পাঠ্যবইয়ের **ইউনিট-২: গবেষণার শ্রেণিবিভাগ (Types of Research)**-এর সম্পূর্ণ লেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
# ইউনিট ২: গবেষণার শ্রেণিবিভাগ
**(Types of Research)**
একটা কথা সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে গবেষণার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে গবেষণাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। অন্যান্য যে কোনো প্রচলিত ও জনপ্রিয় বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রের ন্যায় শিক্ষা গবেষণাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: **মৌলিক (fundamental) গবেষণা** এবং **ফলিত (applied) গবেষণা**। মৌলিক গবেষণা প্রধানত কোনো তত্ত্বীয় ধারণা উদ্ভাবনের লক্ষ্যে পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে তত্ত্ব উদ্ভাবন, প্রসার ও বিস্তৃতি ঘটানো সম্ভব। মৌলিক গবেষণা অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কোনো নতুন সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে পরিচালনা করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণার চেয়ে ফলিত গবেষণাই বেশি প্রচলিত। যেখানে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, যেখানে প্রচলিত ব্যবস্থা ও কৌশলের চেয়ে নতুনভাবে পরীক্ষিত কৌশল বেশি উপযোগী হতে পারে বলে মনে করা হয় সেসকল ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বা ফলিত শিক্ষা গবেষণা নিয়ে কাজ করা হয়। আবার মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন তত্ত্ব বা পরিবর্তিত তত্ত্ব প্রয়োগের মাধ্যমেও ফলিত বা ব্যবহারিক গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
উন্নতবিশ্ব মৌলিক এবং ফলিত দুই প্রকারের গবেষণাই পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশসমূহে মূলত নিজস্ব সমস্যাভিত্তিক ফলিত গবেষণা পরিচালনা করা হয়। প্রত্যেক উন্নয়নশীল দেশ তার নিজস্ব আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক উন্নয়নকল্পে জরুরি ভিত্তিতে ফলিত শিক্ষা গবেষণা পরিচালনার উপর গুরুত্বারোপ করে থাকে।
মৌলিক ও ফলিত গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা গবেষণাকে আরও বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
* ক) ঐতিহাসিক গবেষণা
* খ) বর্ণনামূলক গবেষণা
* গ) পরীক্ষামূলক গবেষণা
* ঘ) পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা
* ঙ) জরিপ গবেষণা
* চ) কেস স্টাডি বা ঘটনা অনুধ্যান
* ছ) কর্মসহায়ক গবেষণা
গবেষণার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গভীরতা, বিস্তৃতি, সুযোগ, সময়, বিশ্লেষণের মাত্রা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় বিবেচনাপূর্বক গবেষণার বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে। এই ইউনিটে মূলত শ্রেণিবিভাগের মানদণ্ড বাদ দিয়ে বহুল প্রচলিত গবেষণার কিছু ধারা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
### ২.১ ঐতিহাসিক গবেষণা (Historical Research)
ঐতিহাসিক গবেষণা সাম্প্রতিক, অতীতকালের কিংবা দূরবর্তী অতীতকালের কোনো ঘটনার বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন। এটা একপ্রকার গুণগত গবেষণা যেখানে গবেষক অতীতের কোনো ঘটনা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উপসংহারে উপনীত হন এবং ভবিষ্যতের ঘটনাবলির ক্ষেত্রে অনুমান/ভবিষ্যৎবাণী করেন। ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষক বিভিন্ন উৎস থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এখানে উপাত্তের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিশ্বস্ততা বা বৈধতা খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। যেমন- তথ্য-উপাত্ত যে সময়ের বলে দাবী করা হচ্ছে আসলেই সেই সময়ের কিনা, যে লেখক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছেন প্রকৃতপক্ষে তিনি বিশ্বাসযোগ্য কিনা অথবা ঐ বিষয়ের তথ্য সরবরাহের জন্য উপযুক্ত উৎস কিনা; কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার দলিল আসলেই সেই সময়ে লিপিবদ্ধ হয়েছিল কিনা অথবা ঘটনা ঘটার কত সময় পরে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে— এমন অনেকগুলো বিষয় গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য উপাত্ত ঐতিহাসিক গবেষণায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হয়।
ঐতিহাসিক গবেষণা অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে এবং একটা ধারাবাহিক পথরেখা অঙ্কন করতে সাহায্য করে। ফলে আমরা কোন দিক থেকে এসেছি এবং কোন দিকে যাচ্ছি তা বুঝতে সুবিধা হয়। এমনকি অতীতের কোনো ঘটনা বা বিষয় সমাধানের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়।
ঐতিহাসিক গবেষণা একটা ধারাবাহিক এবং পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া যেখানে কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো নিম্নরূপ:
* ক) গবেষণার বিষয় নির্ধারণ এবং গবেষণা সমস্যার বিবরণ বা গবেষণা প্রশ্ন প্রস্তুতকরণ
* খ) সংশ্লিষ্ট গবেষণাকর্মের পর্যালোচনা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ
* গ) উপকরণ মূল্যায়ন
* ঘ) উপাত্ত সংশ্লেষণ
* ঙ) প্রতিবেদন তৈরি করা
বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গবেষণা একজন সমাজ গবেষককে ঘটনা বিশ্লেষণের উত্তম প্রেক্ষাপট সরবরাহ করে। ঐতিহাসিক গবেষণার সুবিধার পাশাপাশি কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। উদাহরণ: পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কারণ উদঘাটন এবং তা থেকে শিক্ষণীয়।
#### সুবিধাসমূহ
* ঐতিহাসিক ঘটনাক্রমের একটা সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা যায়।
* বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহৃত হয়।
* চলমান ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে প্রমাণ সরবরাহ করে।
#### সীমাবদ্ধতাসমূহ
* ঐতিহাসিক গবেষণা সময় সাপেক্ষ।
* সঠিক তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পাওয়া কষ্টকর।
* তথ্য-উপাত্ত অনেক সময় সাংঘর্ষিক হয়ে থাকে।
* অনেক সময় সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যায় না।
* তথ্য-উপাত্ত অসম্পূর্ণ, অসংলগ্ন, অপ্রয়োজনীয় কিংবা ভুল হতে পারে।
* বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তের মধ্যেই উপাত্তের উৎস সীমিত।
### ২.২: বর্ণনামূলক গবেষণা (Descriptive Research)
বর্ণনামূলক গবেষণা বলতে এমন গবেষণাকে বোঝায় যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে সঠিক চিত্র প্রদান করে। এটাকে পরিসংখ্যানিক গবেষণাও বলা হয়। বর্ণনামূলক গবেষণায় মূলত নির্ধারিত ঘটনা বা জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়ে থাকে। সাধারণত এটা 'কী' প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে চেষ্টা করে, "কেমন করে, কেন, কীভাবে"— এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এই গবেষণায় 'কী' প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা হয়। সুতরাং জরিপ এবং পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ধরনের গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।
বর্ণনামূলক গবেষণার উদ্দেশ্য হলো কোনো কিছুর অর্থ খুঁজে বের করা, যা কিছু বিদ্যমান তা বর্ণনা করা, কোনো ঘটনা ঘটার হার নির্ণয় করা এবং তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস করা। বলতে গেলে, বর্ণনামূলক গবেষণা কাজ করে সেসব বিষয় নিয়ে যা গণনাযোগ্য এবং অধ্যয়নযোগ্য। বর্ণনামূলক গবেষণা গুণগত গবেষণাও হতে পারে। আবার পরিমাণগত গবেষণাও হতে পারে। এটা সংখ্যাবাচক তথ্য-উপাত্তকে ছকে সাজিয়ে উপস্থাপন করতে পারে, আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির তথ্যসমূহকে বর্ণনা করতে পারে। এই গবেষণায় কোনো ঘটনা বা বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা সাজানো, বিশ্লেষণ, লিপিবদ্ধ এবং বর্ণনা করা হয়। তথ্য-উপাত্ত পাঠক যেন সহজে বুঝতে পারে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের চার্ট এবং গ্রাফ সন্নিবেশ করা হয় (গ্লাস এবং হপকিনস, ১৯৮৪)।
**উদাহরণ:**
একটা এলাকার শিশুদের সচরাচর যে রোগটি ঘন ঘন হয় তা খুঁজে বের করা। এই ধরনের গবেষণার মাধ্যমে তাহা নির্ণয় করা সম্ভব। রোগটি প্রতিরোধ করতে কী কী করণীয়, যার ফলে মানুষ সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবে।
#### সুবিধা:
* এই গবেষণায় তথ্যদাতারা গবেষণার ব্যাপারে অসচেতন থাকে ফলে তারা দৈনন্দিন জীবনের মতো স্বাভাবিক আচরণ করে।
* ঐতিহাসিক গবেষণার তুলনায় এই গবেষণা স্বল্পব্যয়ী এবং সময় সাশ্রয়ী।
* বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার জন্য খুঁটিনাটি টীকা সংগ্রহ করা হয়।
* এ গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু বর্ণনা করা এবং কোনো উপসংহারে উপনীত হওয়া নয়।
#### অসুবিধা:
* বর্ণনামূলক গবেষণায় গবেষককে অনেক বেশি দক্ষ হতে হয়।
* কোনো ঘটনার পিছনের কারণ অনুসন্ধান করা হয় না।
* এই গবেষণায় তথ্যদাতাদের উত্তর দেওয়ার হার খুবই কম।
* এই গবেষণার ফলাফল সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল।
### ২.৩: পরীক্ষামূলক গবেষণা (Experimental Research)
পরীক্ষামূলক গবেষণা মূলত কার্যকারণ অনুসন্ধান এবং একাধিক চলকের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এই গবেষণায় কোনো ঘটনা বা বিষয়ের 'কারণ' এবং 'প্রভাব' সম্পর্কগুলো পরীক্ষা করে। একটি পরিবর্তনশীল চলক এবং অন্য চলকগুলোর মধ্যে সম্পর্ক অধ্যয়ন করার জন্য এই ধরনের গবেষণা ব্যবহৃত হয়। এ বহুল প্রচলিত গবেষণা মূলত পরিমাণগত গবেষণার একটি প্রকারভেদ। দুই বা ততোধিক চলকের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণে বা তুলনা করার ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক গবেষণা ব্যবহার করে। এই গবেষণায় একটি চলক অন্য চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে কিনা তা দেখা হয়। পরীক্ষামূলক গবেষণায় কতকগুলো অনুমিত সিদ্ধান্ত বা হাইপোথিসিস-এর উত্তর খোঁজা হয়। একটি হাইপোথিসিস বা অনুমিত সিদ্ধান্ত হলো একটি পরীক্ষণযোগ্য বা যাচাইযোগ্য বিবৃতি যা একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে গবেষককে সাহায্য করে। পরবর্তীতে গবেষক ঐ অনুমিত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষামূলক গবেষণার নকশা করে যা হাইপোথিসিসকে সমর্থন বা বিরোধিতা করে।
পরীক্ষামূলক গবেষণা ভালোমতো বোঝার জন্য এই গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু টার্ম বা পরিভাষা বোঝা খুব জরুরি। মূলত **স্বাধীন চলক (independent variable)**, **অধীন চলক (dependent variable)**, **পরীক্ষামূলক দল (experimental group)** এবং **নিয়ন্ত্রিত দল (control group)**— এই চারটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।
* **স্বাধীন চলক (Independent Variable):** এটি গবেষক কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তনশীল চলক, যা "কারণ" বা ট্রিটমেন্ট চলক হিসেবে পরিচিত। এটা কোনো বৈশিষ্ট্য বা কোনো আচরণও হতে পারে যেটা কোনো কিছুকে প্রভাবিত করে বলে গবেষক মনে করেন। যেমন- কোনো গবেষণায় শিশুদের বয়সের সাথে শারীরিক বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা হবে। তাহলে শিশুদের বয়স এখানে স্বাধীন চলক ধরে নেওয়া যায়, যার উপর তাদের শারীরিক বৃদ্ধি নির্ভরশীল।
* **অধীন চলক (Dependent Variable):** এই চলকটি স্বাধীন চলকের প্রভাব বা ফলাফল, যা স্বাধীন চলকের উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো ফলাফলটি পরিমাপযোগ্য হতে হবে। উপরের গবেষণায় শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এক্ষেত্রে অধীন চলক।
* **পরীক্ষামূলক দল (Experimental Group):** গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দলটির উপর স্বাধীন চলকের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা হয়। অর্থাৎ যে দলের উপর ট্রিটমেন্ট চলকের প্রভাব দেখা হয় সেটাই পরীক্ষামূলক দল।
* **নিয়ন্ত্রিত দল (Control Group):** নিয়ন্ত্রিত দল হলো সেটাই যার উপর কোনো ট্রিটমেন্ট প্রয়োগ করা হয় না কিন্তু তাকেও গবেষণার ঐ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরীক্ষার আওতায় রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এই নিয়ন্ত্রিত দল থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং পরীক্ষামূলক দলের ফলাফলের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়।
**উদাহরণ:**
ধরা যাক, একজন গবেষক বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি ক্লাসে "বাংলাদেশ এবং গ্লোবাল স্টাডিস" বিষয় পাঠদানের ক্ষেত্রে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' এর প্রভাব যাচাই করতে চান। এক্ষেত্রে হাইপোথিসিস বা অনুমিত সিদ্ধান্ত হলো 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' পদ্ধতিতে পাঠ পরিচালনা করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করবে। এক্ষেত্রে গবেষক শুরুতেই এই কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমযোগ্যতাসম্পন্ন দুটি পৃথক দলে ভাগ করে নিবেন। যেখানে প্রথম সেকশনে গতানুগতিক পদ্ধতিতে (যেভাবে এতদিন পড়ানো হতো) পাঠদান করা হবে, অন্যদিকে অন্য সেকশনে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' পাঠদান কৌশল ব্যবহার করে একই বিষয় পাঠদান করা হবে। উভয় সেকশনেই পাঠের উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু একই হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অন্তর একই প্রশ্নপত্রে দুই সেকশনে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য এই দুই দলের ফলাফল তুলনা করা হবে। এখানে 'ফ্লিপড ক্লাসরুম' কৌশল স্বাধীন চলক এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল অধীন চলক। আর যে সেকশনে ফ্লিপড ক্লাসরুম কৌশল ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়েছে সেটা পরীক্ষামূলক দল, আর যে সেকশনে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়েছে সেটা নিয়ন্ত্রিত দল। এটি পরীক্ষামূলক গবেষণা নকশা ব্যবহারের একটি চমৎকার উদাহরণ।
#### সুবিধা:
* বিভিন্ন চলকের মধ্যে কারণ এবং ফলাফলের সম্পর্ক নির্ধারণে পরীক্ষামূলক গবেষণা খুবই কার্যকরী।
* এই গবেষণায় চলকের উপর গবেষকের নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং অন্যান্য চলকের প্রভাব বাদ দেওয়া বা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
* পরীক্ষামূলক গবেষণায় গবেষণার পরিবেশ, পর্যবেক্ষণ দল এবং অন্যান্য চলকের উপর গবেষকের নিয়ন্ত্রণ থাকে ফলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
* এই গবেষণায় একই শর্ত মেনে একইভাবে গবেষণার পুনরাবৃত্তি করে ফলাফল পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ থাকে, ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি হয়।
#### অসুবিধা:
* সকল ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক গবেষণা করা যায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবতার বিবেচনায় কিংবা নৈতিক বিবেচনায় গবেষণা করা যায়।
* পরীক্ষামূলক গবেষণার বিরুদ্ধে আরেকটা অভিযোগ হলো এটা কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে গবেষণা চালিয়ে থাকে, যা অনেক সময় বাস্তবতা বিবর্জিত।
* মানুষ মাত্রই ভুল করে— তাই এই ধরনের গবেষণায়ও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* স্বাধীন চলকের উপর গবেষকের নিজস্ব প্রভাব পড়ে ফলে স্বাধীন চলক স্বাধীনতা হারায়, এতে গবেষণার ফলাফল পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে।
* পরীক্ষামূলক গবেষণার ফলাফল সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে না, ফলে সাধারণীকরণ করা যায়না।
* পরীক্ষামূলক গবেষণার ক্ষেত্র অনেক বড় হলে (যেমন- হাসপাতাল, স্কুল ইত্যাদি) বহিরাগত চলক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, ফলে সঠিক কার্যকারণ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
### ২.৪: পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা
**(Quantitative, Qualitative and Mixed Methods in Education Research)**
সাধারণত শিক্ষা ক্ষেত্রে তিন ধরনের গবেষণা প্রচলিত যথা: পরিমাণবাচক, গুণবাচক এবং মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা।
#### ২.৪.১: পরিমাণবাচক গবেষণা (Quantitative Research)
পরিমাণবাচক গবেষণায় সংখ্যাগত বা পরিমাণবাচক উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করা হয়। এই গবেষণায় সংখ্যাগত পরিসংখ্যানের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল নির্ধারিত হয়। পরিমাণবাচক উপাত্ত হলো বিভিন্ন সংখ্যা এবং পরিসংখ্যান। এখানে সুবিধা হলো যে অনেক বেশি তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করা যায়। উত্তম গবেষণা নকশার মাধ্যমে গবেষণা করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা সমগ্র তথ্যবিশ্বের জন্য সাধারণীকরণ করা যায়। এই গবেষণায় অবশ্য একটা ত্রুটি আছে সেটা হলো গবেষণার গভীরতা। এখানে গভীরতার অভাব হতে পারে (যেমন- এই গবেষণায় ঘটনার পিছনের কারণ অনুসন্ধান, প্রেক্ষাপট, আবেগ বা অনুভূতি বিশ্লেষণের সুযোগ থাকে না)। এই গবেষণায় সঠিকভাবে উপাত্ত বিশ্লেষণের জন্য গবেষককে গাণিতিক এবং পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে হবে।
পরিমাণবাচক গবেষণায় অনুমিত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করতে এবং আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করার লক্ষ্যে সংখ্যাবাচক উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয় এবং চিত্রের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়। গবেষক সংখ্যার ব্যবহার করে উন্নত এবং শক্তিশালী পরিসংখ্যান ব্যবহার করেন, যাতে ফলাফলের একটি পরিসংখ্যানগত ভিত্তি থাকে। এটি শুধু যেন একটি অনুমানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ না হয়। পরিমাণবাচক গবেষণায় সবার আগে গবেষক কী পরিমাপ করছেন তা উল্লেখ করতে হয়। গবেষক যা খুঁজছেন তা উল্লেখ করলে তাঁর মনোযোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক জিনিসে নিমগ্ন থাকে।
##### পরিমাণবাচক গবেষণার সুবিধা (Advantages of Quantitative Research)
* সংখ্যাবাচক উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় বলে সহজেই অধিকসংখ্যক নমুনার কাছ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়।
* উপাত্ত বিশ্লেষণের সময় পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় ফলাফলের নৈর্ব্যক্তিকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং গবেষণার ফলাফলের উপর গবেষকের কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব থাকে না।
* সংখ্যাগত ফলাফল গ্রাফ, চার্ট, টেবিল এবং অন্যান্য ফরমেটে সুন্দরভাবে এবং সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়।
* উপাত্ত বিশ্লেষণে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান সফটওয়্যার ব্যবহার করেই করা যায়।
* দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনায়ন করা হয় এবং নমুনার আকারও প্রতিনিধিত্বমূলক হয় ফলে গবেষণার ফলাফল সাধারণীকরণ বা সার্বজনীন করা যায়।
* উপাত্ত সংগ্রহের কাজ তুলনামূলক দ্রুত করা যায়, যদিও এটা উপাত্তের ধরনের উপর নির্ভর করে।
* তাছাড়া পরিমাণবাচক তথ্য নীতিনির্ধারক, সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং প্রশাসকদের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য হয়।
##### অসুবিধা (Disadvantages of Quantitative Research)
* পরিমাণবাচক গবেষণার মূল অসুবিধা হলো এই গবেষণায় প্রেক্ষাপট উপেক্ষিত হয়।
* সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য অধিক সংখ্যক নমুনার কাছ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়।
* বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিমাণবাচক গবেষণা 'কেন' প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
#### ২.৪.২: গুণবাচক গবেষণা (Qualitative Research)
গুণবাচক গবেষণা কোনো বিষয়ের ধরন এবং মান নিয়ে আলোচনা করে, অন্যদিকে কোনো ঘটনাকে এমনভাবে তুলে ধরে যেন সহজে বোধগম্য হয়। বর্ণনামূলক বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে গুণবাচক গবেষণায় গবেষক বিষয়টাকে এমনভাবে চিত্রায়ন করার চেষ্টা করেন যেন তিনি যেটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা সবাই দেখতে পান। গুণবাচক গবেষণার রীতি অনুসারে পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ কম। এ গবেষণায় অধ্যয়নের জন্য খুব অল্প নমুনা নেওয়া হয়, ক্ষেত্র বিশেষে একজনও নমুনা হতে পারে। ফলে গবেষণার ফলাফল সার্বজনীন হয় না। গুণবাচক গবেষণা গবেষকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং কোনো অবস্থার বর্ণনার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে গবেষকের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি একেবারে অগ্রাহ্য করা যায়না। গুণবাচক উপাত্ত বলতে শব্দ, মতামত, চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি এবং আচরণকে বুঝায়। সুবিধা হলো এই যে যে কোনো ঘটনা, মানুষ কিংবা দল সম্পর্কে প্রচুর পরিমাণে খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া যায়।
গুণবাচক গবেষণা অপরিমাণবাচক বিশ্লেষণকে উপস্থাপন করে। গুণবাচক গবেষণা হলো মানুষ যা করে এবং বলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রাপ্ত উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করার প্রক্রিয়া। গুণবাচক গবেষণা হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার অর্থ, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রতীক এবং বর্ণনা। এই ধরনের গবেষণা ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় (প্রধানত সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ এবং ফোকাস দলীয় আলোচনা)। এই গবেষণার প্রকৃতি অনেকটা অনুসন্ধানমূলক এবং উন্মুক্ত। অল্প কিছু সংখ্যক নমুনার কাছ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সরাসরি পর্যবেক্ষণ কিংবা ফোকাস দলীয় আলোচনার মাধ্যমে অনেক বেশি তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
গুণবাচক গবেষণা এমনসব বিষয় এবং ঘটনা নিয়ে গবেষণা করে যেগুলো গাণিতিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা খুবই দুঃসাধ্য কাজ, যেমন- মানুষের বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, অভিপ্রায়, লক্ষণ এবং প্রতীক। গুণবাচক গবেষণা মূলত মানুষের আচরণকে খুব গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করে এবং তার পিছনের কারণ অনুসন্ধান করে। মূলত কোনো ঘটনা কোথায় ঘটলো সেটাই শুধু নয় বরং কেন ঘটলো, কিভাবে ঘটলো সেটাও এই গবেষণা খুঁজে বের করে।
##### সুবিধা:
* এই গবেষণা মানুষের অনেক জটিল বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করে।
* তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা বিধিনিষেধ খুব কম।
* সব কিছু সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায়না। গুণবাচক গবেষণার মাধ্যমে কিছু বিষয়কে আরো গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ থাকে।
* অনুসন্ধানী গবেষণা এবং অনুমিত সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য এই গবেষণা সাহায্য করে।
* গবেষণায় অংশগ্রহণকারী তথ্যদাতা নিজের মতো করে তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
##### অসুবিধা:
* গুণবাচক গবেষণার বৈধতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করা তুলনামূলক কঠিন কাজ।
* উপাত্ত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব অনেক বেশি।
* অনেক সময় উপাত্ত অনেক বেশি হয়ে যায় ফলে উপাত্ত বিশ্লেষণে অনেক সময় লেগে যায়।
* গুণবাচক গবেষণায় সময় বেশি লাগে।
##### গুণবাচক গবেষণা বনাম পরিমাণবাচক গবেষণা:
গুণবাচক গবেষণা হচ্ছে যেখানে কোনো কিছুর গুণকে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে পরিমাণবাচক গবেষণার ভিত্তি হচ্ছে সংখ্যাবাচক পর্যালোচনা। অর্থাৎ সংখ্যাবাচক পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো ঘটনা বা বিষয়কে ব্যাখ্যা করা। যা কিনা গুণবাচক গবেষণায় গুণকে পর্যালোচনা করে। অনেকে গুণবাচক গবেষণা এবং পরিমাণবাচক গবেষণা নিয়ে বিতর্ক করে থাকেন, কোনোটা বেশি কার্যকরী এটা নিয়ে হরহামেশা তর্ক করেন। কিন্তু কোনোটা কার্যকরী কিংবা সুবিধাজনক সেটা নির্ভর করবে আপনার গবেষণার বিষয়, উদ্দেশ্য, নমুনা ইত্যাদি বিষয়য়ের উপর। যেমন- কোনো একজনকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, "বলুন দেখি হাতুড়ি বেশি ভালো হবে নাকি কোদাল বেশি ভালো হবে?"। কী জবাব দেবেন তিনি? তিনি সবার আগে যেটা জানতে চাইবেন সেটা হলো "আপনি কী কাজ করবেন?"। অর্থাৎ আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে কোনো যন্ত্রটি আপনার জন্য ব্যবহার করা ভালো হবে। একইভাবে আপনার গবেষণার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করবে গুণবাচক পদ্ধতি নাকি পরিমাণবাচক পদ্ধতি অনুসরণ করা ভালো হবে। তবে গুণবাচক গবেষণা গবেষকের দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। পরিমাণবাচক গবেষণা ডকুমেন্ট বা রেকর্ড এর উপর নির্ভরশীল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক।
#### ২.৪.৩: মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা (Mixed Method Research)
মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা হলো এক ধরনের গবেষণা যেখানে গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক পদ্ধতি ও কৌশল কিংবা অন্য কোনো ধরনের পদ্ধতি-কৌশল একসাথে ব্যবহার করা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে যে গবেষণায় একইসাথে গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক গবেষণা পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করা হয় তাকে মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা বলা হয়। এই গবেষণায় গুণবাচক গবেষণা এবং পরিমাণবাচক গবেষণা বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন- কোনো গবেষণার এক ধাপে পরিমাণবাচক গবেষণা এবং অন্য ধাপে গুণবাচক গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একই প্রশ্নপত্রে কিছু বহুনির্বাচনি প্রশ্ন এবং কিছু মুক্ত প্রশ্ন সরবরাহ করা যায়, যা পরবর্তীতে কোনো বিষয় বা ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি সেই ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে সহায়ক হবে। আবার অনেক সময় গবেষক গুণবাচক তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলোকে পরিমাণবাচক তথ্যে রূপান্তর করতে পারে।
মূলত এই গবেষণায় উভয় ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে গবেষণার উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেইসাথে বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার ফলে তথ্যসমূহ ক্রস চেক করা সম্ভব হয় যা গবেষণার ফলাফলের যথার্থতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। তবে মনে রাখা ভালো যে, সব গবেষণায় মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করার দরকার নেই কিংবা এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই যে গবেষণাটি ভালো হবে এমন মনে করার কারণ নেই। বরং যেখানে প্রয়োজন সেখানে মিশ্র পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। মিশ্র পদ্ধতির গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ এবং গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার কাজের মধ্যে যথাযথ সামঞ্জস্যবিধান করা জরুরি যেন একটা প্রেক্ষাপট উঠে আসে। তবে গবেষককে খেয়াল রাখতে হবে যেন এক ধরনের উপাত্ত আরেক ধরনের উপাত্তের (গুণবাচক এবং পরিমাণবাচক উপাত্ত) সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে, কোনোভাবে যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।
### ২.৫: জরিপ গবেষণা (Survey Research)
জরিপ গবেষণার নমুনা আজকাল দৈনিক পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাই। কোনো দেশের সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের জনপ্রিয়তা, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা কিংবা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা নতুন কোনো পণ্যের ব্যবসায়িক সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ে জনমত জরিপ করে থাকে। সাধারণভাবে জরিপ কথাটি শুনলেই জনসংখ্যা জরিপ (আদমশুমারি) এবং ভূমি জরিপের কথা মনে আসে।
সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত গবেষণার মধ্যে জরিপ গবেষণা অন্যতম। আজকাল দ্রুত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় উপকৃত জনসংখ্যা ও তার হার নির্ধারণের প্রয়োজনে, কোনো সামাজিক সমস্যার ব্যাপকতা ও ধরন নির্ধারণে, কোনো কিছুর গ্রহণযোগ্যতা বা ব্যবহারের ব্যাপকতা নির্ধারণে, মতামত যাচাইয়ের জন্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নীতি নির্ধারণে কোনো নীতিমালার সাফল্য এবং ব্যর্থতা যাচাইয়ে জরিপ গবেষণা করা হয়। বস্তুত শুধু উপর্যুক্ত ক্ষেত্রেই নয়, আরও অসংখ্য নতুন নতুন ক্ষেত্রে জরিপ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
জরিপ গবেষণা পরিচালনা করতে কখনও একটি গ্রাম, একগুচ্ছ গ্রাম কিংবা কয়েকটি উপজেলা থেকে নমুনা নেওয়া হয় অথবা কখনও জাতীয় নমুনা জরিপ (national sample survey) পরিচালনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর জরিপ চালানো যেতে পারে। এতে প্রতি পাঁচ বছরে কী হারে লোকেরা ভূমিহীন হচ্ছে, জমি কি ধনীদের হাত থেকে দরিদ্রদের হাতে যাচ্ছে না তার উল্টো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, বর্গাদারীর ক্ষেত্রে কি ঘটছে, জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি পরিবর্তন আসছে ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় জানা যায়।
জরিপ গবেষণায় গবেষক প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য এবং বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে বর্ণনা করার জন্য এ পদ্ধতির ব্যবহার করে থাকে। এখানে সতর্কভাবে সম্ভাবনা নমুনার মাধ্যমে কাজ করা হয়। এই সম্ভাবনা নতুন একক বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে প্রকাশ করে বা প্রতিনিধিত্ব করে এবং এখানে মানসম্মত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সতর্কভাবে একই কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে সকল উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জরিপ পদ্ধতি সাধারণত বর্তমান বিদ্যমান সমাজের কোনো সমস্যা নিয়ে করা হয়। কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপর গবেষণা করার জন্য জরিপ পদ্ধতি নির্বাচন করা সঠিক। জরিপ গবেষণায় কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সর্বপ্রথমে জরিপ কাজটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয়। এরপর লক্ষ্যদল নির্ধারণ করতে হয়। লক্ষ্যদলের পরের ধাপে কোনো প্রতিনিধিত্বশীল অংশ নমুনা হিসেবে চিহ্নিত করা আবশ্যক তা নির্ধারণ করতে হয়। অতঃপর প্রশ্নমালার মাধ্যমে গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করতে চাইলে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রশ্নমালা প্রস্তুত করতে হয়। তারপর যারা প্রশ্নামালাটি মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করবেন সেইসব মাঠ কর্মীদের নির্বাচন কাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হয়। জরিপ গবেষণায় প্রশ্নমালা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং প্রশ্নমালা তৈরি করার সময় নিম্নোক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:
* উত্তরদাতার কাছে যে সমস্ত শব্দ অপরিচিত মনে হতে পারে সেগুলো ব্যবহার না করা
* নেতিবাচক শব্দ বা ধারণা উপস্থাপন না করা
* একই প্রশ্নে অত্যধিক তথ্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার না করা
* মানবাচক শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলা
* 'একইরকম' কিংবা 'আগের মতো' জাতীয় উত্তর আসতে পারে এমন প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত না করা
* পরামর্শ বা উপদেশমূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত না করা
* উত্তরদাতাকে মাথা খাটাতে হবে কিংবা মুখস্থ উত্তর দিতে হবে এমন কোনো প্রশ্ন না করা
* প্রশ্ন সবসময় ছোট, সহজবোধ্য এবং মূর্ত হওয়া উচিৎ
**উদাহরণ:**
বাংলাদেশের ঢাকা শহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর একটা জরিপ করা হয়। দেখা যায় গড়ে প্রত্যেক শিক্ষক প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ৭০% সময় তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যয় করেন, ১০% সময় তারা গুগল ব্রাউজ করে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেন, ১০% সময় তারা ইউটিউব এ ব্যয় করেন, ৮% সময় শিক্ষক বাতায়নসহ অন্যান্য শিক্ষণীয় কাজে ব্যয় করেন এবং ২% সময় বিবিধ কাজ করেন।
### ২.৬: কেস স্টাডি (Case Study)
কেস স্টাডি গবেষণা বা ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি হলো গুণবাচক গবেষণার আরেকটি ধারা। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো ঘটনার অত্যন্ত গভীরে প্রবেশ করে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি বিশেষ এককের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে বাস্তবধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একই ধরনের ইউনিট বা একক সম্বন্ধে সাধারণীকরণে পৌঁছানো সম্ভব। ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতির মূল কৌশল হলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করা।
উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণ আবার দুই রকমের হতে পারে— অংশগ্রহণমূলক এবং অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে পর্যবেক্ষণ। অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক নিজেই লক্ষ্যণীয় ইউনিট বা দলের সাথে মিশে যান কিন্তু অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে কৌশলের ক্ষেত্রে গবেষক দলগত কার্যপ্রণালী থেকে দূরে অবস্থান করে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
কেস স্টাডি গবেষণায় গবেষককে যে সমস্ত দিকে খেয়াল রাখতে হয় সেগুলো হচ্ছে:
* সতর্কতার সাথে বাস্তবতার নিরিখে প্রাথমিক ধারণা থেকে কার্যকর গবেষণা নকশা প্রস্তুত করা
* গবেষক হিসেবে সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতির হিসেব পর্যবেক্ষণ করা
* কোনো ধরনের বর্জনযোগ্য চিন্তাভাবনা ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে সে সম্বন্ধে সচেতন থাকা
* গবেষণা কাজটির জন্য উপযুক্ত স্থান বা ক্ষেত্র খুঁজে বের করা
* যোগ্যতর তথ্য প্রদানকারীকে খুঁজে বের করা
* পর্যবেক্ষণের সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা
* তথ্য, প্রমাণ ও দলিলাদি কিভাবে রেকর্ড করা হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা
* তথ্য শ্রেণিবদ্ধকরণ সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
* ধারণা হতে কার্যসম্পাদন পর্যন্ত মধ্যবর্তী পর্যায়ে কতটুকু সময় লাগবে তা নির্ধারণ করা
* গবেষণা প্রতিবেদন কোনো পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের দর্শকের সামনে প্রকাশ করা হবে তা নির্ধারণ করা।
কেস স্টাডি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গবেষণার ফলাফলের স্বীকৃতি পেতে হলে গবেষককে কতকগুলো বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন—
* তথ্য সংগ্রহ কৌশল, নমুনায়ন পদ্ধতি এবং তথ্য বিশ্লেষণ কৌশল ব্যাখ্যা করতে হবে
* সংগৃহীত তথ্য প্রতিবেদন আকারে প্রদর্শন করতে হবে এবং যে কোনো সময় পুনঃবিশ্লেষণের নিমিত্তে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে
* প্রতিবেদনে ঋণাত্মক উদাহরণসমূহের উল্লেখ থাকবে
* মাঠ পর্যায়ের কাজের বিশ্লেষণ প্রতিবেদন আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে
* অনুমান এবং প্রমাণমূলক কাজের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয় করতে হবে
* প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে, সেই সাথে বর্ণনা ও ব্যাখ্যার মধ্যেও পার্থক্য তুলে ধরতে হবে
* প্রকৃত কাজের বিবরণ ডায়েরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে
* তথ্যের উৎকর্ষতা যেন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
### ২.৭: কর্মসহায়ক গবেষণা (Action Research)
আধুনিক শিক্ষা গবেষণায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে কর্মসহায়ক গবেষণা (action research)। শিক্ষা গবেষণা কার্যক্রমে কর্মসহায়ক গবেষণা একটি নতুন বৈজ্ঞানিক ও প্রয়োগিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির গবেষণা শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ধারা সংযোজন করেছে। প্রথম থেকেই এই গবেষণা পদ্ধতি বাস্তব জগতের প্রয়োজন ও সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছে এবং ঐ সব সমস্যা সমাধানের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অতিদ্রুত তা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কর্মসহায়ক গবেষণার দুটি উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা। আর তাই সমাজের পরিবর্তনের জন্য নতুন পথের সন্ধান কর্মসহায়ক গবেষণা দিয়ে থাকে। ১৯৪৪ সালে কার্ট লিউইন কর্মসহায়ক গবেষণাকে ব্যবহার করেন তত্ত্ব ও প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে। তিনি কার্য ও গবেষণাকে একত্রিত করেন যা সমাজের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। এই ধরনের গবেষণা কোনো নির্দিষ্ট পরিসরে উদ্ভূত কোনো একটি সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য একটি আধুনিক প্রক্রিয়া। কর্মসহায়ক গবেষণা পরিস্থিতি নির্ভরশীল অর্থাৎ কোনো একটি বিশেষ পরিস্থিতি বা ধারণার মধ্যে কোনো একটি সমস্যা সনাক্ত করে একই পরিস্থিতির মধ্যে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে বের করা হয়। এ ধরনের গবেষণা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। একদল গবেষক এবং বিশেষজ্ঞ একসাথে কাজ করে নিজেরাই গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করার মাধ্যমে সমস্যার একটি প্রায়োগিক সমাধান বের করেন।
#### কর্মসহায়ক গবেষণার ধারণা (Concepts of Action Research)
কর্মসহায়ক গবেষণা হলো এক ধরনের প্রায়োগিক গবেষণা। কোনো ব্যক্তি তার পেশাগত কাজে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সেই সমস্যার সমাধানের জন্য যে গবেষণা পরিচালনা করেন তাই কর্মসহায়ক গবেষণা। এই গবেষণায় গবেষক নিজেই এই সমস্যার সম্মুখীন। পেশাগত অনুশীলন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়েও এ গবেষণা পরিচালনা করা যায়। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যখন কোনো চলমান কাজের উপর ক্ষুদ্রমাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে এই পরিবর্তিত কাজের উপর সূক্ষ্ম দৃষ্টি নিবন্ধ রাখা হয় তখন আমরা বলতে পারি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি নিজ পেশার উন্নয়নের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণা করছেন। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা দেখা দেয় তখন সেই সমস্যার গুরুত্ব ও গভীরতা চিহ্নিত করে সকলের সহযোগিতায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।
**কর্মসহায়ক গবেষণার সংজ্ঞা:** বিভিন্ন গবেষক কর্মসহায়ক গবেষণাকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেমন—
* "কর্মসহায়ক গবেষণা হলো সামাজিক কার্যক্রমের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত এমন একটি গবেষণা পদ্ধতি যা কোনো সমস্যা সমাধান এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য কিছু সংখ্যক লোক সংঘবদ্ধ করতে পারে। গবেষক নিজেই গবেষণার ক্ষমতা অর্পণ এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে।"— **পালমার ও জনসন**।
* "কর্মসহায়ক গবেষণার মৌলিক অনুমান হচ্ছে সমাজের প্রচলিত রীতি বা অভ্যাস পরিবর্তনের ফলাফল অন্যের দ্বারা নিরীক্ষার চেয়ে নিজে নিরীক্ষা করা।"— **কুক**।
* *Action Research is a three steps spiral process of (1) planning which involves reconnaissance; (2) talking actions and; (3) fact-finding about the results of the action.* — **Kurt Lewin**.
* *Action Research is the process by which practitioner's attempts to study their problems scientifically in order to guide, correct and evaluate their decisions and actions.* — **Stephen Corey**.
* *Action Research in education is study connected by colleagues in a school setting of the result of their activities to improve instructions.* — **Carl Ghekman**.
* *Action Research is a fancy way of saying let's study what's happening at our school and decide how to make it a better place.* — **Emily Calhoun**.
কর্মসহায়ক গবেষণার উদ্ভাবক ও অন্যান্য যারা বিভিন্ন গবেষণার সাথে জড়িত তারা নিজেদের কর্মের সুবিধার্থেই এ ধরনের গবেষণা কর্মে যুক্ত হন যেন তাঁদের গবেষণা কর্ম অধিক কার্যকারিতা লাভ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যারা শিক্ষার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নয়, তাঁদের পরিচালিত গবেষণার ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকরী নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা ও শিক্ষাক্রমে শিক্ষকদের উৎসাহিত হওয়া আবশ্যক তাদের শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। শিক্ষামূলক কর্মসহায়ক গবেষণা হলো এক ধরনের শিক্ষা প্রযুক্তি যা দ্বারা একজন শিক্ষক কার্যকরীভাবে শিক্ষার্থীদের শিখনকে উন্নত করতে পারেন। কর্মসহায়ক গবেষণা হতে প্রাপ্ত উপাত্ত কাজে লাগিয়ে একজন শিক্ষক বুঝতে পারেন কী কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যা বিরাজমান এবং সমস্যার প্রভাব কিভাবে দূর করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিখন অভিজ্ঞতার উন্নয়নের কর্মসহায়ক গবেষণা হলো শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, যে প্রক্রিয়ায় গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তত্ত্বকে তাৎক্ষণিক প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো সমস্যা সমাধান বা সমাজের চলতি রীতির পরিবর্তন করা হয় তাকে কর্মসহায়ক গবেষণা বলে। কর্মসহায়ক গবেষণার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকর্মসহায়ক গবেষণা বাস্তব সমস্যাভিত্তিক গবেষণা পদ্ধতি যা বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সাধারণ তত্ত্ব আবিষ্কার করে এবং সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাথে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকে। এটি সামাজিক গবেষণা থেকে একটি ভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি।
কার্ট লিউইন (১৯৪৭)-এর মতানুসারে কর্মসহায়ক গবেষণার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীনের অধীনে কোনো পরিবর্তনশীল প্রকৃতি বিবেচনা করে কিছু কার্যক্রম এবং গবেষণা পরিচালনা করা।
**নিম্নে কর্মসহায়ক গবেষণার বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:**
* **কার্যভিত্তিক (Action Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা শুধু সাধারণ তত্ত্ব আবিষ্কার করে না, বরং সমস্যা সমাধানের জন্য তা কার্যে পরিণত করে।
* **আবর্তনশীল (Cyclical Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা গবেষণার একটি চলমান প্রক্রিয়া যা সমস্যা চিহ্নিত করে, সমাধানের তত্ত্ব আবিষ্কার করে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে।
* **সমন্বিত প্রক্রিয়া (Integration Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা কোনো স্তর বাধাপ বুঝায় না, বরং গবেষণার সমন্বিত প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
* **বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া (Scientific Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা হয়ে থাকে।
* **ধারাবাহিক প্রক্রিয়া (Systematic Process):** কর্মসহায়ক গবেষণা সমস্যা সমাধানের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি সমস্যা চিহ্নিতকরণ হতে শুরু হয়ে তত্ত্ব প্রণয়ন এবং তত্ত্ব বাস্তবে প্রয়োগ করে ফলাফল মূল্যায়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।
* **ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত (Future Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা শুধু অতীত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে না বরং গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তত্ত্ব ভবিষ্যতে প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করে থাকে।
* **বাস্তব সমস্যাভিত্তিক (Practical Problem Oriented):** কর্মসহায়ক গবেষণা সব সময় সমাজ জীবনের বা প্রাতিষ্ঠানিক জীবনের বাস্তব সমস্যা নিয়ে গবেষণা কার্য পরিচালনা করে।
* **যৌথ প্রচেষ্টা (Collaboration):** কর্মসহায়ক গবেষণা গবেষক এবং সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকে।
* **অবস্থানভিত্তিক (Situational):** কর্মসহায়ক গবেষণা সমস্যার বিভিন্ন অবস্থানে ভিন্নতর হতে পারে। সব সমস্যার জন্য একই রকম প্রক্রিয়া ব্যবহার নাও হতে পারে।
**তাছাড়াও কর্মসহায়ক গবেষণার আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন—**
* কর্মসহায়ক গবেষণা এক ধরনের আত্মপ্রতিফলনমূলক অনুসন্ধান।
* এটি ব্যবহারকারী বা অংশগ্রহণকারী সুবিধাভোগীদের দ্বারা গৃহীত হয়।
* এ গবেষণা সাধারণত স্বীয় পেশাগত, শিক্ষাগত, সামাজিক কার্য বা চর্চার উন্নয়ন অথবা স্বীয় দুর্বলতা আবিষ্কার ও উন্নয়নে পরিচালিত হয়।
* এটি এক ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ গবেষণা তাই নতুন গবেষকবৃন্দ স্বীয় সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ গবেষকদের কাছ থেকে সহযোগিতা লাভ করতে পারেন।
* কর্মসহায়ক গবেষণার জন্য কোনো স্বতঃসিদ্ধ একক সাধারণ পদ্ধতি নেই। তাই এখানে বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় এবং তথ্য সংগ্রহের অংশ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পদ্ধতিগতভাবে কর্মসহায়ক গবেষণায় একই সাথে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয় ও অনুসরণ করা সম্ভব। গবেষক এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন।
* এটি যুক্তি নির্ভর এবং গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বনে পরিচালিত হয়।
* এটি গবেষকদের প্রতিদিন যে সমস্ত পেশাগত কার্যক্রম সমাধা করেন, তার নিয়মতান্ত্রিক কার্যকারিতা যাচাই বা পরীক্ষা নিরীক্ষাকরণে সহায়তা করে।
* শিক্ষায় কর্মসহায়ক গবেষণার মূল আলোকপাত করা হয় শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের উপর। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পৃক্তকরণ এবং শিক্ষাগত ভিত্তি হচ্ছে গুণগত মানোন্নয়ন।
* কর্মসহায়ক গবেষণা দ্বারা অর্জিত জ্ঞান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসকের নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে এবং শিখন ও নীতি নির্ধারণকে দৃঢ় করে।
* কর্মসহায়ক গবেষণা মূলত ২টি 'W' এবং ১টি 'H' প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পরিচালিত হয়। যথা— কি (What), কেন (Why), কিভাবে (How)।
* যেহেতু এই গবেষণা নির্দিষ্ট স্থানে বসে পরিচালনা করা হয় তাই দলভিত্তিক মিথষ্ক্রিয়া পাওয়া যায়।
* এই পদ্ধতির নমনীয়তা ও সহযোজন ক্ষমতা রয়েছে।
* অন্যান্য পদ্ধতির সাথে এই পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো কোনো একটি বিশেষ চলককে কখনোই সমষ্টি থেকে পৃথক করে পর্যবেক্ষণ করা হয়না।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, কর্মসহায়ক গবেষণা সর্বদা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট। তাই মূলত আমাদের বুঝতে হবে, কিভাবে এ পরিবর্তন আনা যায়, কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন? কি পরিবর্তন আমরা চাই? তাহলে কর্মসহায়ক গবেষণার মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
### ২.৮: মৌলিক ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য
**(Difference between Fundamental and Social Research)**
#### ২.৮.১: মৌলিক গবেষণা
যে গবেষণার দ্বারা কোনো মৌলিক তত্ত্বের ও পূর্বানুমানের উন্নয়ন ও পরীক্ষা করা হয় তাই মৌলিক গবেষণা। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি এবং গবেষণার জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তির উন্নয়ন। মৌলিক গবেষণাপ্রাপ্ত এসব জ্ঞান এবং তত্ত্বের ভবিষ্যতে সামাজিক প্রায়োগিক দিক থাকবে, কিন্তু বর্তমানের সমস্যা সমাধানের কোনো প্রায়োগিক দিক নেই (ড. খুরশিদ আলম ২০০৩:৯৭)। এক কথায় বললে যে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের চর্চা হয় এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয় তাই মৌলিক গবেষণা (Kothari ২০০৪:৩)। বস্তুত মৌলিক গবেষণা দুটি কাজ সম্পন্ন করে:
1. নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার এবং
2. বিদ্যমান তত্ত্বের উন্নয়ন
মৌলিক গবেষণার আসল উদ্দেশ্য হলো নতুন তত্ত্ব তৈরি করা কিংবা বিদ্যমান কোনো তত্ত্বের উন্নয়ন করা। যেমন: পিঁয়াজে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নিয়ে একটা গবেষণা করেছিলেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুরা কীভাবে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিখে থাকে তাই নিয়ে একটা তত্ত্ব দেওয়ার জন্য তিনি গবেষণা কাজটি পরিচালনা করেন। শিশুদের শিখনের আনুষ্ঠানিক অপারেশনাল স্তরে এসে তা তাঁদের আচরণে পরিণত হয়। শিশুরা কী শিখবে বা শিক্ষা কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে শিখে।
মৌলিক গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে একদিকে খরচ বেশি, অন্যদিকে অন্তর্নিহিত বা অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিও আছে। অনেকসময় গবেষণার মেয়াদ বাড়তেই থাকে, ফলে কতদিন ধরে অর্থব্যয় করতে হবে তা অনিশ্চিত। অন্যদিকে মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়, সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগে এবং আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই গবেষণার কোনো প্রয়োগ না হলেও পরবর্তীতে নানাভাবে এই গবেষণার ফলাফল প্রয়োগ করা হয়। এই গবেষণার উপর ভিত্তি করে অনেক বাণিজ্যিক পণ্য প্রস্তুত করা হয়।
#### ২.৮.২: সামাজিক গবেষণা কী?
সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণাকে বোঝানো হয়। সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের বিষয়বস্তু মানুষ, মানুষের মন, মানুষের সমাজ, মানুষের সংস্কৃতি, মানুষের অর্থনীতি, মানুষের রাজনীতি প্রভৃতি। মোট কথা মানুষ, তার আচরণ ও ক্রিয়া এবং মানুষের সমাজ-সংগঠন সামাজিক বিজ্ঞানীদের সাধারণ বিষয়বস্তু। একারণে সামাজিক গবেষণা বলতে শুধু সমাজতাত্ত্বিক গবেষণাকে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া, সামাজিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি এবং পদ্ধতিতত্ত্বে যথেষ্ট সাদৃশ্য থাকায় সামাজিক গবেষণা বিষয়ক আলোচনায় সাধারণত ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। আমরা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার উপর কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও এখানে সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণাকেই বোঝানো হবে। বলা বাহুল্য, সামাজিক গবেষণা বলতে সামাজিক বিষয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেই বুঝায়।
##### সামাজিক গবেষণার বৈশিষ্ট্য:
সামাজিক গবেষণার কতকগুলো বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদিও একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সব প্রাকৃতিক বিজ্ঞানেই অভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে সামাজিক গবেষণার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো:
* সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়ক
* সামাজিক গবেষণা দুই বা ততোধিক চলকের (variable) মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করে
* সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে
* সামাজিক গবেষণা বাস্তব তথ্য নির্ভর
* সামাজিক গবেষণা ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল
* সামাজিক গবেষণা তত্ত্ব গঠনে সহায়ক
* সামাজিক গবেষণা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ করে।
##### সামাজিক গবেষণার প্রকারভেদ:
কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা বা কোনো অজানা বিষয়ে জানার চেষ্টা করা। বস্তুত গবেষণাকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—
* মৌলিক গবেষণা (Basic or fundamental research)
* ফলিত গবেষণা (Applied research)
* কার্যোপযোগী গবেষণা (Operational research)
* মূল্যায়ন গবেষণা (Evaluative research)
* জরিপ গবেষণা (Survey research)
* মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানমূলক গবেষণা (Field investigative research)
#### ২.৮.৩: মৌলিক ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য
**(Difference between Fundamental and Social Research)**
| মৌলিক গবেষণা | সামাজিক গবেষণা |
|---|---|
| নতুন তত্ত্ব সৃষ্টি এবং বিদ্যমান তত্ত্বের উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালিত হয় | বাস্তবসম্মত উপায়ে যে কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে গবেষণা পরিচালিত হয় |
| জ্ঞান সৃষ্টির উপর মূল মনোযোগ থাকে | জ্ঞান প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ থাকে |
| জ্ঞানের একটি শাখার বিভিন্ন মৌলিক নীতিসমূহ প্রয়োগ করে তত্ত্বটি বাতিল করে দেওয়ার চেষ্টা করে | জ্ঞানের একটি প্রায়োগিক শাখাকে বিবেচনা করে সমস্যার সমাধান করে |
| জ্ঞানের একটি মাত্র শাখা থেকে সমস্যাটিকে বিশ্লেষণ করে | অনেক সময় একটি সমস্যা সমাধানের জন্য জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমন্বিত হয়ে কাজ করে |
| গবেষণার ফলাফল সার্বজনীন করার পক্ষপাতী | কখনও কখনও ফলাফল সার্বজনীন করার উদ্দেশ্য ছাড়াও একক কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করে |
| পূর্বাভাস পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় | কোনো বিষয় বা ঘটনা কিভাবে পরিবর্তিত হয়ে তা ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে গবেষণা কাজ পরিচালিত হয় |
| অন্যান্য চলকসমূহের পরিবর্তন হবে না ধরে নিয়েই গবেষণা করা হয় | স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য চলকগুলো পরিবর্তনশীল ধরে নেওয়া হয় |
| জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটা শাখার প্রযুক্তিগত ভাষা অনুসরণ করে প্রতিবেদন সংকলন করা হয়। | সাধারণ ভাষা ব্যবহার করে গবেষণা প্রতিবেদন সংকলন করা হয়। |
### অনুশীলনী
#### সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. ঐতিহাসিক গবেষণা বলতে কী বোঝায়?
২. বর্ণনামূলক গবেষণার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
৩. পরীক্ষামূলক গবেষণা কী?
৪. মিশ্র পদ্ধতির গবেষণার ৩টি গুরুত্ব লিখুন।
৫. কেস স্টাডি বা ঘটনা অনুধ্যান গবেষণার স্বীকৃতি পেতে গবেষকের কী কী করণীয় লিখুন।
#### রচনামূলক প্রশ্ন
১. পরিমাণবাচক গবেষণা এবং গুণবাচক গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এদের ৫টি মৌলিক পার্থক্য লিখুন।
২. ঐতিহাসিক গবেষণা কী? এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করুন।
৩. কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক গবেষণা করা হয়? একটি উদাহরণের সাহায্য বর্ণনামূলক গবেষণার বৈশিষ্ট্য লিখুন।
৪. পরীক্ষামূলক গবেষণায় স্বাধীন চলক এবং অধীন চলক বলতে কী বুঝায়? উদাহরণস্বরূপ একটি পরীক্ষামূলক গবেষণার স্বাধীন চলক এবং অধীন চলক ব্যাখ্যা করুন।
৫. জরিপ গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এ গবেষণায় প্রশ্নমালা তৈরির ক্ষেত্রে গবেষককে কোনো কোনো বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়?
৬. কর্মসহায়ক গবেষণা কী? দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে এই ধরনের গবেষণার কার্যকারিতা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন। পেশাগত মান উন্নয়নে কর্মসহায়ক গবেষণা কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে লিখুন।
৭. মৌলিক গবেষণা এবং সামাজিক গবেষণা বলতে কী বোঝায়? এদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য উল্লেখ করুন।
#### তথ্যসূত্র:
* Bernard, H. R., and Bernard, H. R. (2012). *Social research methods: Qualitative and quantitative approaches.*
* Creswell, J. W. (2013). *Research design: Qualitative, quantitative, and mixed methods approaches.* Sage publications.
* Gall, M. D., Borg, W. R., and Gall, J. P. (1996). *Educational research: An introduction.* Longman Publishing.
* Fraenkel, J. R., Wallen, N. E., and Hyun, H. H. (1993). *How to design and evaluate research in education* (Vol. 7). New York: McGraw-Hill.
* Keppel, G. (1991). *Design and analysis: A researcher's handbook.* Prentice-Hall, Inc.
* Lipsey, M. W. (1990). *Design sensitivity: Statistical power for experimental research* (Vol. 19).
* Neuman, W. L., and Neuman, W. L. (2006). *Social research methods: Qualitative and quantitative approaches.*
* Punch, K. F. (2013). *Introduction to social research: Quantitative and qualitative approaches.* Sage.
* Creswell, J. W. (2002). *Educational research: Planning, conducting, and evaluating quantitative.* Prentice Hall.
* Neuman, W. L., and Robson, K. (2004). *Basics of social research.* Pearson.
* Malterud, K. (2001). Qualitative research: standards, challenges, and guidelines. *The lancet*, 358(9280), 483-488.
* Robson, C. (2002). *Real world research* (Vol. 2). Oxford: Blackwell publishers.