প্রাথমিক শিক্ষা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড ২য় সেমিস্টার ২০২৬ সালের পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর
'ক' বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)
১. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বলতে কী বোঝায়? প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করুন।
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রম:
শিশুর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরুর পূর্ববর্তী পর্যায়ে (সাধারণত ৩ থেকে ৫ বা ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য) তার সার্বিক বৃদ্ধি, সামাজিকীকরণ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং আনন্দময় পরিবেশে শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রণীত সুসংগঠিত পরিকল্পনাই হলো প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রম। এটি শিশুদের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে।
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের মূলনীতিসমূহ:
১. শিশুকেন্দ্রিকতা ও আনন্দময় পরিবেশ: শিশুর আগ্রহ, অধিকার এবং আনন্দের মাধ্যমে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২. সার্বিক বিকাশ: শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আবেগিক ও নৈতিক বিকাশের দিকে নজর দেওয়া।
৩. খেলার মাধ্যমে শিক্ষা (Play-based Learning): কোনো চাপ না দিয়ে খেলাধুলা, গান, ছড়া, ছবি আঁকা এবং মুক্ত কাজের মাধ্যমে শেখার সুযোগ রাখা।
৪. স্থানীয় উপকরণের ব্যবহার: শিশুর পরিচিত পরিবেশ ও সহজলভ্য উপকরণের মাধ্যমে ধারণা স্পষ্ট করা।
৫. অভিভাবক ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ: শিশুর বিকাশে মা-বাবা এবং স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করা।
৬. অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি: সকল ক্ষমতার এবং সব ধরনের শিশুর (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সহ) সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
২. 'বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা' কী? প্রাথমিক স্তরের গণিত বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহের বিবরণ দিন।
বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা:
প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয় (যেমন: গণিত, বাংলা বা বিজ্ঞান) শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে যা কিছু জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ অর্জন করবে বলে আশা করা হয়, তাকে বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা বলে।
প্রাথমিক স্তরের গণিত বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ:
১. সংখ্যার ধারণা ও গণনা: বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য বস্তুর সাহায্যে গাণিতিক সংখ্যা চেনা, লেখা, গণনা করা এবং স্থানিক মান বোঝা।
২. মৌলিক গাণিতিক প্রক্রিয়া: যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের গাণিতিক চার নিয়ম সঠিকভাবে প্রয়োগের দক্ষতা।
৩. পরিমাপ ও একক: দৈর্ঘ্য, ভর, তরলের আয়তন, সময় ও মুদ্রার ব্যবহার সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যা সমাধান করা।
৪. জ্যামিতিক আকৃতি: বিভিন্ন দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক আকৃতি (যেমন: ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত, ঘনক ইত্যাদি) চেনা ও বর্ণনা করা।
৫. উপাত্ত ও গাণিতিক চিন্তন: সহজ উপাত্ত সংগ্রহ, সাজানো ও গাণিতিক যুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা।
৩. বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করুন।
বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের পদক্ষেপসমূহ:
১. শিক্ষাবর্ষ ও কর্মদিবস নির্ধারণ: শিক্ষাবর্ষের মোট দিন থেকে সরকারি ছুটি, পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক ছুটির দিন বাদ দিয়ে মোট কতগুলো কার্যকর পাঠদানের দিন বা পিরিয়ড পাওয়া যাবে তা হিসাব করা।
২. শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পর্যবেক্ষণ: নির্দিষ্ট বিষয়ের অধ্যায়, বিষয়বস্তু ও প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ ভালোভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে মোট শিখনফল নির্ধারণ করা।
৩. সময় বণ্টন ও ইউনিট বিভাগ: শিক্ষাবর্ষের মোট পিরিয়ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়গুলোকে যৌক্তিকভাবে ভাগ করা এবং তুলনামূলক কঠিন বা বড় অধ্যায়ে বেশি পিরিয়ড বরাদ্দ করা।
৪. উপকরণ ও মূল্যায়ন পরিকল্পনা: কোন অধ্যায়ে কী কী শিখন-শেখানো উপকরণ প্রয়োজন হবে এবং সাপ্তাহিক বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন কীভাবে হবে তা নির্দিষ্ট করা।
৫. খসড়া তৈরি ও সংশোধন: পুরো বছরের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক খসড়া ক্যালেন্ডার বা প্ল্যান তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা।
৪. হাওয়ার্ড গার্ডনার-এর মতে মানুষের কমপক্ষে কী কী ধরনের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে? বুদ্ধিমত্তাসমূহের প্রত্যেকটির তিনটি লক্ষণ চিহ্নিত করুন।
হাওয়ার্ড গার্ডনারের বহু-বুদ্ধিমত্তা তত্ত্ব (Theory of Multiple Intelligences) অনুযায়ী মানুষের প্রধানত ৮ ধরনের বুদ্ধিমত্তা দেখা যায়।
বিভিন্ন বুদ্ধিমত্তা ও তাদের লক্ষণসমূহ:
১. ভাষাগত বুদ্ধিমত্তা (Linguistic Intelligence):
- শব্দের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার করা।
- লেখা বা পড়ার মাধ্যমে জটিল ধারণা প্রকাশ করা।
- নতুন ভাষা দ্রুত আয়ত্ত করা।
২. গাণিতিক-যৌক্তিক বুদ্ধিমত্তা (Logical-Mathematical Intelligence):
- গাণিতিক সমীকরণ ও সংখ্যা দ্রুত সমাধান করা।
- যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও কারণ বিশ্লেষণ করা।
- ছক বা প্যাটার্ন সহজে অনুধাবন করা।
৩. স্থানিক বুদ্ধিমত্তা (Spatial Intelligence):
- দৃষ্টিভঙ্গির সাহায্যে স্থান ও বস্তুর অবস্থান কল্পনা করা।
- নকশা, মানচিত্র ও চিত্র সহজে আঁকা বা বুঝতে পারা।
- দৃশ্যমান শিল্পে পারদর্শিতা দেখানো।
৪. শারীরিক-গতিীয় বুদ্ধিমত্তা (Bodily-Kinesthetic Intelligence):
- শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে দক্ষতা ও সামঞ্জস্য থাকা।
- নাচ, খেলাধুলা বা হস্তশিল্পে পারদর্শী হওয়া।
- স্পর্শ ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা।
৫. সঙ্গীতবিষয়ক বুদ্ধিমত্তা (Musical Intelligence):
- সুর, তাল, লয় ও ছন্দ সহজে চিহ্নিত করা।
- বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা গান গাওয়ার দক্ষতা।
- শব্দ ও সুরের প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা।
৬. আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা (Interpersonal Intelligence):
- অন্যের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থা সহজে বোঝা।
- নতুন মানুষের সাথে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি ও যোগাযোগ রাখা।
- সামাজিক ও দলগত কাজে নেতৃত্ব দেওয়া।
৭. অন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা (Intrapersonal Intelligence):
- নিজস্ব আবেগ, শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট সচেতনতা থাকা।
- আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
- নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা পূরণে কাজ করা।
৮. প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা (Naturalistic Intelligence):
- প্রকৃতি, গাছপালা ও পশুপাখির প্রতি বিশেষ ঝোঁক থাকা।
- প্রাকৃতিক উপাদানসমূহকে সহজে শ্রেণীবিভাগ করা।
- পরিবেশের পরিবর্তন দ্রুত অনুধাবন করা।
৫. পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়? পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে পাঠদানের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বর্ণনা করুন।
পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি (Observation Method):
শিক্ষার্থীরা শিক্ষক বা প্রত্যক্ষ কোনো নির্দেশকের অধীনে নির্দিষ্ট কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশ নিজে দেখে, অনুধাবন করে এবং তথ্য সংগ্রহ করে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করার পদ্ধতিকেই পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলে।
সুবিধাসমূহ:
১. বাস্তব অভিজ্ঞতা: শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে, ফলে শিখন স্থায়ী হয়।
২. কৌতূহল বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, চিন্তাশক্তি ও কৌতূহল বাড়ে।
৩. সক্রিয় অংশগ্রহণ: নিষ্ক্রিয়ভাবে শোনার বদলে শিক্ষার্থীরা শিখনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে।
অসুবিধাসমূহ:
১. সময়সাপেক্ষ: এই পদ্ধতিতে সময় অনেক বেশি লাগে।
২. ব্যয়বহুল ও আয়োজন সাপেক্ষ: শ্রেণিকক্ষের বাইরে বা বিশেষ উপকরণের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ আয়োজন করা ব্যয়বহুল হতে পারে।
৩. সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়: বিমূর্ত ধারণাসমূহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া কঠিন।
৬. প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।
শিক্ষার্থী মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা:
১. শিখন অগ্রগতি পরিমাপ: শিক্ষার্থী শিখনফল কতটুকু অর্জন করেছে তা নির্ধারণ করা।
২. শিক্ষকের পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই: শিক্ষকের পাঠদান পদ্ধতি কতটা সফল তা বুঝতে পারা এবং দুর্বলতা থাকলে পরিবর্তন আনা।
৩. শিক্ষার্থীর নিদানিক সাহায্য (Remedial Help): পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করা।
৪. প্রেষণা সৃষ্টি: মূল্যায়নের ফলাফল শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি নতুন আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি করে।
৫. অভিভাবকদের অবহিতকরণ: সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবকদের সঠিক তথ্য দেওয়া।
৬. শিক্ষাক্রম উন্নয়ন: মূল্যায়নের ডেটা ব্যবহার করে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন করা।
৭. একাডেমিক তত্ত্বাবধানের প্রক্রিয়াগোষ্ঠী বিশ্লেষণ করুন।
একাডেমিক তত্ত্বাবধান হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত উন্নতি সাধনে সহায়তা প্রদান করা হয়।
একাডেমিক তত্ত্বাবধানের প্রধান প্রক্রিয়াগুলো হলো:
১. পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি (Pre-observation Planning): তত্ত্বাবধায়ক বা পরিদর্শক শ্রেণি পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ও দিকনির্দেশনা আগে থেকে শিক্ষককে অবহিত করেন।
২. শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ (Classroom Observation): শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান পদ্ধতি, উপকরণের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা সরাসরি প্রত্যক্ষ করা।
৩. তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ (Data Collection): পরিদর্শনের সময় নির্দিষ্ট নির্দেশকের ভিত্তিতে শিক্ষকের ইতিবাচক দিক ও উন্নতির ক্ষেত্রগুলো নোট করা।
৪. ফিডব্যাক বা উত্তর-আলোচনা (Post-observation Conference): পরিদর্শনের পর শিক্ষকের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা করা এবং তার প্রশংসা ও সমাধানের পথ দেখানো।
৫. পরবর্তী সহায়তা ও ফলো-আপ (Follow-up Support): চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো দূর করতে শিক্ষককে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও ফলো-আপ দেওয়া।
৮. শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের শিক্ষোপকরণের উদাহরণসহ বিবরণ দিন এবং এগুলোর ব্যবহারবিধি ব্যাখ্যা করুন।
শিক্ষোপকরণের ধরন ও উদাহরণ:
১. দৃশ্যমান উপকরণ (Visual Aids):
- উদাহরণ: ব্ল্যাকবোর্ড/হোয়াইটবোর্ড, চার্ট, ম্যাপ, ছবি, পোস্টার, বাস্তব বস্তু (যেমন: ফল, পাতা)।
- ব্যবহারবিধি: চার্ট বা ম্যাপ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিকোণে ঝুলিয়ে স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। বোর্ডের লেখা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
২. শ্রাব্য উপকরণ (Audio Aids):
- উদাহরণ: রেডিও, অডিও রেকর্ডার, সিডি প্লেয়ার।
- ব্যবহারবিধি: সঠিক উচ্চারণ, আবৃত্তি বা গান শোনানোর সময় সাউন্ড সঠিক মাত্রায় রাখতে হবে যেন সবার কাছে পৌঁছায়।
৩. দৃশ্য-শ্রাব্য উপকরণ (Audio-Visual Aids):
- উদাহরণ: প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া, ল্যাপটপ, শিক্ষামূলক ভিডিও।
- ব্যবহারবিধি: পাঠের নির্দিষ্ট অংশের সাথে সংগতি রেখে ছোট ক্লিপ আকারে প্লে করতে হবে এবং দেখার পর আলোচনা করতে হবে।
৪. কায়িক/বাস্তব উপকরণ (Manipulative/Real Tools):
- উদাহরণ: মার্বেল, কাঠি, জ্যামিতি বক্সের মডেল, এবাকাস।
- ব্যবহারবিধি: গণিত ও বিজ্ঞানের ধারণা দিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বা ছোট দলে ভাগ করে নাড়াচাড়া করতে দিতে হবে।
'খ' বিভাগ (সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন)
৯. চাহিদাভিত্তিক সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ করুন।
১. শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয় বা স্থানীয় সমস্যার ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করা।
২. বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও শ্রেণি-পাঠদান দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৩. শিক্ষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা।
৪. আধুনিক ও সুনির্দিষ্ট পাঠদান কৌশল অর্জনে শিক্ষকদের উৎসাহিত করা।
১০. শিখনফলের গুরুত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন।
১. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ: শিক্ষার্থী পাঠ শেষে কী অর্জন করবে তা স্পষ্ট করে।
২. উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন: শিক্ষককে সঠিক পাঠদান পদ্ধতি ও উপকরণ বাছতে সাহায্য করে।
৩. সঠিক মূল্যায়ন: পরীক্ষা বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও উদ্দেশ্যভিত্তিক হয়।
৪. সময়ের অপচয় রোধ: অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এড়িয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোনিবেশ করা যায়।
১১. প্রধান শিক্ষকের একাডেমিক তত্ত্বাবধানের কৌশলসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করুন।
১. শ্রেণি পর্যবেক্ষণ: শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সহকর্মীদের পাঠদান পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করা ও পর্যবেক্ষণ নোট রাখা।
২. পরামর্শ প্রদান ও ফিডব্যাক: গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকের ভালো কাজের প্রশংসা করা ও ভুল শুধরাতে সাহায্য করা।
৩. নমুনা পাঠদান: নিজে পাঠ দান করে শিক্ষকদের আদর্শ পাঠ প্রদর্শনের কৌশল দেখানো।
৪. পাক্ষিক/মাসিক সভা: একাডেমিক সভা ডেকে শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা।
১২. একটি পাঠের কীভাবে মান উন্নয়ন করা যেতে পারে তা উল্লেখ করুন।
১. পূর্বজ্ঞানের সাথে সংযোগ স্থাপন করে নতুন পাঠ শুরু করা।
২. আকর্ষণীয় ও সঠিক শিক্ষোপকরণ ব্যবহার করা।
৩. একক বক্তৃতার পরিবর্তে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি (যেমন: দলগত কাজ) প্রয়োগ করা।
৪. সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রেখে নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ফিডব্যাক নিশ্চিত করা।
১৩. জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।
১. প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা।
২. প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতাবৃদ্ধির নীতি ও মান নির্ধারণ।
৩. ডিপিএড/প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং (PTI)-এর প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা পরিচালনা করা।
৪. প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে গবেষণা পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা।
১৪. শিশু বিকাশের ক্ষেত্র ও শিখন ক্ষেত্রসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।
- শিশু বিকাশের ক্ষেত্র: ১. শারীরিক ও চালকীয় বিকাশ: দৈহিক বৃদ্ধি, হাঁটাচলা ও অঙ্গ সঞ্চালন। ২. জ্ঞানীয় বিকাশ: চিন্তাশক্তি, যুক্তি ও স্মৃতিশক্তির বিকাশ। ৩. সামাজিক ও আবেগিক বিকাশ: অন্যের সাথে মেশা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ।
- শিখন ক্ষেত্রসমূহ: ১. জ্ঞানীয় ক্ষেত্র (Cognitive): জানা, বোঝা ও প্রয়োগ। ২. মনোপেশিজ ক্ষেত্র (Psychomotor): হাত ও শরীরের সমন্বয়ে কাজ করা। ৩. আবেগীয় ক্ষেত্র (Affective): দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি ও মূল্যবোধ।
১৫. প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক বিশ্লেষণ করুন।
১. বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভীতিহীন: সম্পর্ক হবে স্নেহময় ও অমায়িক, যেখানে শিশু ভয় না পেয়ে প্রশ্ন করতে পারবে।
২. পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক: শিক্ষক শিশুর মেধা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।
৩. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা: শিক্ষক শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেবেন এবং শিশু শিক্ষককে শ্রদ্ধা করবে।
১৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী যে সকল প্রশিক্ষণ রয়েছে তা উল্লেখ করুন।
১. ডিপিএড (Diploma in Primary Education): বর্তমানে পরিবর্তিত বিটিপিটি (BTPT) বা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স।
২. বিএড (Bachelor of Education): শিক্ষকতার পেশাগত ডিগ্রি।
৩. এমএড (Master of Education): শিক্ষা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ডিগ্রি।
৪. সিইনএড (Certificate in Education): (পূর্বে প্রচলিত ছিল, বর্তমানে ডিপিএড দ্বারা প্রতিস্থাপিত)।
