি x : y = 4 : 3, y : z = 5 : 4 এবং x = 200 হয়, তবে z এর মান কত?

**উত্তর:** ১২০।

৩৩. **প্রশ্ন:** নিচের কোনটি যেকোনো সেটের উপসেট?

**উত্তর:** ফাঁকা সেট (\emptyset)।

৩৪. **প্রশ্ন:** \log 2 + \log 4 + \log 8 + \dots ধারাটির ৮ম পদ কোনটি?

**উত্তর:** \log 256

৩৫. **প্রশ্ন:** যদি P = 16 এবং TAP = 37 হয়, তবে CUP = ?

**উত্তর:** ৪০।

৩৬. **প্রশ্ন:** ০.১ × ০.০১ × ০.০০১ = কত?

**উত্তর:** ০.০০০০০০১।

৩৭. **প্রশ্ন:** সামন্তরিকের ক্ষেত্রফলের সূত্র কী?

**উত্তর:** ভূমি × উচ্চতা।

৩৮. **প্রশ্ন:** ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর যোগফল কত?

**উত্তর:** ৫০৫০।

৩৯. **প্রশ্ন:** সমকোণী ত্রিভুজের বৃহত্তম বাহুকে কী বলে?

**উত্তর:** অতিভুজ।

৪০. **প্রশ্ন:** একটি সংখ্যার ৫০% যদি ৩০ হয়, তবে সংখ্যাটি কত?

**উত্তর:** ৬০।

৪১. **প্রশ্ন:** সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা কোনটি?

**উত্তর:** ২।

৪২. **প্রশ্ন:** ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২,... পরবর্তী সংখ্যাটি কত?

**উত্তর:** ৬৪।

৪৩. **প্রশ্ন:** রম্বসের কর্ণদ্বয় পরস্পরকে কীভাবে ছেদ করে?

**উত্তর:** সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে।

৪৪. **প্রশ্ন:** ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি কত ডিগ্রী?

**উত্তর:** ১৮০°।

৪৫. **প্রশ্ন:** বৃত্তের ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ করলে ক্ষেত্রফল কতগুণ বৃদ্ধি পাবে?

**উত্তর:** ৪ গুণ।

### **বাংলাদেশ বিষয়াবলী (৪৬-৭০)**

৪৬. **প্রশ্ন:** ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি কত সালে পেশ করা হয়েছিল?

**উত্তর:** ১৯৬৬ সালে।

৪৭. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের সংবিধানের কোনভাগে 'আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান' উল্লেখ আছে?

**উত্তর:** ৩য় ভাগে।

৪৮. **প্রশ্ন:** 'ব্লু ইকোনমি' বা সমুদ্র অর্থনীতি ধারণার প্রবক্তা কে?

**উত্তর:** গুন্টার পাউলি।

৪৯. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন কে?

**উত্তর:** মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

৫০. **প্রশ্ন:** মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?

**উত্তর:** ১১টি সেক্টরে।

৫১. **প্রশ্ন:** মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত হয়?

**উত্তর:** ১০ এপ্রিল ১৯৭১।

৫২. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কী?

**উত্তর:** গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

৫৩. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?

**উত্তর:** তাজিংডং (বিজয়)।

৫৪. **প্রশ্ন:** সুন্দরবনকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' ঘোষণা করে কোন সংস্থা?

**উত্তর:** ইউনেস্কো।

৫৫. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?

**উত্তর:** ১৯৭৪ সালে।

৫৬. **প্রশ্ন:** মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র বীর বিক্রম উপাধিপাপ্ত বিদেশী নাগরিক কে?

**উত্তর:** ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড।

৫৭. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে 'বাংলাদেশ ব্যাংক' চালু হয় কবে?

**উত্তর:** ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।

৫৮. **প্রশ্ন:** দেশের বৃহত্তম বিল কোনটি?

**উত্তর:** চলন বিল।

৫৯. **প্রশ্ন:** জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?

**উত্তর:** সৈয়দ মাইনুল হোসেন।

৬০. **প্রশ্ন:** 'কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার'-এর স্থপতি কে?

**উত্তর:** হামিদুর রহমান।

৬১. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা কোনটি?

**উত্তর:** পঞ্চগড়।

৬২. **প্রশ্ন:** সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক কে?

**উত্তর:** সুপ্রিম কোর্ট।

৬৩. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশে ভ্যাট (VAT) প্রবর্তন করা হয় কত সালে?

**উত্তর:** ১ জুলাই ১৯৯১ সালে।

৬৪. **প্রশ্ন:** 'রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র' কোন জেলায় অবস্থিত?

**উত্তর:** পাবনা জেলায়।

৬৫. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ কোনটি?

**উত্তর:** ভুটান।

৬৬. **প্রশ্ন:** দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কোনটি?

**উত্তর:** সেন্টমার্টিন দ্বীপ।

৬৭. **প্রশ্ন:** ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

**উত্তর:** ১ জুলাই ১৯২১।

৬৮. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশ জাতিসংঘে কততম সদস্য পদ লাভ করে?

**উত্তর:** ১৩৬তম।

৬৯. **প্রশ্ন:** বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানসূচক সীমানা রেখা কোনটি অতিক্রম করেছে?

**উত্তর:** কর্কটক্রান্তি রেখা।

৭০. **প্রশ্ন:** বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কবে প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণা করে?

**উত্তর:** ৩০ অক্টোবর ২০১৭।

### **আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (৭১-৮৫)**

৭১. **প্রশ্ন:** আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এর সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?

**উত্তর:** দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস।

৭২. **প্রশ্ন:** জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব কে?

**উত্তর:** আন্তোনিও গুতেরেজ।

৭৩. **প্রশ্ন:** 'নেটো' (NATO) গঠিত হয় কত সালে?

**উত্তর:** ৪ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে।

৭৪. **প্রশ্ন:** জাপানের মুদ্রার নাম কী?

**উত্তর:** ইয়েন (Yen)।

৭৫. **প্রশ্ন:** বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?

**উত্তর:** জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

৭৬. **প্রশ্ন:** খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সদর দপ্তর কোথায়?

**উত্তর:** রোম, ইতালি।

৭৭. **প্রশ্ন:** সুয়েজ খাল কোন দুই সাগরকে যুক্ত করেছে?

**উত্তর:** ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর।

৭৮. **প্রশ্ন:** 'কিয়োটো প্রোটোকল' কিসের সাথে সম্পর্কিত?

**উত্তর:** গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো ও পরিবেশ রক্ষা।

৭৯. **প্রশ্ন:** 'সূর্যোদয়ের দেশ' বলা হয় কোন দেশকে?

**উত্তর:** জাপান।

৮০. **প্রশ্ন:** ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা 'ইউরো' চালু হয় কবে?

**উত্তর:** ১ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে।

৮১. **প্রশ্ন:** সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

**উত্তর:** ১৯৮৫ সালে।

৮২. **প্রশ্ন:** রেডক্রসের সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?

**উত্তর:** জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

৮৩. **প্রশ্ন:** আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় কত তারিখে?

**উত্তর:** ৮ই মার্চ।

৮৪. **প্রশ্ন:** আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস কবে?

**উত্তর:** ১০ ডিসেম্বর।

৮৫. **প্রশ্ন:** বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকারী দেশ কোনটি?

**উত্তর:** চীন।

### **সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার (৮৬-১০০)**

৮৬. **প্রশ্ন:** সূর্যালোক থেকে পাওয়া যায় কোন ভিটামিন?

**উত্তর:** ভিটামিন ডি।

৮৭. **প্রশ্ন:** মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?

**উত্তর:** ১২০/৮০ মিমি পারদ।

৮৮. **প্রশ্ন:** সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে কোন ধাতু?

**উত্তর:** পারদ।

৮৯. **প্রশ্ন:** রক্তের লাল রঙের জন্য দায়ী কোনটি?

**উত্তর:** হিমোগ্লোবিন।

৯০. **প্রশ্ন:** 'পেনিসিলিন' আবিষ্কার করেন কে?

**উত্তর:** অ্যালেক্সান্ডার ফ্লেমিং।

৯১. **প্রশ্ন:** বিদ্যুৎ পরিমাপের একক কোনটি?

**উত্তর:** অ্যাম্পিয়ার।

৯২. **প্রশ্ন:** প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রধানত কোন উপাদানটি থাকে?

**উত্তর:** মিথেন।

৯৩. **প্রশ্ন:** মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি কোনটি?

**উত্তর:** যকৃত।

৯৪. **প্রশ্ন:** CPU-এর পূর্ণরূপ কী?

**উত্তর:** Central Processing Unit.

৯৫. **প্রশ্ন:** RAM কী ধরনের মেমোরি?

**উত্তর:** অস্থায়ী মেমোরি (Volatile Memory)।

৯৬. **প্রশ্ন:** এক বাইট (1 Byte) সমান কত বিট?

**উত্তর:** ৮ বিট।

৯৭. **প্রশ্ন:** 'WWW'-এর পূর্ণরূপ কী?

**উত্তর:** World Wide Web.

৯৮. **প্রশ্ন:** AI-এর পূর্ণরূপ কী?

**উত্তর:** Artificial Intelligence.

৯৯. **প্রশ্ন:** বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট কতটি সংখ্যা ব্যবহৃত হয়?

**উত্তর:** ২টি (০ এবং ১)।

১০০. **প্রশ্ন:** বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় কোন গ্যাস?

**উত্তর:** নাইট্রোজেন।


৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান

 ১. Choose the synonym for 'fright'.

(ক) placidity (খ) composure (গ) apprehension (ঘ) equanimity

সঠিক উত্তরঃ (গ) apprehension

২. 'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'- বইটির লেখক কে?

(ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন (খ) আবুল মনসুর আহমদ

(গ) শামসুদ্দিন আবুল কালাম (ঘ) এস ওয়াজেদ আলী

সঠিক উত্তরঃ (খ) আবুল মনসুর আহমদ

৩. "... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth"- the statement occurs in

(ক) Robinson Crusoe (খ) A Doll's House (গ) Vanity Fair (ঘ) Gulliver's Travels

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) Gulliver's Travels

৪. বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?

(ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (খ) রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় (গ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

৫. ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি সাক্ষরিত হয়?

(ক) কিয়োটো প্রোটোকল (খ) মন্ট্রিল প্রোটোকল (গ) প্যারিস চুক্তি (ঘ) রামসার কনভেনশন

সঠিক উত্তরঃ  (খ) মন্ট্রিল প্রোটোকল

৬. "Rubiyat of Khayyam" is attributed to

(ক) Edward FitzGerald (খ) Scott Fitzgerald (গ) Thomas Fitzgerald (ঘ) William Fitzgerald

সঠিক উত্তরঃ (ক) Edward FitzGerald

৭. আশিষ নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন্ সংগঠনটি?

(ক) মুসলিম লীগ (খ) সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (গ) আর.এস.এস (ঘ) জমিয়তে-ই-হিন্দ

সঠিক উত্তরঃ (ক) মুসলিম লীগ

৮. ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?

 (ক) অক্ষর (খ) রূপমূল (গ) শব্দ (ঘ) বর্গ

সঠিক উত্তরঃ  (খ) রূপমূল

৯. গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?

(ক) সুইডেন (খ) ডেনমার্ক (গ) নরওয়ে (ঘ) ফিনল্যান্ড

সঠিক উত্তরঃ (খ) ডেনমার্ক

১০. ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?

(ক) লেখার ধরনে (খ) উচ্চারণের বিশিষ্টতায় (গ) সংখ্যাগত পরিমানে (ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে

১১. PQR ত্রিভুজের ∠Q=90° এবং ∠P=2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?

 (ক) PR=2QR (খ) PQ=2R (গ) PR=2PQ (ঘ) QR=2PQ

সঠিক উত্তরঃ (গ) PR=2PQ
১২. 'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরই বায়না'- এখানে ভুল ঘটেছে -

 (ক) বানান ও প্রচারের (খ) অর্থ ও প্রচারের (গ) অর্থ ও গঠনের (ঘ) বানান ও গঠনের

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) বানান ও বচনের


১৩. 'পুণ্যয়' শব্দের রূপ বলতে কি বোঝানো হয়?

(ক) বানর (খ) সিংহ (গ) পাপ (ঘ) বন
সঠিক উত্তরঃ (গ) পশু

১৪. logₓ4= -2 হলে x= কত?

 (ক) 1/2 (খ) -1/2 (গ) 2 (ঘ) -2

সঠিক উত্তরঃ (ক) ১/২


১৫. Identify the correct passive form, "People thought that the despot was corrupt".

 (ক) The despot had been thought to be corrupt

(খ) It was thought that the despot was corrupt

 (গ) The despot was the thought to be corrupt

 (ঘ) The despot is thought to be corrupt

সঠিক উত্তরঃ (গ) The despot was thought to be corrupt


১৬. একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ০২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

(ক) ৮ (খ) ১৬ (গ) ২ (ঘ) ১/২

সঠিক উত্তরঃ (গ) ২


১৭. The idiom 'icing on the cake' means -

(ক) a slice of the cake (খ) an attractive but unnecessary addition

(গ) an attractive service (ঘ) an attractive and essential enhancement

সঠিক উত্তরঃ (খ) an attractive but unnecessary addition


১৮. 'পরিবার থেকে শিশুরা দূর'- এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'য়'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?

(ক) উপসর্গ (খ) প্রত্যয় (গ) ধাতু (ঘ) বলক

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) বলক

১৯. 'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an

(ক) adjective (খ) noun (গ) preposition (ঘ) pronoun
সঠিক উত্তরঃ (গ) Preposition

২০. ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

(ক) ৫ (খ) ২৫ (গ) ১ (ঘ) ১০

সঠিক উত্তরঃ (গ) ১


২১. Identify the word that can be used as both singular and plural

(ক) light (খ) shot (গ) criterion (ঘ) cannon

সঠিক উত্তরঃ (গ) Cannon
২২. প্রাচীন কালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারনা প্রথম উদ্ভূত হয়?

 (ক) মিশর (খ) গ্রীস (গ) চীন (ঘ) রোম

সঠিক উত্তরঃ  চীন


২৩. The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname

 (ক) Ellise Bellet (খ) Ellis Belle (গ) Ellis Bell (ঘ) Una Ellis

সঠিক উত্তরঃ (গ) Ellis Bell


২৪. মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) কায়কোবাদ (গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী

সঠিক উত্তরঃ (গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত


২৫. লর্ড কর্নওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন ভূমিকায় ছিলেন?

 (ক) ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী (খ) ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত

(গ) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান (ঘ) কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

সঠিক উত্তরঃ  গ) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান


২৬. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?

 (ক) প্যারিস চুক্তি (খ) ভার্সাই চুক্তি (গ) জেনেভা চুক্তি (ঘ) রোম চুক্তি

সঠিক উত্তরঃ (খ) ভার্সাই চুক্তি
২৭. সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?

(ক) Parliament (খ) National Parliament (গ) Legislature (ঘ) The House of the Nation

সঠিক উত্তরঃ (খ) National Parliament
২৮. কাজী নজরুল ইসলামের কোন্ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর?

(ক) বাঁধন-হারা (খ) মৃত্যুক্ষুধা (গ) কুহেলিকা (ঘ) শিউলিমালা

সঠিক উত্তরঃ (গ) কুহেলিকা
২৯. 'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?

 (ক) স্বীয়-এর অধীন (খ) স্বত্তার অধীন (গ) স্ব-এর অধীন (ঘ) স্বত্তের-অধীন

সঠিক উত্তরঃ(গ) স্ব-এর অধী
৩০. একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?

(ক) 200 (খ) 300 (গ) 400 (ঘ) 500

সঠিক উত্তরঃ (গ) 400


৩১. একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?

(ক) ৫ (খ) ৬ (গ) ৭ (ঘ) ৮

সঠিক উত্তরঃ (গ) ৭


৩২. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?

 (ক) সিলেট (খ) চট্টগ্রাম (গ) মৌলভীবাজার (ঘ) পঞ্চগড়

সঠিক উত্তরঃ (গ) মৌলভীবাজার  
৩৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?

 (ক) হ্যারি এস. ট্রুম্যান (খ) ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট (গ) রিচার্ড নিক্সন (ঘ) জর্জ ডাব্লিও বুশ

সঠিক উত্তরঃ (ক) হ্যারি এস. ট্রুম্যান

৩৪. Pick the correctly spelt word

(ক) Conscintious (খ) Consientious (গ) Concientious (ঘ) Conscientious

সঠিক উত্তরঃ  (ঘ) Conscientious
৩৫. নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?

(ক) বুলগেরিয়া (খ) হাঙ্গেরি (গ) পোল্যান্ড (ঘ) সুইজারল্যান্ড

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) সুইজারল্যান্ড
৩৬. Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?

(ক) শিশু মৃত্যুরহার হ্রাস (খ) জন্মহার শূন্যের কোটায় আনা (গ) জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার (ঘ) কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
৩৭. 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?

 (ক) দাস (খ) প্রতিজ্ঞা (গ) কোমর (ঘ) প্রতিশ্রুত

সঠিক উত্তরঃ (খ) প্রতিজ্ঞা  
৩৮. হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

(ক) ব্রুনেই (খ) মালয়েশিয়া (গ) সিংগাপুর (ঘ) তানজানিয়া

সঠিক উত্তরঃ  (গ) সিংগাপুর

৩৯. ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?

(ক) ইন্দো-আর্য (খ) দ্রাবিড় (গ) অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা) (ঘ) তিব্বত-বর্মী
সঠিক উত্তরঃ (গ) অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক

৪০. কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?

(ক) নীরব (খ) উজ্জ্বল (গ) মানোত্তীর্ণ (ঘ) সংগ্রাম
সঠিক উত্তরঃ (ক) নীরব

৪১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিস'। তমদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কোন্ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?

(ক) রসায়ন (খ) পদার্থ বিজ্ঞান (গ) অর্থনীতি (ঘ) ইসলামী শিক্ষা
সঠিক উত্তরঃ  (খ) পদার্থ বিজ্ঞান

৪২. নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?

(ক) নাগাল্যান্ড (খ) মিজোরাম (গ) মেঘালয় (ঘ) আসাম
সঠিক উত্তরঃ (ক) নাগাল্যান্ড

৪৩. কেপ ভার্দে (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?

(ক) গালফ অফ গিনি (খ) ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া (গ) দক্ষিণ আফ্রিকা (ঘ) পশ্চিম আফ্রিকা
সঠিক উত্তরঃ (ঘ) পশ্চিম আফ্রিকা

৪৪. একটা লোহার গোলক গলিয়ে একটি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক।

 (ক) ৪ (খ) ৮ (গ) ১৬ (ঘ) ২
সঠিক উত্তরঃ (খ) ৮

৪৫. Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?

(ক) Claire Clairmont (খ) Marry Wollstonecraft (গ) Mary Wollstonecraft Godwin (ঘ) Mary Shelley
সঠিক উত্তরঃ  (খ) Marry Wollstonecraft

৪৬. যদি M={a,b,1,2} এবং N={1,2} হয়, তবে N - M এর মান কত?

 (ক) { } (খ) {a,b} (গ) {0} (ঘ) {-a, -b}
সঠিক উত্তরঃ  (ক) { }

৪৭. Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it ______ the park with her performance in culinary art'.

 (ক) outside (খ) out of (গ) inside (ঘ) off
সঠিক উত্তরঃ (খ) out of

৪৮. ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?

(ক) ১৯৪৮ (খ) ১৯৭৪ (গ) ১৯৬৫ (ঘ) ১৯৮০
সঠিক উত্তরঃ (ক)

৪৯. দুইটি সংখ্যার ল.সা.গু 4x² + 12x² - 16x - 48, গ.সা.গু 2x + 4। একটি সংখ্যা 4x²+20x+24 হলে অপরটি - (ক) x²-4 (খ) 2(x²-4) (গ) 4(x²-4) (ঘ) x+2

৫০. বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয় ' এই ঐতিহাসিকের নাম কি?

(ক) এন্থনি মাসকারেনহাস (খ) লরেন্স জিরিং (গ) লরেঞ্জ লিফশুজ্ (ঘ) হেনরি কিসিঞ্জার
সঠিক উত্তরঃ  (খ) লরেন্স জিরিং

৫১. একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। রিপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাবনা কত?

(ক) 5/7 (খ) 2/7 (গ) 5/12 (ঘ) ¼

সঠিক উত্তরঃ (ক) 5/7
৫২.  ফররুক আহমদের প্রস্থ কোনটি?

(ক) হরফের ছড়া (খ) বর্ণশিক্ষা (গ) বর্ণপরিচয় (ঘ) সহজ পাঠ

সঠিক উত্তরঃ (ক) হরফের ছড়া

৫৩. কোন যান্ত্রিক পিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?

(ক) আগে (খ) জোরে (গ) একইভাবে (ঘ) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তরঃ   (খ) জোরে

৫৪. একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ প্রথম দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?

(ক) ৩০ (খ) ৬০ (গ) ৯০ (ঘ) ৪৫

সঠিক উত্তরঃ (খ) ৬

৫৫. কোন  ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?

 (ক) ক্রন্দন > কাঁদা (খ) অঞ্চল > আঁচল(গ) সৎগীত > গীতিকা (ঘ) দন্ত > দাঁত

সঠিক উত্তরঃ (গ) সৎগীত > গীতিকা

৫৬. Which gender is the noun 'neighbour'?

(ক) Masculin (খ) Feminine (গ) Neuter (ঘ) Common

সঠিক উত্তরঃ ঘ) Common

৫৭. A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an

(ক) immigrant (খ) expatriate (গ) emigrant (ঘ) migrant

সঠিক উত্তরঃ(গ) emigrant

৫৮. ‘কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্রের মূল কারণ’- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?

(ক) Development as Freedom (খ) Women and Human Development (গ) Development through Disposition (ঘ) Development, Environment and Power

সঠিক উত্তরঃ (ক) Development as Freedom

৫৯. Which sentence is correct?

(ক) The picture was hanged on the wall (খ) The picture was hung on the wall (গ) The picture was hanged on the wall (ঘ) The picture had hunged on the wall

সঠিক উত্তরঃ   (খ) The picture was hung on the wall

৬০. একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20। ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?

(ক) 100 (খ) 150 (গ) 200 (ঘ) 300

সঠিক উত্তরঃ (খ) 150  

৬১. নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

 (ক) ১৯৩৯ (খ) ১৯৪৩ (গ) ১৯৪৯ (ঘ) ১৯৬০

সঠিক উত্তরঃ (গ) ১৯৪৯

৬২. সম্প্রতি বাংলাদেশের সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধান মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত?

(ক) পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)

(খ) পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)

(গ) পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)

(ঘ) জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান

সঠিক উত্তরঃ (গ) পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)  

৬৩. The play "Englishmen for My Money" was written by

(ক) Christopher Marlowe (খ) Thomas Kyd (গ) William Haughton (ঘ) Ben Johnson

সঠিক উত্তরঃ (গ) William Haughton

৬৪. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?

(ক) তথ্য মন্ত্রণালয় (খ) প্রেস কাউন্সিল (গ) বিটিআরসি (ঘ) বাংলাদেশ টেলিভিশন

সঠিক উত্তরঃ (খ) প্রেস কাউন্সিল

৬৫. নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, ৯, ২৫, ৫, ৪৯, ......;

(ক) ৮ (খ) ৯ (গ) ১০ (ঘ) ১২

সঠিক উত্তরঃ (খ) ৯

৬৬. যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?

(ক) শুক্রবার (খ) বুধবার (গ) সোমবার (ঘ) রবিবার

সঠিক উত্তরঃ (খ) বুধবার  

৬৭. 'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থ ধারণ করছে?

(ক) জোর (খ) উর্ধ্ব (গ) আড়াল (ঘ) গতি

সঠিক উত্তরঃ   (খ) উর্ধ্ব

৬৮. Select the sentence in which 'better' is an adverb

(ক) We're helping for better weather tomorrow

 (খ) Sound travels better in water than in air

 (গ) It's hard to decide which one is better

(ঘ) He joined the gym to better his health

সঠিক উত্তরঃ  (খ) Sound travels better in water than in air

৬৯. 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'. In this sentence the verb 'sneezed' is

(ক) causative (খ) intransitive (গ) transitive (ঘ) factitive

সঠিক উত্তরঃ  (খ) intransitive

৭০. ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করতে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?

 (ক) হাকিম আজমল খান (খ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক (গ) স্যার সলিমুল্লাহ (ঘ) স্যার আব্দুর রহিম

সঠিক উত্তরঃ (গ) স্যার সলিমুল্লাহ

৭১. 'We know that the earth is a planet' The underlined part is a/an

(ক) noun clause (খ) adverbial clause (গ) adjective clause (ঘ) principal clause

সঠিক উত্তরঃ (ক) noun clause

৭২. পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?

(ক) বিচারপতি সাত্তার (খ) বিচারপতি সায়েম (গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী (ঘ) বিচারপতি হামদুর রহমান

সঠিক উত্তরঃ (ক) বিচারপতি সাত্তার

৭৩. কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?

(ক) ডাক্তারখানা (খ) হাসপাতাল (গ) আকাশছোঁয়া (ঘ) গুণমান

সঠিক উত্তরঃ  (ঘ) গুণমান

৭৪. আইনাঘর কী?

(ক) স্বচ্ছ কামরা (খ) পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ (গ) গোপন কারাগার (ঘ) একটি হলিডে মুভি

সঠিক উত্তরঃ (গ) গোপন কারাগার

৭৫. আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?

(ক) চীন ও আফগানিস্তান (খ) চীন ও ইংল্যান্ড (গ) চীন ও রাশিয়া (ঘ) ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান

সঠিক উত্তরঃ  (খ) চীন ও ইংল্যান্ড

৭৬. একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

(ক) 2√2 মিটার (খ) 2√3 মিটার (গ) 2 মিটার (ঘ) 2√6 মিটার

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) 2√6 মিটার


৭৭. নিম্নোক্ত কোন্ দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?

(ক) তিমুর লিস্টি (খ) দক্ষিণ সুদান (গ) ওয়েস্টার্ন সাহারা (ঘ) সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক

সঠিক উত্তরঃ

৭৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?

 (ক) এ-কার মাত্র যুক্ত বলে (খ) 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে (গ) 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে (ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে

সঠিক উত্তরঃ  (ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে

৭৯. একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

(ক) ৩ (খ) ১.৫ (গ) ১ (ঘ) ০.৫

সঠিক উত্তরঃ (গ) ১

৮০. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?

(ক) ২৬ মার্চ (খ) ২১ ফেব্রুয়ারী (গ) ১৬ ডিসেম্বর (ঘ) ৫ আগষ্ট

সঠিক উত্তরঃ (ক) ২৬ মার্চ


৮১. ax+by=a², bx-ay=ab; এই সহ-সমীকরণের (x,y) এর সমাধান কোনটি?

(ক) (a²,b²) (খ) (a,b) (গ) (0,a) (ঘ) (a,0)

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) (a,0)

৮২. 'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a an

(ক) adverb (খ) adjective (গ) noun (ঘ) conjunction

সঠিক উত্তরঃ (খ) adjective

৮৩. বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?

(ক) UNOSOM (খ) UNMOGIP (গ) UNTSO (ঘ) UNEF 1.

সঠিক উত্তরঃ (গ) UNTSO.

৮৪. চব্বিশের গণঅভুধানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের  সংস্কার বিষয়ে ঐক্যমতের অন্যতম প্রস্তাব কি?

(ক) দ্বি-বিশিষ্ট সংসদ  (খ) সংসদের আসন বৃদ্ধি (গ) সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল (ঘ) পি আর (PR) চালু করা

সঠিক উত্তরঃ (ক) দ্বি-বিশিষ্ট সংসদ

৮৫. তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?

(ক) জালাল তালাবানী (খ) মাসুদ বারজানী (গ) মাজলুম আবদি (ঘ) আবদুল্লাহ ওচালান

সঠিক উত্তরঃ(ঘ) আবদুল্লাহ ওচালান

৮৬. বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিচের কোন্ অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?

(ক) বাক-স্বাধীনতার অধিকার (খ) শিক্ষার অধিকার (গ) সভা সমাবেশের অধিকার (ঘ) ধর্মচর্চার অধিকার

সঠিক উত্তরঃ(খ) শিক্ষার অধিকার

৮৭. ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩:২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের  ভারসাম্য থাকবে?

 (ক) ৪৫ (খ) ৩০ (গ) ১৫ (ঘ) ৫

সঠিক উত্তরঃ (গ) ১৫

৮৮. পারিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-

 (ক) ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর (খ) বিদেশি শব্দের অনুবাদ (গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ (ঘ) ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ

সঠিক উত্তরঃ  (গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ

৮৯. জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?

(ক) Generalized System of Preference (খ) Global System of Positioning (গ) Global Strategic Partnership (ঘ) Government Support Program

সঠিক উত্তরঃ (ক) Generalized System of Preference

৯০. নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশন বা SCO এর সদস্য নয়?

(ক) আজারবাইজান (খ) ভারত (গ) পাকিস্তান (ঘ) ইরান

সঠিক উত্তরঃ(ক) আজারবাইজান

৯১. চর্যাপদের খন্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে বাংলায় রুপান্তর করেন- (ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (গ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র (ঘ) সুকুমার সেন

সঠিক উত্তরঃ (খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

৯২. 'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?

 (ক) তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না (খ) তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন (গ) তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে (ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন

৯৩. আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চন্ডীদাস নামে কত জন  কবি ছিলেন?

 (ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫

সঠিক উত্তরঃ  (খ) ৩

৯৪. চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী,চীন বা তীব্বতে কী নামে পরিচিত?

 (ক) ইয়ারসি (খ) লিজিয়াং (গ) হুয়াইলি (ঘ) ইয়ারলাং সাংপো

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) ইয়ারলাং সাংপো

৯৫. 'They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an

 (ক) participle (খ) infinitive (গ) verbal noun (ঘ) gerund

সঠিক উত্তরঃ (ঘ) gerund

৯৬. নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?

 (ক) অস্ট্রেলিয়া (খ) ফ্রান্স (গ) নিউজিল্যান্ড (ঘ) কানাডা

সঠিক উত্তরঃ(খ) ফ্রান্স


৯৭. x²+6x-27< 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?

(ক) [-9, 3] (খ) [3, ∞) (গ) (-9, 3) (ঘ) (-∞, -9]

সঠিক উত্তরঃ (গ) (-9, 3)

৯৮. 'শিক্ষককে  বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী হয়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে -

(ক) একবচন বোঝাতে (খ) বহুবচন বোঝাতে

(গ) একবচন বোঝাতে (ঘ) প্রথমটি একবচন ও পরেরটি বহুবচন বোঝাতে

সঠিক উত্তরঃ (খ) বহুবচন বোঝাতে

৯৯. বাংলাদেশে ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?

(ক) International Conference on Civil and Political Rigbts

(খ) International Conference on Civil and Political Rights

(গ) International Covenant on Civil and Political Rights

(ঘ) International Covenant of Civil and Political Rights

সঠিক উত্তরঃ (গ)  International Covenant on Civil and Political Rights

সঠিক উত্তরঃ (গ) International Covenant on Civil and Political Rights

১০০. বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথমে কে অবস্থান করেন?

 (ক) প্রধানমন্ত্রী (খ) রাষ্ট্রপতি (গ) প্রধান উপদেষ্টা (ঘ) প্রধান বিচারপতি

সঠিক উত্তরঃ (খ) রাষ্ট্রপতি





পরীক্ষার প্রশ্ন........

Catagories